default-image

ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও সংবিধান সংশোধন করে উত্তরাখন্ডের কালাপানি, লিপুলেখ ও লিমপিয়াধুরা অঞ্চলকে নিজেদের মানচিত্রে সংযোজন আগেই করেছে নেপাল। সেই নতুন মানচিত্র সংবলিত পাঠ্যবইও এবার প্রকাশ করল নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে নতুন মানচিত্রের কপির ইংরেজি সংস্করণ জাতিসংঘ ও গুগলের কাছে পাঠিয়ে দেশটি।


ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্কে তিক্ততা দিনকে দিন বাড়ছে। সেই তিক্ততা আসলে সহজে মিটছে না বোধ হয়। বই প্রকাশ যেন তারই ইঙ্গিত।


এনডিটিভি ও কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী গিরিরাজ মণি পোখারেল জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে নতুন মানচিত্র সংযোজন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নিজেই ভূমিকা লিখেছেন। আর সেখানে কালাপানি, লিপুলেখ গিরিপথ এবং লিমপিয়াধুরা নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বইটি নেপালের ক্লাস নাইন ও  দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ানো হবে।


নতুন বইয়ে নেপালের মোট ভূখণ্ড উল্লেখ করা হয় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪১ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে শুধু কালাপানি এলাকা ধরা হয়েছে ৪৬০ বর্গকিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নতুন মানচিত্র সংযোজিত করে নতুন ১ ও ২ রুপীর কয়েনও তৈরি করছে নেপাল। কিছুদিনের মধ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সেই কয়েন বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। নতুন মানচিত্রসহ নতুন কয়েন নেপালের মন্ত্রিসভা আগেই অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে আরও দুটি ভারতীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করতে শুরু করেছে কাঠমান্ডু। উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল ও দেরাদুনকেও নেপালের ভূখণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে।


কীভাবে শুরু বিবাদের
মানস সরোবর পর্যন্ত তীর্থযাত্রা আরও সুগম করতে উত্তরাখন্ড থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার লম্বা সড়ক তৈরি করেছে ভারত। এ পথের উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ পথ তৈরি হলে সময় বাঁচবে। যেটা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি নেপাল। এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশটি। ওই সড়ক দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত বলে আগেই সমালোচনা করেছিল কাঠমান্ডু। এর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ভারত-নেপাল সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছিল নেপাল। এরপর থেকে নেপাল-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ খানিকটা অবনতি হয়েছে। তার পর এরই মধ্য নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। আর এরপর পিথোগড় জেলা বরাবর নেপাল সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছিল কাঠমান্ডু, যাতে উত্তেজনা বাড়ে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নেপাল ও ভারতের বিতর্কের সূত্রপাত গত মে মাস থেকে। উত্তরাখণ্ডের ধরচুলা থেকে চীন সীমান্তঘেঁষা লিপুলেখ পর্যন্ত ভারত রাস্তা তৈরি করছিল। এ নিয়ে প্রথম আপত্তি জানায় কাঠমান্ডু। তার পরই ওই ভূখণ্ড তাদের বলে দাবি করে ক্ষমতাসীন সরকার। নয়াদিল্লি জানায়, ওই অঞ্চল ভারতের অন্তর্ভুক্ত। এর পরই দেশের মানচিত্র বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি ওই এলাকার সীমান্ত বরাবর ৭টি নতুন সীমান্তচৌকি তৈরি করে নেপাল। এরপর নেপালের সংসদে মানচিত্র সংশোধনী বিলে উত্তরাখণ্ডের কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার সঙ্গে লিপুলেখ গিরিপথও নেপালের ভূখণ্ড বলে দাবি করা হয়। পার্লামেন্টে পাসও হয়ে যায় সেই মানচিত্র সংশোধনী বিল। এরপরই বইয়ে স্থান পেয়ে গেল মানচিত্র।


নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালির দাবি করে বলেছিলেন, নেপালের জমিতে সড়ক তৈরি করে ভারত দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করছে। ১৮১৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের রাজার মধ্যে সই হয় সুগাউলি চুক্তি। সেখানে বলা আছে, মহাকালী নদীর পূর্বের অংশ নেপালের। ১৯৮৮ সালের বৈঠকেও ভারত স্থায়ী সীমান্ত মেনে চলতে রাজি হয়েছিল।
এদিকে নেপালের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে ভারত। সড়কটি ভারতের জমিতে তৈরি বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। নেপালের মানচিত্র পরিবর্তনকে চীনের চাপ হিসেবে দেখছে ভারতের কূটনৈতিক মহল।


বিশ্লেষকদের মতে, নেপাল সরকারের গুরুত্ব বেড়েছে চীন-সমর্থিত নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান পুষ্পকমল দহাল প্রচণ্ডের। বেজিংয়ের নির্দেশে তিনিই ভারতের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন।


১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধে ভারতের পরাজয়ের পর থেকে চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যের রাজনীতি শুরু হয় নেপালের। নেপাল এমনিতেই ভূমি সীমান্তবেষ্টিত দেশ। তার একদিকে কিছুটা তিব্বত, অন্যদিকে সীমান্তের বেশির ভাগ অংশই ভারতের সঙ্গে।

মন্তব্য পড়ুন 0