এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা ২য় পত্রের দুটি অনুচ্ছেদ পড়ে নাও
বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ লিখন
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, অনুচ্ছেদ লিখন থাকবে দুটি। এ থেকে যেকোনো একটির উত্তর দিতে হবে। নম্বর থাকবে ১০।
∎ জাতীয় পতাকা
জাতীয় পতাকা কোনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পৃথিবীর প্রতিটি স্বাধীন দেশেরই একটি নির্দিষ্ট নকশার পতাকা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেরও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পতাকা। সাধারণত একখণ্ড কাপড় দিয়ে জাতীয় পতাকা তৈরি করা হয়। এর আকার সুনির্দিষ্ট। যে দণ্ডের সঙ্গে পতাকাটি বেঁধে টাঙানো হয়, সেই দণ্ডকে বলে পতাকাদণ্ড। জাতীয় পতাকায় স্থান পেয়েছে ঘন সবুজ পটভূমির মাঝে রক্তিম সূর্যের মতো একটি লাল বৃত্ত। পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। অর্থাৎ দৈর্ঘ্য যদি ১০ ফুট হয়, তবে প্রস্থ হবে ৬ ফুট। ৫ ফুট: ৩ ফুট। লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ পতাকার দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং এর অবস্থান নির্ধারিত হয় সুনির্দিষ্ট রেখার ছেদবিন্দুতে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ইতিহাসও গৌরবান্বিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের প্রাক্কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র শিবনারায়ণ দাস প্রথম জাতীয় পতাকার নকশা করেন। সেই নকশায় সবুজ পটভূমির মাঝে লাল বৃত্তের ভেতরে আঁকা হয়েছিল বাংলাদেশের মানচিত্র। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকার বটতলায় ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো এ পতাকা উত্তোলন করেন। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকার বর্তমান ও চূড়ান্ত রূপ অনুমোদিত হয়। পতাকার সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতির প্রতীক; আর লাল বৃত্ত স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তধারা, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ব্যবহারে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম। সরকারি অফিস–আদালত, স্কুল–কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস ও সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্যান্য দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয় সর্বত্র। আবার ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস বা জাতীয় শোক দিবসে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, যা জাতির বেদনা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। জাতির গর্বের এই পতাকার মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের অঙ্গীকার থাকা উচিত ‘প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও আমরা জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা করব।’
∎ কম্পিউটার
আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিস্ময়কর সব আবিষ্কারের মধ্যে কম্পিউটার এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যা মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ইংরেজি Computer শব্দটির উত্পত্তি গ্রিক শব্দ compute থেকে, যার অর্থ হলো ‘হিসাব’ বা ‘গণনা করা’। প্রাথমিকভাবে কম্পিউটার কেবল জটিল অঙ্ক ও হিসাব করার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশ, অসংখ্য বিজ্ঞানীর গবেষণা ও সাধনার ফলে আজকের কম্পিউটার হয়ে উঠেছে মানবজীবনের নিত্যসঙ্গী ও আধুনিক সভ্যতার চালিকা শক্তি। কম্পিউটারের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথম দিকে এটি ছিল বৃহদাকার ও সীমিত কাজের যন্ত্র। কালের পরিক্রমায় এটি আকারে ছোট, গতি ও ক্ষমতায় বিশাল উন্নত হয়ে এখন মানুষের হাতের মুঠোয় স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে অফিস–আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার, ব্যবসা–বাণিজ্য, চিকিত্সা, যোগাযোগ, বিনোদন—এসব ক্ষেত্রেই কম্পিউটার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনার জন্য কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করেন। ডাক্তাররা রোগ নির্ণয়ে, প্রকৌশলীরা নকশা তৈরিতে, ব্যবসায়ীরা হিসাবরক্ষণে, এমনকি শিল্পী–সাহিত্যিকেরাও সৃষ্টিশীল কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন। কম্পিউটারের গঠনগত দিক থেকে দুটি প্রধান অংশ রয়েছে—হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। হার্ডওয়্যার বলতে বোঝায় যন্ত্রাংশগুলোকে, যেমন কি-বোর্ড, মাউস, র৵াম, মাদারবোর্ড, মনিটর, প্রিন্টার ইত্যাদি। অন্যদিকে সফটওয়্যার হলো সেই প্রোগ্রামগুলো, যেগুলো হার্ডওয়্যারকে চালিত করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করায়। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়েই কম্পিউটার পূর্ণতা লাভ করে এবং অসংখ্য কাজ সম্পাদনে সক্ষম হয়। বাংলাদেশে কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রসার ব্যাপকভাবে ঘটছে। সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-ব্যবসা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক যুগে কম্পিউটার মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এর যথাযথ ও সঠিক ব্যবহার আমাদের জীবনকে আরও সহজ, সুন্দর ও গতিশীল করে তুলতে পারে। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কম্পিউটার মানব কল্যাণের এক অনন্য সঙ্গী।
ফারুক আহমেদ আবির, প্রভাষক
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা