ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ
ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গছবি: রয়টার্স

আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে নতুন কোনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখাবে না ফেসবুক। নতুন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ফেসবুক এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তবে ফেসবুকে চলমান বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করা ও বিভিন্ন ধরনের মানুষকে লক্ষ্য করে দেখানোর সুযোগ চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যম।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এক ফেসবুক পোস্টে এ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। জাকারবার্গ বলেন, তিনি দেশের বিভাজন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, যা নাগরিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জাকারবার্গ ঘোষণা দেন, ভোট গণনার আগেই কোনো প্রার্থী নিজেকে জয়ী ঘোষণার চেষ্টা করলে প্রার্থীর পোস্টে ফেসবুক লেবেল লাগিয়ে দেবে।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালু করতে দিতে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় এ ধরনের বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে দেখানো হয়।

মজিলা ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, ফেসবুকে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন–সুবিধা থাকায় রাজনীতিবিদ ও তাঁদের সমর্থকেরা বিভিন্ন কল্পনাপ্রসূত বিষয় বাস্তব বলে চালাতে পারেন। এর আগে ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রার্থীর কোনো পোস্ট তারা ফ্যাক্ট চেক করবে না।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেসবুকের বর্তমান এ পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কোথাও কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে, এর নজির হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিডিও সরিয়ে দেবে। ওই ভিডিওতে তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ভোটারদের দুবার ভোট দিতে বলেছেন। এটা অবৈধ। ফেসবুকের নীতিমালার সঙ্গে না গেলে সে ভিডিও তারা রাখবে না।

জাকারবার্গ লিখেছেন, ‘এবারের নির্বাচন বরাবরেই মতো ব্যবসা হবে না। দেশ এত মতভেদ যে নির্বাচনের ফল পেতে কয়েক দিন পর্যন্ত লেগে যাবে। তাতে নাগরিক অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। ফেসবুকে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেবে ফেসবুক।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাকারবার্গ বলেছিলেন, রাজনীতিবিদেরা ফেসবুকে যা খুশি তা বলতে পারবেন। এতে ফেসবুকের নিয়মনীতি লঙ্ঘন হবে না।

ফেসবুকের যেসব সাধারণ নীতিমালা রয়েছে, তা রাজনীতিবিদদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে বিজ্ঞাপনের বিষয়টি আলাদা। এ ছাড়া বিশ্বে সহিংসতা ছড়ানোর কোনো পোস্ট হলে তা ব্যতিক্রম হবে।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতিবিদদের পোস্ট করা কনটেন্ট সম্পর্কে ফেসবুকের বক্তব্য হচ্ছে, তাঁদের বক্তব্যে ফেসবুক মাথা গলাতে চায় না। এতে তারা রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে পারবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা চাইলে তাঁদের বিজ্ঞাপনে মিথ্যা দাবিও করতে পারবেন। ফেসবুকে তাঁরা অর্থ খরচ করে খুশিমতো প্রচার চালাতে পারবেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেসবুকের বর্তমান বিজ্ঞাপন নীতিমালা গত বছর থেকেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে। রাজনীতিবিদদের বিজ্ঞাপনে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা আসার পর থেকেই এ সমালোচনার শুরু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এ ধরনের ভুয়া বিজ্ঞাপন কনটেন্ট প্রচার নিতে সরব ডেমোক্র্যাটরা।

গত বছরের অক্টোবরে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘আমার মনে হয় না কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাজনীতিবিদদের বক্তব্য সেন্সর করা ঠিক হবে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বাক্‌স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ করে স্থানীয় প্রতিযোগী ও উদীয়মান নেতাদের জন্য এটি কার্যকর।

রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখানো নিয়ে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেসবুকের নীতিমালায় ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। গত অক্টোবরে সমালোচনার পর থেকে টুইটার পুরোপুরি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। গুগলের পক্ষ থেকেও কঠোর নীতিমালা আরোপের কথা জানানো হয়।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন