৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি দ্রুত ফল প্রকাশের ধারা অব্যাহত, লিখিত এপ্রিলে
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষার মাত্র ১১ দিনের মাথায় প্রকাশিত এই ফলে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থী। উত্তীর্ণ এই পরীক্ষার্থীরা এখন ক্যাডার হওয়ার পরের ধাপ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পিএসসি জানিয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ধারাবাহিকভাবে দ্রুত ফল প্রকাশ
বিগত কয়েকটি বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়সীমা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কমিশন আগের তুলনায় অনেক কম সময় নিচ্ছে। ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২৬ দিন। ৪৫তম বিসিএসে সেই সময় কমে ১৭ দিনে দাঁড়ায়। এরপর ৪৬তম বিসিএসে ১৩ দিন এবং ৪৭তম বিসিএসে ১০ দিনে ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার পর ১১তম দিনে ফল প্রকাশ করা হলো। মূলত ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ রোডম্যাপ অনুসরণ করার ফলেই ফল প্রকাশের এই গতি বজায় থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৫০ বিসিএস প্রিলিমিনারি: পাসের হার কিছুটা বেশি
এবারের ৫০তম বিসিএসে পাসের সংখ্যা গত কয়েকটি বিসিএসের তুলনায় কিছুটা বেশি। ৫০তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ হাজার ৩৮৫ জন। এর আগে ৪৭তম বিসিএসে আবেদনকারী ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১০ হাজার ৬৪৪ জন। ৪৬তম বিসিএসে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০৮ প্রার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৬৩৮। অন্যদিকে ৪৫তম বিসিএসে ৩ লাখ ৪৬ হাজার প্রার্থীর মধ্যে ১২ হাজার ৭৮৯ জন প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ৪৪তম বিসিএসে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর বিপরীতে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৭০৮ জন। এবারের বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা (২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন) গত কয়েকবারের তুলনায় কিছুটা কম হলেও উত্তীর্ণের হার পূর্ববর্তী দুই বিসিএসের তুলনায় বেশি।
৫০তম বিসিএসে পদের বিন্যাস
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৫০তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৫০। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন এবং শিক্ষা ক্যাডারেও বিপুলসংখ্যক পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখন এই পদগুলোর বিপরীতে লিখিত পরীক্ষায় লড়বেন।
দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ প্রসঙ্গে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম প্রথম আলোকে বলেন, কমিশন বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে গতি আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল দ্রুততম সময়ে দেওয়া হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাও ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়ার ফলে কয়েক হাজার যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী দ্রুততম সময়ে দেশের প্রশাসনিক ও সেবামূলক কর্মজীবনে প্রবেশ করে রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশের পর কমিশন এখন লিখিত পরীক্ষার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৯ এপ্রিল। অর্থাৎ উত্তীর্ণ প্রার্থীরা প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় পাচ্ছেন মাত্র দুই মাস। প্রিলিমিনারি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটি তারই অংশ। এর মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার একটি প্রক্রিয়া চলমান। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা এখন পিএসসির ওয়েবসাইট থেকে তাঁদের বিস্তারিত ফল ও পরবর্তী নির্দেশনাগুলো সংগ্রহ করতে পারছেন।