এসএসসি ২০২৬। বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ লেখায় নম্বর পাবে ১০

বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ লেখো

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, বাংলা দ্বিতীয় পত্রে একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ লিখতে হবে। নম্বর থাকবে ১০। নিচের অনুচ্ছেদগুলো দেখে নাও।

জাতীয় পতাকা

জাতীয় পতাকা এটি একটি দেশের গৌরব, স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের জীবন্ত প্রতীক। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই তার নিজস্ব জাতীয় পতাকা রয়েছে, যা সেই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। সাধারণত জাতীয় পতাকা আয়তাকার হয়ে থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পতাকা-দণ্ডের সঙ্গে বেঁধে উত্তোলন করা হয়। যে দণ্ডের সঙ্গে পতাকা টানানো হয়, তাকে বলা হয় পতাকা-দণ্ড। আমাদের দেশে সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা শোভা পায়। আন্তর্জাতিক খেলাধুলার সময় সমর্থকেরা নিজেদের দেশের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে থাকে। জাতীয় শোক দিবস বা সরকারি ঘোষণায় শোক পালনের সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এ সময় পতাকা-দণ্ডের ওপরের দিকে পতাকার প্রস্থের সমান অংশ ফাঁকা রেখে পতাকা টানানো হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। এর পাঁচটি নির্ধারিত মাপ রয়েছে, যেমন—

১০ ফুট × ৬ ফুট, ৫ ফুট × ৩ ফুট, ২.৫ ফুট

× ১.৫ ফুট, ১৫ ইঞ্চি × ৯ ইঞ্চি ও ১০ ইঞ্চি

× ৬ ইঞ্চি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ রঙের ওপর রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত নিয়ে গঠিত। সবুজ রং আমাদের দেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, আর লাল বৃত্তটি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের রক্ত ও ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান মানে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রমাণ করা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা মানে জাতির আত্মমর্যাদা রক্ষা করা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

সারা বিশ্বে এখন একুশে ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে, যার পেছনে আছে আমাদের গৌরব, ত্যাগ ও রক্তস্নাত ইতিহাস। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার ন্যায্য দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচার গুলি চালায়। সেই নির্মম গুলিতে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেই থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবের ভিত্তিতে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ফলে ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে আমাদের ভাষা আন্দোলন পায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং একুশে ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে ভাষার অধিকার রক্ষার বৈশ্বিক প্রতীক। তাই প্রতিবছর বিশ্বের নানা দেশে একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের মধ্য দিয়ে মানুষ তাদের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশের সুযোগ পায়। বাংলাদেশের জাতীয় ‘শহিদ দিবস’ আজ সারা বিশ্বের ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের মাতৃভাষাকে দিয়েছে গৌরবময় আন্তর্জাতিক পরিচিতি।

আরও পড়ুন

সুন্দরবন

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি সুন্দরবন নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে অনন্য। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় চার হাজার বর্গকিলোমিটার, যার দুই-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশে এবং অবশিষ্ট অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এ বন বিস্তৃত। সুন্দরবনে প্রায় চার শ নদী ও খাল এবং দুই শর মতো দ্বীপ রয়েছে, যা বনটিকে জলজ ও স্থলজ জীবনের উপযোগী করে তুলেছে। এখানে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা, বাইন, ধুন্দুল, পশুরসহ নানা প্রজাতির লবণসহিষ্ণু গাছ জন্মে। এই বনে বেঙ্গল টাইগার ছাড়া চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বন্য শূকর, বানর, বনবিড়াল, শজারু এবং অসংখ্য সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী বাস করে। বিচিত্র প্রজাতির পাখির কলরবে সুন্দরবন সারা বছর মুখর থাকে। প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার হিসেবে সুন্দরবন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—এখান থেকে কাঠ, মধু, মোম ও মৎস্য সম্পদ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি কমিয়ে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে সুন্দরবন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

  • জাহেদ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক
    বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা