মেটা ও মাইক্রোসফটে ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাই: এআই কি তবে কর্মসংস্থানে বড় সংকট?
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের মিছিল থামছেই না। বড় দুই টেক জায়ান্ট মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) ও মাইক্রোসফট ২৩ এপ্রিল মোট ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। অ্যামাজন গত বছর বড় ছাঁটাইয়ের পর এবার মেটা ও মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তিবিশ্বে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে কোম্পানিগুলো এখন মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে ফেলছে।
৩ মাসেই ৯২ হাজার চাকরি উধাও
চাকরি ছাঁটাইয়ের তথ্য রাখা ওয়েবসাইট লে-অফস ডট এফওয়াইআইয়ের (Layoffs.fyi) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৯২ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তিকর্মী কাজ হারিয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে ধরলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখে। নেতৃত্ব বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি টাগলের মতে, এটি কেবল সাময়িক কোনো পরিবর্তন নয়; বরং কাজের ধরন বদলে যাওয়ার একটি স্থায়ী রূপান্তর। অর্থাৎ এআই এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, এটি বর্তমানের কর্মসংস্থানকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
খরচ বাঁচাতে প্রযুক্তিতে ভরসা, কাজ হারাচ্ছে মানুষ
মজার বিষয় হলো, মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং গুগলের মতো কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামো তৈরিতে বছরে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। কিন্তু সেই খরচ সামলাতে তারা সাধারণ কর্মী ছাঁটাই করে ‘দক্ষতা’ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। মেটা জানিয়েছে, তারা তাদের মোট কর্মী বাহিনীর ১০ শতাংশ কমিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে ৫২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাইক্রোসফট তাদের কর্মীদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সুযোগ দিচ্ছে, যার ফলে প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ জন কাজ হারাতে পারেন।
প্রযুক্তি খাতের বাইরেও ছাঁটাইয়ের আঁচ
ছাঁটাইয়ের এই ঢেউ কেবল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড নাইকি তাদের প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রায় ১ হজার ৪০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া স্ন্যাপ তাদের ১৬ শতাংশ এবং সেলসফোর্স ৪ হাজার কর্মীকে বিদায় করে দিয়েছে। অনেক কোম্পানি এখন কম মানুষ দিয়ে বেশি কাজ করার কৌশল নিয়েছে। আগে যেখানে একটি কোম্পানির ৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে ২৫০ জন কর্মী লাগত, এআইয়ের কল্যাণে এখন মাত্র ৫০ জন দিয়েই তা সম্ভব হচ্ছে।
বেতন ও আত্মবিশ্বাসে ভাটা
চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট গ্লাসডোর–এর তথ্যমতে, প্রযুক্তিকর্মীদের আত্মবিশ্বাস গত এক বছরে বড় আকারে কমেছে। বাজারে অস্থিরতা থাকায় অনেক কর্মী বর্তমান চাকরি ছাড়তেও ভয় পাচ্ছেন। ফলে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নেওয়ার বদলে বর্তমান কর্মীদের ওপরই পারফরম্যান্সের চাপ বাড়াচ্ছে। এআই ইঞ্জিনিয়ারদের মতো বিশেষ কিছু পদের চাহিদা থাকলেও সাধারণ আইটি কর্মীদের বেতন এখন স্থবির হয়ে আছে।
অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাও-এর মতে, এটি একটি অদ্ভুত প্রযুক্তিগত বিপ্লব। এখানে প্রযুক্তি যেমন এগোচ্ছে, তেমনি এই খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। এআই হয়তো নতুন কাজ তৈরি করবে, কিন্তু সেই কাজের ধরন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ফলে বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিকর্মীদের জন্য এখন টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সিএনবিসি অবলম্বনে