এইচএসসি পরীক্ষায় অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর পেতে হলে
অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রের বিষয়বস্তুগুলো অনেকটা বর্ণনানির্ভর। তারপরও কিছু অধ্যায় রয়েছে, যেখানে চিত্র, সূচি ইত্যাদি ব্যবহার করে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব। প্রশ্ন বুঝে এর চাহিদা অনুযায়ী গঠনমূলক উত্তর লেখা এবং শুদ্ধ বানানে পরিচ্ছন্ন ও ধারাবাহিকভাবে উত্তর লেখার চেষ্টা করবে।
অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রেও পুনর্বিন্যাস করা সিলেবাস অনুযায়ী সর্বমোট ছয়টি অধ্যায় রয়েছে। যেখান থেকে ৭০ নম্বরের সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এবং ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে, সময় ৩০ মিনিট। পুনর্বিন্যাস করা সিলেবাসের ছয়টি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পাশাপাশি ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল দেওয়া হলো।
দ্বিতীয় অধ্যায়
বাংলাদেশের কৃষি অধ্যায়ের কৃষির কাঠামো, কৃষির উপখাতসমূহ, কৃষি জোত ও কৃষি খামার, কৃষি খামারের প্রকারভেদ (জীবন নির্বাহী বা আত্ম তোষণকারী খামার, বাণিজ্যিক খামার), কৃষিপণ্যের বিপণন, কৃষি উন্নয়নের কর্মসূচিসমূহ শস্য বহুমুখীকরণ অংশ ভালোভাবে পড়বে।
তৃতীয় অধ্যায়
বাংলাদেশের শিল্প অধ্যায়ের শিল্প কাঠামো, বাংলাদেশে শিল্পের শ্রেণিবিন্যাস (কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প, বৃহৎ শিল্প, হাইটেক শিল্প, অগ্রাধিকার শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প—পাট, বস্ত্র, চা, চামড়া, তৈরি পোশাক), আমদানি বিকল্প শিল্প শিল্পোন্নয়নে সরকারি নীতি অংশ ভালোভাবে পড়বে।
দরকারি তথ্য: বাংলাদেশের কৃষি ও বাংলাদেশের শিল্প, এ দুটি অধ্যায় বর্ণনানির্ভর হলেও এতে বিভিন্ন সংখ্যাসূচক তথ্যের আলোকে প্রাসঙ্গিক দণ্ডচিত্র বা আয়তলেখ এঁকে উত্তরের মান বৃদ্ধি করতে পারো।
চতুর্থ অধ্যায়
জনসংখ্যা, মানবসম্পদ ও আত্মকর্মসংস্থান অধ্যায়ের জনসংখ্যা পরিমাপ ও ঘনত্ব, জনসংখ্যার নির্ধারকসমূহ (জন্মহার, মৃত্যুহার ও নিট অভিবাসন), জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব, জনসংখ্যা তত্ত্ব (ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব ও কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব), মানবসম্পদ উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থানের ধারণা অংশ ভালোভাবে পড়বে।
দরকারি তথ্য: এ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব দুটি হলো, ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব এবং কাম্য জনসংখ্যার তত্ত্ব। এ ধরনের প্রশ্নোত্তরে চিত্রের ব্যবহার করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সূচক নির্ণয়ের বেশ কতগুলো সূত্র রয়েছে, তা আয়ত্ত করে নেবে।
সপ্তম অধ্যায়
মুদ্রাস্ফীতি অধ্যায়ের মুদ্রাস্ফীতির ধারণা, মুদ্রাস্ফীতির পরিমাপ, মুদ্রাস্ফীতির কারণ ও প্রভাব, বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতির কারণ ও এর প্রতিকারের উপায় অংশ ভালোভাবে পড়বে।
দরকারি তথ্য: মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুশীলন করবে। মুদ্রাস্ফীতির বিভিন্ন প্রকারভেদ, বিশেষ করে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি এবং খরচ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতির ধারণা দুটি চিত্রের সাহায্যে অনুশীলন করবে। উদাহরণ দিয়ে উত্তর লেখার চেষ্টা করবে।
অষ্টম অধ্যায়
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অধ্যায়ের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবর্তনের ধারা, বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্য, রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায়, বিশ্বায়নের ধারণা, বৈদেশিক বাণিজ্য বনাম বৈদেশিক সাহায্য অংশ ভালোভাবে পড়বে।
নবম অধ্যায়
সরকারি অর্থব্যবস্থা অধ্যায়ের সরকারের আয় ও ব্যয়, সরকারের ব্যয়ের উদ্দেশ্য, সরকারি ব্যয়ের অর্থসংস্থান, সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত, সরকারি ঋণের উদ্দেশ্য ও উত্সসমূহ অংশ ভালোভাবে পড়বে।
দরকারি তথ্য: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থব্যবস্থা, এ দুটি অধ্যায়ের বিষয়গুলো মূলত বর্ণনানির্ভর। সুতরাং উল্লিখিত বিষয়গুলো এমনভাবে আয়ত্ত করবে, যেন নিজের ভাষায় গুছিয়ে লিখতে পারো। তবে প্রশ্নপত্রে কোনো সংখ্যাসূচক তথ্য দিলে তা থেকে প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী দণ্ডচিত্র বা আয়তলেখের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করবে।
জেনে রাখার তথ্য
তোমরা জানো যে ১০ নম্বরের একটি সৃজনশীল প্রশ্নে (ক) জ্ঞান, (খ) অনুধাবন, (গ) প্রয়োগ ও (ঘ) উচ্চতার দক্ষতা, এ চারটি স্তরের প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এ জন্য প্রতিটি স্তরের আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। অধ্যায়ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিলেই সব কটি স্তরের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে এবং সেই সঙ্গে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও তোমার পক্ষে সম্ভব হবে। সুতরাং ভালো ফল অর্জন করতে অধ্যায়ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প হতে পারে না। অধ্যায়গুলোর ওপর প্রস্তুতি নিয়ে বিগত বছরের বোর্ডের কিছু প্রশ্ন অনুশীলন করতে পারো। এতে পরীক্ষায় তোমার প্রশ্ন বুঝতে সুবিধা হবে।
লেখক: শেখ আবু সাঈদ আবদুল্লাহ্, প্রভাষক, ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লা।


