‘ছিটকিনি’খ্যাত নির্মাতা, চলচ্চিত্রবিষয়ক লেখক, গবেষক ও শিক্ষক সাজেদুল আওয়াল আর নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট জটিলতায় মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। প্রথম আলোকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন নাট্যকার, নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ।

default-image

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুও এক ফেসবুক পোস্টে সাজেদুল আউয়ালের মৃত্যুর খবর জানান। তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষক ও ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সাজেদুল আউয়াল আর নেই। আজ সন্ধ্যায় এই নিমগ্ন গবেষক তাঁর বাসায় প্রয়াত হন। কোভিড-পরবর্তী জটিলতায় তিনি মারা গেছেন।’ এই পোস্টের নিচে অভিনেত্রী ও সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফা লিখেছেন, ‘এটা মেনে নেওয়া যায় না। আহা শামীম, সেদিনই তো কথা হলো। শান্তিতে ঘুমান, প্রিয় বন্ধু।’ তারিক আনাম খান লিখেছেন, ‘আর নিতে পারছি না। শামীম...এটা কী হলো, বন্ধু!’ অভিনেত্রী রুনা খান তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘শামীম ভাই, আপনি না স্ক্রিপ্ট তৈরি করে রেখেছেন? আমরা না আবার একসাথে নতুন সিনেমা করব? কথা রাখলেন না তো শামীম ভাই...গভীর শোক আর শ্রদ্ধা...।

default-image

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে তাঁর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এরপর কিছুটা ভালো ছিলেন। আজ সন্ধ্যার পর সাজেদুল আউয়াল হঠাৎ বলছিলেন, খারাপ লাগছে। কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনি মারা যান। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সাজেদুল আউয়াল স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের নাট্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি ১৯৫৮ সালের ২৫ মার্চ কুমিল্লায় জন্মগ্রহন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা থিয়েটারে যোগ দেন। ‘ঢাকা থিয়েটার’-এর সঙ্গে দীর্ঘ দিন সম্পৃক্ত ছিলেন। তার রচিত প্রথম কাব্যনাটক ‘ফণিমনসা’। ১৯৮০ সালে নাটকটি মঞ্চায়নকালে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। ১৯৭৪ সালে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলেনর সঙ্গে যোগ দেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কাজ করেন ‘সিনে আর্ট সার্কেল’ এ।

default-image

চলচ্চিত্র নির্মাণে তার সূচনা ১৯৯৯ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নির্ভানা’র মধ্য দিয়ে। এরপর দীর্ঘ সময় নিয়েছেন প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্র নির্মাণে। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর মুক্তি পায় সাজেদুল আউয়াল পরিচালিত ছবি 'ছিটকিনি'। এখানে অভিনয় করেছেন রুনা খান, ভাস্কর বন্দোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে। এই সিনেমায় অভিনয় করে শিশুশিল্পী আপন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পায়। আর মেরিল প্রথম আলো ‘সমালোচক পুরস্কার (চলচ্চিত্র)’ ক্যাটাগরিতে সেরা অভিনেত্রী হন রুনা খান।

default-image

সাজেদুল আউয়াল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগ এবং বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন ।

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে মৃত্যুর মিছিলে লাশের সংখ্যা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।সেই তালিকার নতুন সংযোজন সাজেদুল আউয়াল।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন