এ এস এম আসলাম তালুকদার মান্না (১৯৬৪- ২০০৮)। ছবি: প্রথম আলো
এ এস এম আসলাম তালুকদার মান্না (১৯৬৪- ২০০৮)। ছবি: প্রথম আলো
default-image

‘অভিনেতা মান্না ছিলেন নিরহংকার ও আবেগপ্রবণ মানুষ। একবার থাইল্যান্ডে “মান্না ভাই” ছবির শুটিংয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই ছবির শুটিংয়ে বাবুর্চি ঢাকা থেকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুটিংয়ে যাওয়া কারও এই খাবার পছন্দ হয়নি। সেদিন মান্না সবার সামনে এই ঘটনার জন্য হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছিলেন।’

চিত্রনায়ক মান্নার ১৩তম মৃত্যুর দিন আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি। সহশিল্পীকে নিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণা করলেন অভিনেতা জ্যাকি আলমগীর। তাঁর কথায় উঠে আসে সাধারণত তারকারা শুটিং সেটে সবার সঙ্গে তারকাসুলভ আচরণ করে থাকেন। কিন্তু মান্না ছিলেন একেবারেই ব্যতিক্রম। তিনি সবার সঙ্গে সাধারণভাবে মিশতেন। শুটিং সেটে সবার খোঁজখবর নিতেন।

বিজ্ঞাপন

অভিনেতা জ্যাকি আলমগীরের ক্যারিয়ার বদলে দেয় মান্না অভিনীত ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি। ছবিটি মুক্তির পর থেকে এখনো তিনি দর্শকের কাছে ছবির চরিত্র ‘নবাব’ হয়ে আছেন। ছবিতে নায়ক মান্না তাঁকে নবাব নামে ডাকতেন। সেই সম্বোধনের একটি আলাদা ভঙ্গি ছিল। এখনো বাইরে বের হলে মান্নার মতো করে অনেকেই তাকে ‘নবাব’ বলে ডাকেন। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন ‘আম্মাজান’ ছবিটি মুক্তি পায়।

default-image

তারপর থেকে দর্শকেরা রাস্তাঘাটে, শুটিং স্পটে বা কোনো অনুষ্ঠানে মান্নার ডাকার ভঙ্গিতে তাঁকে নবাব ডাকতেন। তিনি বলেন, ‘মান্না ভাই নেই, এটা এখনো মনে হয় না। কেউ আমাকে নবাব নামে ডাকলেই মান্না ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। আমাকে নবাব বানাতে ভাইয়ের অবদান আছে। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য তাঁকে আজ বড় দরকার ছিল। তিনি অভিনেতা হিসেবে যেমন ভালো ছিলেন, তেমনি তিনি শুটিং ইউনিটে অন্য সবার কথাও ভাবতেন। তারকাসুলভ আচরণ তাঁর মধ্যে পাইনি। সাধারণভাবেই সবার সঙ্গে মিশতেন, অন্যদের পরিবারের খোঁজখবরও নিতেন। এফডিসিতে তাঁর শূন্যতা টের পাই। শুটিংয়ে সহকর্মীদের দুঃখ–দুর্দশায় সব সময় পাশে থাকতেন।’

default-image

‘আম্মাজান’ ছবির এই নবাব জানান, দেশজুড়ে তাঁকে পরিচিতি এনে দেয় মান্নার সঙ্গে অভিনয় করা বেশ কিছু ছবি। জ্যাকি আলমগীরকে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে অভিনেতা মান্নার সঙ্গেই। এই অভিনেতার সঙ্গে রয়েছে জ্যাকির অনেক স্মৃতি। একবার ‘মান্না ভাই’ নামে একটি ছবির শুটিংয়ে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রান্নার জন্য ঢাকা থেকে বাবুর্চিও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রান্না ভালো হয়নি। এ নিয়ে শিল্পীদের মনে অসন্তুষ্টি ছিল। সেদিন অভিনয়শিল্পী ছিলেন প্রয়াত খলিলুর রহমান, ফাইট ডিরেক্টর মোসলেমসহ আরও অনেকে। মান্না ছিলেন ছবির নির্বাহী প্রযোজক। খাবার যে কারও পছন্দ হচ্ছে না, সেটা বুঝেছিলেন মান্না। রাতে সবাইকে নিয়ে মিটিংয়ে বসেন তিনি। জ্যাকি বলেন, ‘খাবার নিয়ে শুটিং সেটে সবার কষ্ট হওয়ায় মান্না সেদিন সবার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে কেঁদেছিলেন। যদিও কেউ অভিযোগ করেননি, তবু দেশের বড় একজন অভিনেতার কান্না আমাদের সবার হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। এখনকার প্রযোজকেরা শুটিংয়ের খোঁজই নেন না।’

default-image
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ছবির সংখ্যা কম, কমে গেছে সিনেমা হলের সংখ্যাও। জ্যাকি আলমগীর মনে করেন, এর সঙ্গে কমে গেছে শিল্পীদের সম্মান–সম্মানীও।

default-image

এ ছাড়া বাজেটেরও সংকট আছে। জ্যাকি আলমগীর বলেন, ‘আগে সম্মানী দেওয়া হতো খামে। ছবির ম্যানেজার সম্মানীর খাম বাসায় পৌঁছে দিতেন। এখন ঘুরে ঘুরেও টাকা পাওয়া যায় না। ভেঙে ভেঙে কিছু টাকা দেয়। টাকার জন্য ফোন করলে বলে, ছবি চলেনি, টাকা দেওয়া যাবে না। আগের মতো প্রযোজক নেই, হলে সেভাবে ছবি চলছে না। অভিনয়শিল্পীরা বেকার হয়ে যাচ্ছেন। নানা ক্রাইসিসে এখন সম্মানটাই হারিয়ে গেছে।’

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন