default-image

অর্থনীতির সবচেয়ে ভালো সূচকটি থেকেই খারাপ খবর এল সবার আগে। কমে গেছে প্রবাসী আয়। প্রবাসী–অধ্যুষিত দেশগুলো ভাইরাসে নাস্তানাবুদ, দীর্ঘদিন ধরে চলছে লকডাউন। আর এর প্রভাবেই গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। এই আয় সামনে আরও কমবে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে আয় এসেছে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। গত বছরের মার্চ মাসে এসেছিল ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আয় কমেছে ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতেও ১৪৫ কোটি ডলারের আয় এসেছিল। আর দেশে গত ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৬৯ কোটি ডলার, যা জানুয়ারিতে ৫ কোটি ডলার কমে নেমে যায় ১৬৪ কোটি ডলারে। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে অনেকে দেশে চাকরির চাহিদা কমে যাবে; যা বাংলাদেশের বিদেশি শ্রমবাজারে আরও বড় আঘাত হানবে। ফলে প্রবাসী আয়ে বড় ধাক্কা আসবেই। এটা সামাল দেওয়া যাবে না। আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, করোনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে ধাক্কা আসবে, তার জন্য সরকারের দিক থেকে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ লাগবে। বাজেটে সহায়তা লাগবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও বড় ভূমিকা নিতে হবে।

জানা গেছে, যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রেমিট্যান্স হাউস ও ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশি শ্রমিকেরাও পড়েছেন বিপদের মুখে। দেশের প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান।

>প্রবাসী–অধ্যুষিত দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এতে কমে গেছে প্রবাসী আয়।

এর মধ্যে সৌদি আরব করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ বাড়ছে। সেখানে ওয়ালমার্টসহ বড় বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ কিংবা কাজের সময়সীমা কমানোর ঘোষণা করেছে। মালয়েশিয়া করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে বন্ধ হয়ে গেছে রেমিট্যান্স হাউস ও ব্যাংক। 

বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। সেই অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর ফলে প্রবাসী আয় আসা বেড়ে গিয়েছিল। এখন তাতে বড় আঘাত হানল করোনাভাইরাস।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0