অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এবার এজেন্ট কমিশন বন্ধ
কিছু দিন ধরে অস্ট্রেলিয়া অনেকে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন নিয়ম চালু করছে। যেমন সম্প্রতি বাংলাদেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরি ‘এভিডেন্স লেভেল-৩’-এ রেখে তালিকা প্রকাশ করেছে। এর ফলে এসব দেশের শিক্ষার্থী ভিসা (স্টুডেন্ট ভিসা) প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। ‘ইমার্জিং ইন্টেগ্রিটি ইস্যু’ (উদীয়মান সততাসংকট) বা জালিয়াতি ও অনিয়মের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সর্বনিম্ন ঝুঁকি থেকে সরিয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এই চার দেশকে।
এবার চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এজেন্ট কমিশন বন্ধ হচ্ছে। অর্থাৎ মূল কোর্স সম্পূর্ণ না করে অন্য কোর্স বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করলে, শিক্ষা প্রদানকারীরা এজেন্টদের কমিশন দিতে পারবে না। সরকারের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে সততা বজায় রাখা।
নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য কী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় বা অসৎ আচরণ কমানো। কিছু এজেন্ট শিক্ষার্থীকে বারবার কোর্স বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলাতে সাহায্য করে, তা কমানো।
নতুন নীতির উদ্দেশ্য হলো—
শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে সততা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।
এজেন্টদের জন্য নতুন বিধি কী
পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী, এজেন্টরা অনশোর শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফারের জন্য স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিশন পাবেন না। তবে শিক্ষার্থীরা সরাসরি পরামর্শ বা স্টাডি প্ল্যানিং সার্ভিসের জন্য এজেন্টদের কাছে অর্থ প্রদান করতে পারবে।
কোর্স হপিং বন্ধের চেষ্টা
সংশোধিত আইনের মাধ্যমে ‘কোর্স হপিং’ বন্ধ করা হচ্ছে। এটি হলো সেই প্রক্রিয়া, যেখানে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যে নিম্নস্তরের কোর্স বা ভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে এজেন্ট ও কিছু প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করত। দেশটির শিক্ষা দপ্তর বলেছে, ‘নিয়মটি অপ্রয়োজনীয় বা অবাস্তব স্থানান্তর সহজ করার জন্য অসাধু এজেন্টদের প্রণোদনা দূর করবে এবং শিক্ষার্থীর স্বার্থে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠান ও এজেন্টদের উৎসাহিত করবে।’
৩১ মার্চ ২০২৬-এর আগে যদি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে, তাহলে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সমন্বয় করার সময় দিচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষার খাতের সুনাম বজায় রাখবে।