১৭ জুলাই রাতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। ছাত্রীদের প্রথম দাবি ছিল, ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দেওয়া ও হলে প্রবেশ এবং বাইরে যাওয়ার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। দ্বিতীয় দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধ সেল ভেঙে নতুন কার্যকরী সেল গঠন করা। বিচারের ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সময়সীমা থাকবে এক মাস। তৃতীয় দাবি ছিল, যৌন নিপীড়নের নিরোধ সেলে চলমান অভিযোগগুলোর বিষয়ে চার কার্যদিবসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া। চতুর্থ দাবি ছিল, চার কর্মদিবসের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে প্রক্টরিয়াল বডিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান বলেন, তাঁদের এ চার দাবি মানা হয়েছে। দুই কর্মদিবসের মধ্যে তাঁরা এর নিষ্পত্তি করতে পেরেছেন।

ছাত্রীদের তৃতীয় দাবি পূরণ প্রসঙ্গে মনিরুল হাসান বলেন, ১৭ জুলাইয়ের আগের তিন ঘটনায় আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে দুই ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এ টি এম রফিকুল হককে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁকে শ্রেণিকক্ষে শব্দচয়ন ঠিক করা ও অশোভন আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

আর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের এক ছাত্রীকে হেনস্তা করার ঘটনায় রসায়ন বিভাগের এক ছাত্রকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড না করার অঙ্গীকারে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় বহিষ্কার হওয়া চারজনই ছাত্রলীগের কর্মী। তাঁরা হলেন আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল হাসান, দর্শন বিভাগের একই বর্ষের ইমন আহাম্মেদ এবং আর এইচ রাজু। তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হকের অনুসারী।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য শিরীণ আখতার বলেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শতভাগ নিরাপদ।

প্রক্টর বললেন ছাত্রীর ভুল তথ্যের কারণে দেরি

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেছেন, ১৭ জুলাই রাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া ছাত্রী প্রক্টরিয়াল বডিকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ওই ছাত্রী সময় ও জায়গার ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। এ কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সময় লেগেছে। অভিযোগে রাত সাড়ে ৯টার কথা বলা হলেও এটি ১০টার পরের ঘটনা ছিল। আর তাঁরা প্রীতিলতা হলের পাশের রাস্তায় ছিলেন না। বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের একটি পুকুরের পাশে ছিলেন। ওই ছাত্রীকে যখন দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি এ কথা স্বীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রক্টর।

১৭ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাঁচ তরুণের হাতে এক ছাত্রী যৌন নিপীড়ন ও মারধরের শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় পাঁচ তরুণ ওই ছাত্রীকে বেঁধে বিবস্ত্র করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ রেখে দুজনকে ছেড়ে দেন ওই তরুণেরা। এ ঘটনার দুই দিন পর গত মঙ্গলবার প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। এক দিন পর গত বুধবার ওই ছাত্রী হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের রাতে হলে ফেরার সময়সীমা বেঁধে দিলে নতুন করে ক্ষোভ দেখা দেয়। ১৭ জুলাই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় শুক্রবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ওই ছাত্রীর মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার (২৩ জুলাই) আটক হন আরেকজন।

গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন