৫০তম বিসিএস লিখিতর ফল ঘোষিত সময়ের মধ্যেই, সম্ভব হলে আগেই, বলছে পিএসসি
এক বছরের মধ্যে ৫০তম বিসিএসের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপ হিসেবে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
পিএসসির একটি সূত্র জানায়, ৫০তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের একটি সম্ভাব্য ক্যালেন্ডার আগে থেকেই নির্ধারণ করা রয়েছে। ঘোষিত সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চলতি মাসের ৩০ তারিখ (৩০ জুলাই ২০২৬) ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত আছে। তবে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, কমিশন চেষ্টা করছে নির্ধারিত তারিখের আগেই এই ফলাফল প্রকাশ করতে। পিএসসির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দ্রুত ফল প্রকাশ: সুফল পাচ্ছেন না চাকরিপ্রার্থীরা—
পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের এই গতি সচল থাকলেও এর প্রকৃত সুফল পাচ্ছেন না চাকরিপ্রার্থীরা। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পুলিশ ও গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে চাকরিপ্রার্থীরা সময়মতো চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এর মাঝেই ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এখন আবার ৫০তম বিসিএসের কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ফলে একের পর এক বিসিএসের ফলাফল দ্রুত এলেও ভেরিফিকেশনের জটে চূড়ান্ত নিয়োগ আটকে থাকায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
৫০তম বিসিএসে ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ১ হাজার ৭৫৫ জন। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, পদ ৬৫০টি। প্রশাসনে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন নিয়োগ পাবেন।
উল্লেখ্য, ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ক্যাডার পদ রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫টি। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে পদের সংখ্যা ৬৫০টি। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন নিয়োগ পাবেন।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, শুধু পিএসসির পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত দিলেই হবে না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াও সমান্তরালভাবে দ্রুত শেষ করতে হবে। তা না হলে দ্রুত ফল প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।