default-image

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরএন স্পিনিংয়ের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তুলে না ধরায় এক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আতিক খালেদ চৌধুরী নামের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আগামী তিন বছর শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। এ ছাড়া সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই উদ্যোক্তা ও তিনটি ব্রোকারেজ হাউসকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গতকাল বৃহস্পতিবারের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে বিএসইসির মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএসইসি জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে আরএন স্পিনিং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৮৫ কোটি টাকা নগদে প্রদান করেছে।

যাদের মধ্যে কোম্পানির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। অথচ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করা হয়। সিকিউরিটিজ আইনেও নগদ লেনদেনের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। তা সত্ত্বেও আরএন স্পিনিং সর্বনিম্ন ১০ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নগদে দিয়েছে। অথচ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছুই বলেনি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

তাই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে শেয়ারবাজারের নিরীক্ষার কাজে ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান ও পরিচালক হওয়া সত্ত্বেও এম এ খালেক ও রুবায়েত খালেদ শেয়ার বিক্রির নিষিদ্ধ সময়ে কোনো ঘোষণা ছাড়া কোম্পানিটির ৩৩ লাখের বেশি শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দেওয়ার বিধান থাকলেও এ দুই উদ্যোক্তা সেই করও দেননি। এ কারণে বিএসইসি এম এ খালেককে ১০ লাখ টাকা এবং রুবায়েত খালেদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ দুই উদ্যোক্তার বিও (বেনিফিশারি ওনার্স) হিসাব জব্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস মডার্ণ সিকিউরিটিজ ও এমএএইচ সিকিউরিটিজ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য সিলনেট সিকিউরিটিজকে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে মডার্ণ সিকিউরিটিজকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ, সিলনেট সিকিউরিটিজকে ২ লাখ ও এমএএইচ সিকিউরিটিজকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এর মধ্যে মডার্ণ ও সিলনেট সিকিউরিটিজের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে অর্থ ঘাটতির পাশাপাশি ঋণ অযোগ্য শেয়ারের ঋণ প্রদান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারেব সদস্যদের ঋণসুবিধা দিয়ে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। আর এমএএইচ সিকিউরিটিজও গ্রাহকের যথাযথ তথ্য সংরক্ষণসহ নানা বিষয়ে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন