শামসুল আলামিন আরও বলেন, ‘আমরা ড্যাপের বিরোধী নয়। তবে এমন ড্যাপ করবেন না, যাতে আবাসন ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।’ আবাসন খাত, সাধারণ মানুষ ও বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে ড্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান রিহ্যাব সভাপতি।
ড্যাপ নিয়ে কথা বলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনও। তিনি বলেন, রাজউক ড্যাপ করছে। তবে সেটি কয়েক দিন আগেও এফবিসিসিআই জানত না। কারণ, ড্যাপ প্রণয়নে এফবিসিসিআইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বেসরকারি খাতের জন্য কোনো আইন করলে তাদের যুক্ত করতে হবে। না হলে সেই আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশের কৃষিতে ভার্টিক্যাল (খাড়া) সম্প্রসারণ হচ্ছে। ফলে আবাসনের ভবনও ওপরের দিকে নিতে হবে। সাংহাই, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা-ই হচ্ছে। সবকিছু নিজেরা যুক্তি দিয়ে বের করতে হবে তা নয়। আমরা কপি পেস্ট করেও করতে পারি।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নীতি প্রণয়নের সময় সরকারি সংস্থা অনেক সময় বেসরকারি খাতকে ভুলে যায়। সুশীল সমাজ যেমন বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, আমরা ব্যবসায়ীরাও তেমনিভাবে দেশটাকে ভালোবাসি।

অবশ্য রাজউকের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ড্যাপ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আপনাদের ব্যবসায় ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ সরকার করবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পিত নগর দরকার। জলাবদ্ধতা, অগ্নিদুর্ঘটনা ও দূষণে আমরা হতাশ হই। তাই বিধিমালা মেনে যেন ভবন হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এই নগরীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, পরিবেশ রক্ষা করে পরিকল্পিত আবাসন করতে হবে। তবে ড্যাপ নিয়ে ভীতি বা সংশয়ের কোনো কারণ নেই। সরকার এমন কোনো কাজ করবে না যাতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। ড্যাপ নিয়ে অনেক আলাপ–আলোচনা করেছে কমিটি। শিগগিরই বিষয়টির সমাধান হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইন্তেখাবুল হামিদ, সহসভাপতি মোহাম্মদ সোহেল রানা, কামাল মাহমুদ প্রমুখ।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা আবাসন মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলায় একবার প্রবেশে ৫০ টাকার টিকিট লাগবে। আর পাঁচবার প্রবেশের জন্য মাল্টিপল টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেটির মূল্য ১০০ টাকা। আগামী সোমবার রিহ্যাবের এই মেলা শেষ।

শিল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন