‘কমপ্লিট শাটডাউন’ প্রত্যাহার হলেও বুয়েট ফাঁকা, হচ্ছে না ক্লাস-পরীক্ষা
তিন দফা দাবি আদায়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আজ সোমবারও ফাঁকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাস ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বেশ কয়েকটি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে না। তবে কয়েকটি গবেষণাগারে কিছু শিক্ষার্থীকে কাজ করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। তাই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও নেই।
বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, বুয়েটে সব পরীক্ষা একসঙ্গে হয়। পরীক্ষার সময় সাধারণত ক্লাস হয়। যেহেতু এখন পরীক্ষা স্থগিত আছে, তাই ক্লাসও হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাও আসছেন না।
এর আগে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানান। সন্ধ্যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওয়ালি উল্লাহ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তবে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চলবে।’
তিন দফা দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা; দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারেন, সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা এবং শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যাঁরা সম্পন্ন করবেন, তাঁরাই যেন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
তিন দফা দাবিতে গত ২৬ আগস্ট বিকেল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিলেন।
একপর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় তাঁদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। ব্যবহার করা হয় জলকামান। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।
প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে।