শিশুর হামের টিকা দেওয়া থাকলে কি আবারও দেওয়া যাবে? আবার দিলে সমস্যা হবে না?—রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটকের সামনে বসে থাকা এক অভিভাবক জানতে চাইলেন। পাশে বসা আরেকজন মা উৎকণ্ঠা নিয়ে বললেন, তিনি তাঁর মেয়ের টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলেছেন। এখন তিনি চিন্তিত, মেয়েকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল কি না?
সারা দেশে এখন হামের প্রাদুর্ভাব। সংবাদমাধ্যমে হাম আর হামের উপসর্গ নিয়ে ছোট ছোট শিশুর মৃত্যুর খবর। আক্রান্তের হার উচ্চ। হাসপাতালে গেলে হামে আক্রান্ত শিশুর পাশে উৎকণ্ঠা নিয়ে মা–বাবা–স্বজনদের বসে থাকতে দেখা যায়। আক্রান্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেকেরই বয়স এক বছরের নিচে।
সরকার এ পরিস্থিতিতে হামের টিকা অভিযান শুরু করেছে। টিকার ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ থেকে ৫৯ মাস, অর্থাৎ ৫ বছর বয়স পর্যন্ত। এ অবস্থায় হাম নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি টিকা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসাও রয়েছে অভিভাবকদের।
কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশুদের প্লে গ্রুপে ভর্তি করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্–শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় ৫ বছর বয়সীদের। ফলে স্কুলে পড়া অনেক শিশু টিকার আওতায় রয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে দেশে হাম উপদ্রুত ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ৩ মে দেশব্যাপী এ টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আরেকবার টিকা দিতে কোনো সমস্যা নেই। এই টিকা বুস্টার ডোজ হিসেবে কাজ করবে। সরকার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দিচ্ছে। তবে এর চেয়েও বড় শিশুদের টিকা দেওয়া যাবে।মুশতাক হোসেন, জনস্বাস্থ্যবিদ।
স্কুলগুলোয় হাম নিয়ে কতটা সচেতনতা রয়েছে, অভিভাবকেরা কী ভাবছেন, সেসব জানতে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ছয়টি বিদ্যালয়ে যান এই প্রতিবেদক। কথা বলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। তাঁদের কেউ সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। কেউবা নাতি–নাতনিকে।
বসুন্ধরা এলাকায় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের (শাখা ক্যাম্পাস) ফটকের সামনে কথা হলো শারমিন আক্তার ও শিপ্রা সাধকের সঙ্গে। তাঁদের সন্তান এখানে পড়ে। শারমিন আক্তারের সঙ্গে ছিল তাঁর ৪ বছর বয়সী ছেলে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বললেন, তাঁর মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। দুজন সন্তানেরই হামের টিকা দেওয়া আছে। তিনি কুড়িলে থাকেন। সেখানে ১২ এপ্রিল নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া শুরু হবে। ছেলের বয়স টিকা নেওয়ার সীমায় পড়েছে। কিন্তু তিনি বুঝতে পারছেন না, ছেলেকে কি আবার টিকা দিতে নিয়ে যাবেন? টিকার ডোজ বেশি পড়লে ক্ষতি হবে না তো? ৫ বছরের বেশি বয়সীদেরও কি টিকা দেওয়া যাবে?
একই এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, প্রত্যয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল হার্ডকো ইন্টার স্কুল এবং কুড়িল এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েও একই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
বাংলাদেশ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাড়ে ৩ বছর বয়সে প্লে গ্রুপে ভর্তি করা হয় বলে জানান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনা সুলতানা। বাইরে অপেক্ষমাণ মা ঝুমুর হাসনাত জানান, তাঁর ছেলের বয়স সাড়ে ৪ বছর। নার্সারিতে পড়ে। তিনি এখন বুঝতে পারছেন না যে আরেকবার টিকা দেওয়া ঠিক হবে কি না।
কুড়িল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা হয় জাহানারা নামের এক নারীর সঙ্গে। কুড়িলের বাসিন্দা এই নারী বলেন, তাঁর নাতি (মেয়ের সন্তান) স্কুলটিতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ে আগে এক পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। চাকরি চলে গেছে। তাঁর স্বামী রংমিস্ত্রি। তাঁরা বাড্ডায় থাকেন। জাহানারা নাতিকে নিজের কাছে রেখে এই বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘হামের টিকা একবার দেওয়া থাকলে কি আবার দেওয়া যাবে?’ তিনি জানান, স্কুল থেকে হামের বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি।
কোনো শিশুর জ্বর থাকলে এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে, তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।আবিদ হোসেন মোল্লা, শিশুচিকিৎসক।
আবার কি টিকা দেওয়া যাবে
হামের দুটি টিকা। এমআর-১ (মিজেলস বা হাম/রুবেলা) ও এমআর-২। শিশুদের ৯ মাস আর ১৫ মাস বয়সে এ দুটি টিকা দেওয়া হয়। এ দুটি টিকা দেওয়া থাকলেও শিশুদের আরেকবার টিকা দেওয়া যাবে বলে প্রথম আলোকে জানান জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, আরেকবার টিকা দিতে কোনো সমস্যা নেই। এই টিকা বুস্টার ডোজ হিসেবে কাজ করবে। সরকার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দিচ্ছে। তবে এর চেয়েও বড় শিশুদের টিকা দেওয়া যাবে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে শিপ্রা সাধকের একমাত্র সন্তান। এই মা প্রথম আলোকে বলেন, হাম পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। মেয়ের হামের কয়টি টিকা দেওয়া হয়েছে, তা জানতে কার্ডের খোঁজ করতে গিয়ে দেখেন, সেটি হারিয়ে ফেলেছেন। এখন কীভাবে বুঝবেন, হামের টিকা দেওয়া আছে কি না?
ওই অভিভাবকের এমন জিজ্ঞাসার বিষয়ে জানতে চাইলে মুশতাক হোসেন বলেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, হামের টিকা দেওয়া আছে কি না। তবে এটা জানা জরুরি না। যেহেতু তৃতীয় ডোজ নিলে সমস্যা নেই এবং শিশু থেকে বড় যে কেউ হামের টিকা নিতে পারে, তাই টিকা দেওয়া হয়েছে কি না—তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
মুশতাক হোসেন আরও বলেন, যেহেতু এখন গণটিকা অভিযান চলছে, ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের সরকারিভাবে টিকা পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না। তাই কেউ চাইলে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা কিনে দিতে পারবেন।
যেকোনো বয়সীদের হাম হয়। তবে যত কম বয়স, তত হামের ঝুঁকি বেশি। কারণ, ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম। তারা সহজে কাবু হয়ে যায়—বলেন মুশতাক হোসেন।
ইসমত আরা দামিনী নামে রামপুরা এলাকার এক অভিভাবক জানতে চান, ৭ দিন আগে তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী ডোজ সে কবে নেবে। মুশতাক হোসেন জানান, হামের প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর অন্তত এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এরপর টিকা নেওয়া যাবে। অভিভাবকদের আরও প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে শিশু ৯ মাস বয়সে টিকা নিয়েছে, এখন ১২ মাস বয়স সেই শিশুর ১৫ মাস বয়স হওয়ার আগে এই গণটিকা অভিযানে টিকা দেওয়া যাবে।
হাম যেভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা কী
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের (মা ও শিশু) শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হাম ‘মিজেলস’ নামের এক ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। এটা অতি সংক্রামক। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ, জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা যায়।
মিজেলস ভাইরাসটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। শিশুর শরীরে ভিটামিন এ-এর মজুত মারাত্মকভাবে কমে যায়। হামের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া ও মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে, বলেন আবিদ হোসেন মোল্লা।
এই চিকিৎসক আরও বলেন, হাঁচি–কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই হামের ভাইরাস আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা অনেক সুস্থ শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ—কোনো শিশুর জ্বর থাকলে এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে, তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।
হামে মৃত্যু কমতে আরও ২ মাস!
দেশে হামের এখনকার পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে সরকারের টিকা কর্মসূচি নিয়ে গাফিলতিকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শেষবার ২০২০ সালে হামের গণটিকা অভিযান হয়েছিল। ২০২১ সালে আংশিক টিকা অভিযান হয়েছিল। গণটিকা অভিযানের লক্ষ্য থাকে, কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে সে–ও যেন কভারেজের (টিকা প্রাপ্তির আওতায়) মধ্যে চলে আসে।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ২০২৪ সালে অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মেয়াদ শেষে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে হামের টিকা কিনবে, নাকি সার্ভিস চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে ইউনিসেফের কাছ থেকে কিনবে—অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন গড়িমসিতে টিকা কেনা হয়নি। ফলে হামের টিকা না নেওয়া শিশুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দুটি টিকার কভারেজও লক্ষ্যমাত্রা (৯৫ শতাংশ) অনুযায়ী হয়নি। ফলে শিশুর হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা কমেছে।
অপুষ্টির কারণে সহজে হামে আক্রান্ত হয়েছে ছোট শিশুরা। গত বছর ভিটামিন এ ক্যাপসুল অভিযান হয়নি। এখন জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা দিয়ে ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কেনা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, হাম প্রাণঘাতী নয়। তবে অপুষ্টির কারণে শিশুরা হামে আক্রান্ত হওয়ার পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। নিউমোনিয়ায় অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। এ মৃত্যুকে হামের উপসর্গে মৃত্যু নয়, বরং হামের কারণে মৃত্যু বলতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেরিতে হলেও সরকার জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে গণটিকা অভিযান করছে। এতে করে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে। তবে সেটা কমতে আরও এক মাস সময় লাগতে পারে। হামে মৃত্যুর সংখ্যা কমতে মাস দুয়েক লাগতে পারে।
স্কুল ঘিরে সচেতনতামূলক প্রচার কম
মুশতাক হোসেনের মতে, হাম প্রতিরোধে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো উচিত।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেভাবে অভিভাবকদের বার্তা পাঠিয়ে সচেতন করা হতো, সরকারিভাবে তথ্য দেওয়া হতো, সে রকম কোনো সচেতনতামূলক উদ্যোগ হাম নিয়ে এখন পর্যন্ত নেই।
প্রত্যয় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শামীম আরা সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কিছুদিন আগে বিদ্যালয় খুলেছে। এখনো অভিভাবকদের সে রকম কোনো বার্তা তাঁরা দেননি। তবে বিদ্যালয় থেকে সব সময় বলা হয়ে থাকে, কোনো শিশুর জ্বর–সর্দি হলে যেন বিদ্যালয়ে পাঠানো না হয়।
শামীম আরা সিদ্দিকী মনে করেন, হাম নিয়ে অভিভাবকদের সচেতনতামূলক বার্তা দিতে হলে সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা এলে ভালো হয়। তিনি জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় চার শ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্লে গ্রুপে ভর্তি করা হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছর বয়সীদের। তাঁর বিদ্যালয়ে ৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা দেড় শর মতো।
যা বলছেন অভিভাবকেরা
বাংলাদেশ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটকের বাইরে কেজিতে পড়া সন্তানের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মা জ্যোতি চক্রবর্তী। একই ক্লাসে পড়া আরেক শিক্ষার্থীর নানি রবিজা বেগমও পাশে ছিলেন। তাঁরা জানান, বিদ্যালয় থেকে হাম নিয়ে আলাদা কোনো বার্তা তাঁরা পাননি।
জ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, এক বছরের নিচের শিশুরা হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে হয়তো বিদ্যালয় ঘিরে সে রকমের সচেতনতা কার্যক্রম নেই। তবে অভিভাবকেরা নিজেদের মতো সচেতন রয়েছেন। তিনি বলেন, একসময় তিনি মেডিক্যাল সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন। সন্তানের কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। টিকা নিয়ে তিনি বেশ সচেতন। হামের প্রার্দুভাব ধরা পড়ার পর তিনি টিকা কার্ড পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাঁর সন্তানের হামের দুটি ডোজ দেওয়া রয়েছে।
ইংরেজি মাধ্যমের হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ঢোকার পথেই দেখা হয় দুই অভিভাবক উম্মে হাবিবা ও মুন্নি আক্তারের সঙ্গে। তাঁদের দুজনেরই সন্তান প্লে গ্রুপে পড়ে। স্কুল থেকে লিখিত কোনো নির্দেশনা না পেলেও তাঁরা নিজেরা হাম নিয়ে সচেতন বলে জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন বলেন, হাম নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের জন্য সরকারি কোনো নির্দেশনা পাননি। তাঁরা লিখিতভাবে অভিভাবকদের কোনো বার্তা না পাঠালেও গত শনিবার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন হাম নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে বলেছেন।
ফারজানা নাসরিন জানান, শিক্ষার্থীদের কোভিড টিকা এবং সম্প্রতি এইচপিভি (জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ) ও টাইফয়েড টিকার সময় সরকারের নির্দেশনায় ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্লে গ্রুপ থেকে এ লেভেল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০–এর বেশি।
কুড়াতলী বাজারে মা’হাদু তা’লীমিল বানাত নামের একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ে তাসনিয়া মারিয়ামের মেয়ে। মাদ্রাসা থেকে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বললেন, মাদ্রাসা থেকে তাঁদের হাম বা টিকা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। তাঁর মেয়ের হামের টিকা দেওয়া রয়েছে।
জেলায় টিকা ছড়িয়ে দিতে হবে
কুড়িল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অভিভাবকদের কোনো বার্তা পাঠানো না হলেও ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হাম নিয়ে বলা হচ্ছে। সচেতন করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে মোট ৪৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন প্রাক্–প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গত সোমবার ফোন করে বলা হয়েছে, ১২ এপ্রিল এই বিদ্যালয়ে টিকাদান কর্মসূচির ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
হামের গণটিকা অভিযানকে নিয়মিত করার ওপর জোর দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি হাম পরিস্থিতিকে ‘মহামারি’ উল্লেখ করে বলেন, হামের সেবা জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন হাসপাতালে ছড়িয়ে দিতে হবে। হামের রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। হামের কারণে অন্য রোগে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকেও সর্তক নজর রাখতে হবে।