বিদেশে পড়াশোনার জন্য স্যাট কেন গুরুত্বপূর্ণ, জেনে নিন বিস্তারিত
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিপর্বে স্যাট (Scholastic Assessment Test-SAT) গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। স্যাট পরীক্ষা অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত। কারণ, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেকেই স্যাট স্কোরকে স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। স্যাট পরীক্ষা যাচাই করে যে এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণের জন্য কতটুকু তৈরি হলো।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহীদের জন্য স্যাট গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ার প্রস্তুতি যাচাই করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে স্যাট স্কোর জমা দিতে হয়। এ ছাড়া শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার জন্য স্যাট পরীক্ষার স্কোরও কাজে দেয়। বিদেশে স্নাতক পড়তে যাওয়ার জন্য স্যাট দিতে হয়। কেবল ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে বলা থাকলেই তখন স্যাট স্কোর জমা দিতে হবে। স্কলারশিপ পাওয়ার জন্যও স্যাট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁরা বিদেশে স্নাতক পড়তে চান, তাঁদের এ পরীক্ষা দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে এসএসসির পর বা উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে থাকা অবস্থাতেই স্যাট দিতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী যতবার ইচ্ছা ততবার এ পরীক্ষা দিতে পারেন। তবে স্যাট কিন্তু খরুচে একটা পরীক্ষা। তাই প্রথমবারই ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়াই ভালো। সায়েন্স, কমার্স ও আর্টসের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্যাট পরীক্ষা দিতে পারবেন। যতবার ইচ্ছা এ পরীক্ষা দেওয়া যায়।
স্যাট কী?
স্যাট হলো একটি নিয়মভিত্তিক পরীক্ষা, যা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্যান্য দেশে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি প্রার্থীদের যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা পড়াশোনা, লেখন ও গণিতের দক্ষতা যাচাই করে এবং কলেজে পড়ার প্রস্তুতি নির্ধারণ করে।
কীভাবে পরীক্ষা
স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রথমেই স্যাটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। স্যাটের আবেদন ফি ডলারে পরিশোধ করতে হয়। তাই স্যাটের ওয়েবসাইট থেকে সঠিক তথ্য জেনে নিতে হবে। পরীক্ষা দেওয়ার কমপক্ষে এক মাস আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা জরুরি। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন হবে পাসপোর্ট এবং পিপি ছবির ডিজিটাল কপি। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে পাসপোর্ট ছাড়া অন্য কোনো ধরনের শনাক্তকারী পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়।
রেজিস্ট্রেশন করার পর ওয়েবসাইট থেকে যে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে তাতে পরীক্ষার দিন, সময় ও কেন্দ্র উল্লেখ করা থাকবে। পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় আরও কী কী নিয়ে যেতে হবে তা-ও বলা থাকে প্রবেশপত্রে।
পরীক্ষার কাঠামো
স্যাট মোট ১,৬০০ নম্বরের মধ্যে মূল্যায়িত হয়। এর দুটি প্রধান অংশ রয়েছে—
১. Evidence-Based Reading & Writing (ইংরেজি)–৫৪টি প্রশ্ন, ৬৪ মিনিটের মধ্যে সমাধান করতে হবে। এতে রয়েছে বহু-বিকল্প প্রশ্ন, শব্দভান্ডার, বিরামচিহ্ন এবং বাক্য সম্পূর্ণকরণ।
২. গণিত–৪৪টি প্রশ্ন, ৭০ মিনিটের মধ্যে সমাধান করতে হবে। ৭৫% প্রশ্ন বহু-বিকল্প, এবং ২৫% প্রশ্নে ছাত্রদের নিজস্ব উত্তর তৈরি করতে হবে। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কোনো নেতিবাচক নম্বর নেই।
পরীক্ষার সময়কাল মোট দুই ঘণ্টা ১৪ মিনিট। এটি বছরে সাতবার অনুষ্ঠিত হয়: মার্চ, মে, জুন, আগস্ট, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর।
শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় স্যাট স্কোর
– হার্ভার্ড: ১৪৬০–১৫৮০
– স্ট্যানফোর্ড: ১৪৪০–১৫৭০
– এমআইটি: ১৫২০–১৫৭০
স্যাট পরীক্ষা বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।