৫০তম বিসিএস: আবেদন কমে তিন লাখের নিচে, এক বছরে নিয়োগের চ্যালেঞ্জ

বিসিএস পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরাপ্রথম আলো ফাইল ছবি

দেশের সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ৫০তম বিসিএসে অংশ নিতে এবার আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন প্রার্থী। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) আবেদনের এই চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। গত ৩ ডিসেম্বর আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই তথ্য জানানো হয়। এবারের বিসিএসে দ্রুততম সময়ে নিয়োগের রোডম্যাপ থাকলেও আবেদনকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পিএসসি জানিয়েছে, এই বিসিএস থেকেই ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চায় তারা।

আবেদনকারীর সংখ্যার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

বিগত কয়েকটি বিসিএসের আবেদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৫০তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। ৪৩তম বিসিএসে রেকর্ড ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০টি আবেদন জমা পড়েছিল। এরপর ৪৪তম বিসিএসে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬ জন এবং ৪৫তম বিসিএসে ৩ লাখ ১৮ হাজার প্রার্থী আবেদন করেন। ৪৬তম বিসিএসে আবেদনকারী কিছুটা বেড়ে ৩ লাখ ৩৮ হাজারে দাঁড়ালেও ৪৭তম বিসিএসে অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন। সেই তুলনায় ৫০তম বিসিএসে আবেদন কমেছে প্রায় ৮৩ হাজার ৭৯৬টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিএসসির দ্রুত নিয়োগের কড়াকড়ি এবং নিয়মিত বিসিএস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ফলে কেবল প্রকৃত প্রার্থীরাই এখন আবেদনের দিকে ঝুঁকছেন। এ ছাড়া প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনে পরিবর্তনও আবেদনকারীর সংখ্যা হ্রাসের একটি কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন

রোডম্যাপ ও পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি

পিএসসি বর্তমান কমিশনের অধীনে একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। ৫০তম বিসিএসের কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে তারা একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রিলিমিনারির ফলাফল দ্রুত দিয়ে ৯ এপ্রিল থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরপর ১০ আগস্ট থেকে শুরু হতে পারে মৌখিক পরীক্ষা। কমিশন চায় প্রতিবছর নভেম্বর মাসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে এবং পরবর্তী বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। এই নতুন পদ্ধতির লক্ষ্য হলো দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে মেধাবীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করানো। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা “ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার” লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি আমরা ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সেশনজটমুক্ত বিসিএস নিশ্চিত করে মেধাবীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশসেবায় যুক্ত করা।’

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে
ছবি: চাকরি–বাকরি
আরও পড়ুন

ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের বিন্যাস

৫০তম বিসিএসে এবার মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন ক্যাডার পদের জন্য এবং ৩৯৫ জন নন-ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ পাবেন। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে। প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পাবেন ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন। এ ছাড়া কৃষি ক্যাডারে ১২০ জন ও শিক্ষা ক্যাডারের অধীন সাধারণ কলেজের জন্য ১৩৯ জন প্রভাষক নেওয়া হবে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বেশ কিছু নতুন পদ যুক্ত হয়েছে। নন-ক্যাডার পদের মধ্যে নবম গ্রেডে ৭১টি, দশম গ্রেডে ৪২টি এবং ১১তম গ্রেডে ২৭৮টি পদ রয়েছে। পদের সংখ্যা তুলনামূলক সন্তোষজনক হলেও আবেদনকারীর সংখ্যার হ্রাস প্রতিযোগিতার নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন

নম্বর বণ্টন পদ্ধতিতে পরিবর্তন

এবারের বিসিএসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ২০০ নম্বরের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য—উভয় বিষয়ে আগে ৩৫ নম্বর করে থাকলেও এবার তা কমিয়ে ৩০ নম্বর করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়াবলিতেও ৫ নম্বর কমিয়ে ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন বিষয়ে নম্বর বাড়ানো হয়েছে ৫ করে। এখন থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২৫, গাণিতিক যুক্তিতে ২০ এবং নৈতিকতায় ১৫ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। পিএসসি মনে করছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রার্থীদের বিশ্লেষণাত্মক ও নৈতিক সক্ষমতা আরও ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। ভূগোল, সাধারণ বিজ্ঞান ও মানসিক দক্ষতার মতো অন্যান্য বিষয়গুলোর নম্বর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন