সাইফ আলী খান
সাইফ আলী খানছবি: সংগৃহীত
পর্দায় কতক্ষণের উপস্থিতি, এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই বলিউড সুপারস্টার সাইফ আলী খানের। চরিত্রের গুরুত্বকেই প্রধান্য দেন তিনি। নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখতে পছন্দ করেন এই বলিউড তারকা। তাই গত কয়েক বছরে তাঁকে সব সময় ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘তাণ্ডব’। এই সিরিজে এক দুঁদে রাজনীতিবিদের চরিত্রে তিনি। আলী আব্বাস জাফর পরিচালিত সিরিজটি ঘিরে শুরু থেকেই প্রত্যাশা তুঙ্গে। বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এল সিরিজ আর তাঁর ক্যারিয়ার–সংক্রান্ত কিছু কথা। তবে এখানে ব্যক্তিগত প্রশ্ন ছিল আগের মতোই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তাণ্ডব’-এর ট্রেলার ঘিরে দারুণ প্রতিক্রিয়া। কেমন লাগছে?

আমি এ দুনিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে) নেই। তাই নেট দুনিয়ায় ট্রেলার বা সিরিজ ঘিরে মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে আমি আগ্রহী নই। আমি নিশ্চয় ভক্তদের প্রতিক্রিয়াকে সম্মান করি, কিন্তু পর্যালোচনা আমাকে বেশি টানে। ‘তাণ্ডব’ মুক্তির অপেক্ষায় আছি। এরপর সমালোচকদের মন্তব্য জানতে আমি অনেক বেশি উৎসুক।

default-image

‘তাণ্ডব’ সিরিজে ‘সমর প্রতাপ সিং’ হয়ে ওঠার জন্য কি বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নিতে হয়েছে আপনাকে?

বিশেষ কোনো চরিত্রের জন্য সব সময় প্রস্তুতি লাগে। ‘তাণ্ডব’ সিরিজে আমার অভিনীত চরিত্র ‘সমর প্রতাপ সিং’-এর জন্যও আমাকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এই সিরিজে আমি একজন রাজনীতিবিদ। তাই আমাকে প্রকাশ্যে অনেক বক্তৃতা দিতে হয়েছে। আর এর জন্য আমাকে সংস্কৃতযুক্ত হিন্দি ভাষণ শিখতে হয়েছে। তবে আমি সংস্কৃত বলতে খুবই পছন্দ করি। এই সিরিজের শুটিং চলাকালে আমাকে রোজ সংস্কৃততে কমপক্ষে চারটে ভাষণ দিতে হতো। কিছু কঠিন বাক্য নিয়ে আমাকে প্রায়ই লড়তে হতো।

বিজ্ঞাপন

সিরিজের কিছু অংশের শুটিং পতৌদি প্যালেসে হয়েছে। নিজের প্যালেসে শুটিং করতে নিশ্চয় মজা লেগেছিল?

হ্যাঁ, এই সিরিজের প্রচুর দৃশ্যের শুটিং আমাদের প্যালেসে হয়েছে। আমি দুনিয়ার কোনো জায়গার থেকে বেশি এই প্যালেসে সময় কাটিয়েছি। এটাই আমার বাড়ি। তাই এখানে শুটিং করতে আমি অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি। আমি কখনোই এই প্যালেসকে শুটিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে সংকোচ বোধ করি না। আর বিশেষ করে এ ধরনের প্রজেক্টের জন্য। ৩৪০ দিন এই প্যালেস খালি পড়ে থাকে। তাই একে আমি ব্যবসায়িক সম্পত্তি হিসেবে বিচার–বিবেচনা করতে চাই। কিন্তু বাইরের মানুষ প্যালেসের ভেতরে আসতে প্রথমে আমার একটু অস্বস্তি হয়েছিল। তা যা–ই হোক, এখানে থাকতে পেরে দারুণ লেগেছে। ডিম্পলজি এখানে আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। এই সিরিজের বাকি অংশের শুটিং দিল্লির ‘ইম্পেরিয়াল’ হোটেলে হয়েছিল। আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আরামদায়ক শুটিং এটাই ছিল।

default-image

ডিম্পলের সঙ্গে আবার কাজ করলেন। এবারের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এবারের অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন ছিল। কারণ, ডিম্পলজি আমাদের প্যালেসে ছিলেন। তাই ওনার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছি। আমি ওনাকে ‘ডিম্পলজি’ বলেই ডাকি। ওনার সঙ্গে কাজ করা মানে কিছু না কিছু শেখা।

আপনি কি মনে করেন, ওটিটির কোনো বড়সড় সিরিজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে একজন অভিনেতা হিসেবে আপনার আগামী দিন আরও সুরক্ষিত হবে?

আমি তো মনে করি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোই সৌভাগ্যের কথা। তাই এখানে মাধ্যম কী, তা কখনোই বড় ব্যাপার নয়। কোনো মাধ্যমই একে অপরের থেকে বড় হতে পারে না। যেকোনো মাধ্যমের ক্ষেত্রে ক্যামেরাই শেষ কথা।

default-image

ভারতে একজন রাজনীতিবিদের চরিত্র অনেক ক্ষেত্রে ধূসর হয়। এ ধরনের চরিত্রে কতটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন?

আমি এর আগেও অনেক ধূসর চরিত্রে অভিনয় করেছি। আর এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে আমি দারুণ উপভোগ করি। আমি মনে করি, ধূসর চরিত্রের মধ্যে অনেক রং থাকে। আর এ ধরনের চরিত্র অনেক বেশি মজাদার হয়। আমি খুবই খুশি যে আমাকে ‘সমর’-এর মতো একটু দুর্বল প্রকৃতির, রাগী, জেদি আর সৎ ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

default-image

‘তাণ্ডব’ এমন এক পলিটিক্যাল ড্রামা, যা দর্শক আগে কখনো দেখেননি। আমাদের দেশে রাজনীতি সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। আপনি মনে করেন না, এই বিষয়ের ওপর আগেই সিরিজ নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল?

একদমই তা–ই। আমাদের দেশে রাজনীতি সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আর আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রিক দেশ। রাজনীতির ওপর কাল্পনিক কাহিনি নিয়ে সিরিজ নির্মাণ করা সত্যি রোমাঞ্চকর অনুভূতি।

বিজ্ঞাপন

ছবি বা সিরিজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেন?

আমি যে ছবি বা সিরিজে কাজ করি, তাতে আমার অভিনীত চরিত্রের গুরুত্ব অনেকখানি থাকে। তার মানে, মুখ্য চরিত্র আমাকে বেশি আকর্ষিত করে। অনেক সময় পর্দাতে আমি কতক্ষণ আছি, তা আমার কাছে অর্থহীন। পর্দাতে কম সময়ের উপস্থিতিতেও নিজেকে প্রমাণ করা করা যায়। তাই সব সময় চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ হওয়া চাই। পর্দায় আমার কতক্ষণের উপস্থিতি, তা নিয়ে অত ভাবি না।

default-image

আলী আব্বাস জাফরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

‘তাশান’ ছবির সময় থেকে আমি আলীকে চিনি। আমরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম। অনেকে বলে যে দুজন মানুষ যখন একসঙ্গে ক্রিকেট খেলে, তখন তারা বন্ধু হয়ে যায়। তাই শুটিং করার সময় কে বড়, কে ছোট, এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না আমাদের। আমি জেনেছিলাম যে আলী দীর্ঘ ফরম্যাট নিয়ে কিছু করতে আগ্রহী। তখনই আমার স্থির বিশ্বাস ছিল যে একজন কাহিনিকার হিসেবে ওর প্রতিভা সামনে আসবে। আর সত্যি ওর দক্ষতা আরও বেশি করে প্রকাশ পেয়েছে। এই মুহূর্তে বলিউডের সেরা পরিচালকদের মধ্যে আলী একজন। ওর সিনেম্যাটিক দৃষ্টি সত্যি প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, ‘তাণ্ডব’-এ আলীই প্রকৃত নবাব, আমি নই। আমি শুধু কম টাকার বিনিময়ে কাজ করা এক অভিনেতা।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন