অভিনন্দন আপা। গতকাল কখন খবরটা পেলেন?
ফরিদা আক্তার ববিতা : বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে চ্যানেল আই থেকে জানানো হয়, ‘আপনি একুশে পদক পাচ্ছেন।’ জানার পর খুবই ভালো লাগল। একুশের চেতনায় একুশে পদকপ্রাপ্তির ঘোষণা শুনে অভিভূত হয়েছি। একুশ আমার প্রাণ, আমার ভালোবাসা। ভক্ত-দর্শকের ভালোবাসায় আমি ববিতা হয়েছি, একটা পর্যায়ে পৌঁছেছি, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমার বড় বোন সুচন্দা আর ছোট বোন চম্পাও খুশি। নিজে থেকে ছেলে অনিককে জানাতে চেয়েছি, অফিসের কাজে সে সিয়াটলে গেছে, তার সঙ্গে কথা হয়নি, টেক্সট করে রেখেছি।
প্রথম আলো :
এর আগে আপনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একবার আজীবন সম্মাননাসহ দেশে–দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। জীবনের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালে পুরস্কারগুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে, না দায় হয়ে?
ফরিদা আক্তার ববিতা: (ড্রয়িংরুমের দেয়ালের দিকে যেখানে পুরস্কারগুলো সাজিয়ে রাখা, সেদিকে তাকিয়ে) প্রতিদিন আমি এদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি, এগুলো তো অবশ্যই স্মৃতি হয়ে থাকবে। আসলে চরিত্র এবং পুরস্কার—দুটি মিলিয়েই তো আমি। চরিত্র মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে বলেই একটা সময় সেটার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেছে। একটা বাদ দিয়ে আরেকটা বললে তো ঠিক হবে না। এ–ও ঠিক, অনেক ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমি কোনো পুরস্কার পাইনি, সেই ছবিগুলোও কিন্তু অনেক সুন্দর—যেমন শেখ নিয়ামত আলীর দহন। ছবিটা নিয়ে আমরা কার্লোভি ভেরি চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলাম, প্রশংসিতও হয়েছে। যেসব ছবি রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কার পায়নি, তা অন্যান্য নামকরা সংগঠন থেকে পেয়েছে। একজন ববিতা চলচ্চিত্রজগতে এসেছি ১৩ বছর বয়সে। জহির রায়হান আমাকে নিয়ে এসেছেন। তখন আমাদের মধ্যে টাকাপয়সা প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল না। প্রধান লক্ষ্য ছিল মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে—ওপরে উঠতে হবে, শিল্পের ক্ষুধা ছিল—এগুলো করতে পেরেছি বলেই তো দর্শক আমাকে সম্মান করেছে, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়েছে। তাদের ভালোবাসা পেয়ে একজন ববিতা হয়েছি। সেসবের কারণেও এই পুরস্কার। শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান সাহেব আমাকে চলচ্চিত্রের জগতে এনেছেন, তিনি না আনলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না। তাই আমার একুশে পদক জহির রায়হানকে উৎসর্গ করছি।
প্রথম আলো :
আচ্ছা, চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আপনার কোনো আক্ষেপ...
ফরিদা আক্তার ববিতা : আমি একজন শিল্পী, ক্যামেরার সামনে যে চরিত্রে কাজ করেছি, সব সময় তা হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। মনে হতো, যে চরিত্রটি করছি, সেটিই আমি। ক্যামেরার বাইরে আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার সংসার, সন্তান আছে। তবে চলচ্চিত্রে এত বেশি কাজ করতে গিয়ে যা হয়েছে, সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হতাম, ফিরতাম রাত ১২টা-১টার পর। তিন শিফটও কাজ করতাম। তাতে কোনো ছুটি পেতাম না। আমার মন হয়েছে, পৃথিবীর অনেক কিছু আমার অজানা। অনেক কিছু দেখতে পারিনি। সাধারণ মানুষেরা কত কী করে—ঘুরতে যায়, পিকনিক করে, দোকানপাটে যায়—কেন এটা পারি না। ওইটা একটা আক্ষেপ, আফসোস থেকে যায়। আরও আছে। যেমন এখনো যখন নিজের সিনেমা দেখি, তখন আমি তো শুধুই একজন দর্শক। মাঝেমধ্যে এমনও মনে হয়, আরেকটু যদি সুন্দর করে কাজ করতাম, তাহলে আরও ভালো হতো। দর্শক হিসেবে ত্রুটি বা অসংগতি ধরা পড়ে।
আপনি কি মনে করেন, সেই সময়ের দর্শক আপনার চরিত্রগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পেরেছিল?
ফরিদা আক্তার ববিতা : আমি তো মনে করি পেরেছিল। সে কারণে মানুষ ছবিগুলো দেখেছে। যদি ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবির কথা বলি, সংলাপ তো বিভিন্ন অফিসে, নানান জায়গায় বলা হতো। যেমন ‘আমাদের কোনো কেলাস নাইক্কা, আমরা হগলে এক কেলাসের মানুষ।’ গোলাপীর এত অভাব-অনটন, বিয়েটাও ভেঙে গেল। তখন নায়ক ফারুক সাহেব বলছেন, ‘তুই একটা কিছু ক গোলাপী।’ এই সংলাপগুলো মানুষ দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল। আলোর মিছিল ছবির কথা যদি বলি, ওই ছবির চরিত্রটি নিয়ে অনেকে বলেছিল, এটা আমার করা ঠিক হবে না। আমাকে তখন এমনও বলা হয়, ‘রাজ্জাক সাহেব আর তুমি রোমান্টিক ছবি করছ এখন। এটাতে তো মামা-ভাগনি।’ আমি বলেছি, ‘তাতে কি? আমাকে একটু ভাবতে দিন।’ তারপর দেখলাম যে এত সুন্দর চরিত্র যদি না করি, তাহলে ভুল হবে। করার পর লোকে দারুণভাবে গ্রহণও করল।
এই কথার সূত্র ধরে জানতে চাওয়া, জীবনে যত সিনেমায় অভিনয় করেছেন, সব সিদ্ধান্ত কি নিজের ছিল নাকি পরিবারের অন্যদের পরামর্শ নিতেন?
ফরিদা আক্তার ববিতা : পরিবার, আত্মীয়স্বজন এমনকি বন্ধুদেরও কথা শুনতাম। সবাই নিজেদের মতো করে পরামর্শ দিত। কেউ বলত, এই চরিত্র করা ঠিক হবে না। ওই ছবিতে কাজ করার দরকার নেই। আমি যখন সিনেমায় ব্যস্ত, মা তো তখন বেঁচে নেই। আব্বা এসব নিয়ে অতটা মাথা ঘামাতেন না। সুচন্দা আপার সঙ্গে কথা বলতাম। চম্পার সঙ্গেও আলাপ করতাম—সবার কথা শুনতাম, কিন্তু এরপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত আমিই নিতাম।
প্রথম আলো :
দেশের বাইরের সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন আপনি। বাইরের দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আপনাকে কি দেশীয় সিনেমা নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে?
ফরিদা আক্তার ববিতা : অবশ্যই নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। সত্যজিৎ রায়সহ আরও দু–তিনটা ছবি, যেগুলো কানাডায়, শ্রীলঙ্কা করেছি—যৌথ প্রযোজনার ছবিও করেছি। আমাদের দেশে যখন কাজ করেছি তখন এখানকার শিল্পীদের কাছ থেকে সব সময় কিছু না কিছু শিখতে পেরেছি। পরিচালকই যে সবকিছু বলে দেন, তা কিন্তু না। সহশিল্পীদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। এমনও হয়েছে, রাজ্জাক সাহেব অথবা বুলবুল আহমেদ বলেছেন, ম্যাডাম—এই জায়গাটা যদি আপনি এ রকম করেন, তাহলে ভালো লাগবে। করে দেখলাম, ঠিক তাই। এই যে আদান–প্রদান, এর মাধ্যমে শিখেছি। বিদেশে যাদের সাথে কাজ করেছি, সৌমিত্র (চট্টোপধ্যায়) বাবু বা অন্যান্য যারা, সবার কাছ থেকে শিখতাম। দেখতাম—বিদেশের ওরা কেমন।
প্রথম আলো :
১০ বছরের বেশি সময় ধরে আপনি অভিনয়ে নেই। বিরতিতে থাকলে শিল্পী কি হারিয়ে যান, নাকি ভেতরে-ভেতরে আরও পরিণত হন?
ফরিদা আক্তার ববিতা : শিল্পী কখনো হারিয়ে যান না, হারিয়ে যেতে পারেন না। শিল্পী পরিণত হন, শক্ত হন। বিরতির কারণে একটা ক্ষুধা থেকে যায়—হয়তো ভাবেন, আরও সুন্দর কোনো চরিত্র যদি পেতাম, তাহলে মন দিয়ে করতে পারতাম।
আজ যদি কোনো তরুণ নির্মাতা আপনাকে গল্প শোনাতে আসেন, কেমন গল্পে আপনাকে রাজি করাতে পারবেন?
ফরিদা আক্তার ববিতা : পাশের দেশ ভারতে অমিতাভ বচ্চন, রাখি, রেখা—যাঁরা এখনো কাজ করছেন, তাঁদের সবাইকে ঘিরে কিন্তু গল্প লেখা হয়। আমাদের এখানে কিন্তু কাউকে এমনটা করতে দেখি না। এখানে কথা বলে মনে হয়েছে, শুধু ববিতা নামটা দরকার। হয় ববিতা মায়ের চরিত্র, না হয় ভাবি, না হয় বোনের চরিত্র—তা–ও মনঃপূত চরিত্র তো হতে হবে। নামকাওয়াস্তে মা-খালা বোন-ভাবির চরিত্র করে তো লাভ নেই। এই দুঃখে আমি কোনো ছবি করি না, ভালোও লাগে না। পৌনে তিন শ ছবিতে অভিনয় করেছি। আমার একটা নাম তৈরি হয়েছে। আমি সেই নামটা নষ্ট করতে চাই না। তবে সে রকম কেউ, সে রকম কোনো গল্প নিয়ে এলে অবশ্যই করব।
প্রথম আলো :
কেমন গল্প বা চরিত্র আপনাকে টানতে পারে?
ফরিদা আক্তার ববিতা : কেমন, তা তো সে রকমভাবে বলা যাবে না। আমি এ রকম চাই, ও রকম চাই—এটা বলা মুশকিল। যে পরিচালক ছবির প্রস্তাব নিয়ে আসবেন, তিনি যদি বাস্তবধর্মী গল্প নিয়ে আসেন, তাহলেই হয়। আমি কখনো এটা নিয়ে ভাবিনি। যে গল্প বা চরিত্র সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব, সেটাই আমি চাই। নির্দিষ্টভাবে এমনটা বলতে চাই না, অমুক প্রধানমন্ত্রীর চরিত্রটা করতে চাই বা তমুক চরিত্রে আমার আগ্রহ আছে।
প্রথম আলো :
ভবিষ্যতে আপনাকে নিয়ে যদি কোনো বায়োপিক হয়, আপনি কী চাইবেন—একজন সফল অভিনেত্রীর গল্প, মানুষ আপনার গল্পটা?
ফরিদা আক্তার ববিতা : মানুষের গল্পও হতে পারে। তবে আমার ভেতরকার মানুষটাকে খুব বেশি সামনে আনতে চাইব না। যেহেতু আমি একজন শিল্পী, অভিনয়জীবনের দিক নিয়ে বায়োপিক তৈরি হোক, সেটাই চাইব।
শিল্পীর সাফল্য কি শুধুই পুরস্কারে মাপা যায়, নাকি দর্শকের মনে জায়গা করাটাই আসল?
ফরিদা আক্তার ববিতা : দর্শক স্মৃতিতে টিকে থাকাই একজন অভিনেত্রীর সবচেয়ে বড় সাফল্য। পৃথিবীর বড় সব পুরস্কার পেলেও দর্শকের মনে না থাকলে সেই শিল্পীর সার্থকতা নেই। দর্শকের ভালোবাসা বা মনে থাকাটাই আসল।
প্রথম আলো :
আপনি কি মনে করেন—নারীকেন্দ্রিক গল্পে সিনেমা আমাদের এখানে সেভাবে তৈরি হচ্ছে না?
ফরিদা আক্তার ববিতা : কম। এখন অনেক কম। এখন যে ধরনের ছবি হয় বেশির ভাগই নায়কপ্রধান, আমাদের সময়েও ছিল। কিন্তু সুভাষ দত্ত বা আমজাদ হোসেন—এঁরা নারীকেন্দ্রিক গল্প নিয়ে ছবি বানিয়েছেন। নারীকেন্দ্রিক গল্পের ছবি হলেও তখন গল্পের প্রয়োজনে আশপাশে যা রাখার তা রাখতেন। কিন্তু এখন সেভাবে নারীকেন্দ্রিক গল্প হচ্ছে না। এটাকে আমি পরিচালকদের চিন্তার সংকট বলব।
প্রথম আলো :
নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কী হবে?
ফরিদা আক্তার ববিতা : আমার পরামর্শ হচ্ছে, শুধু অর্থের দিকে না তাকিয়ে, একজন শিল্পী হয়ে উঠতে গেলে কী কী করতে হয়, সেদিকটায় নজর দিতে হবে। ইদানীং নতুনদের দু-একটা ছবি যা-ও দেখা হয়, তাতে মনে হয় না, সেই ধরনের চেষ্টা রয়েছে তাদের। এমনও দেখি, গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছে, কন্টাক্ট লেন্স লাগিয়ে! এটা কি বাস্তবধর্মী, মোটেও না। এসব দিকেও ভাবতে হবে তাদের।
প্রথম আলো :
সারা দুনিয়াতেই শিল্পীরা রাজনীতিতে যুক্ত হন, এটা নিয়ে প্রচুর বিতর্কও হয়। আপনি কি মনে করেন, পেশায় সক্রিয় থাকা শিল্পীদের রাজনীতিতে জড়ানো উচিত?
ফরিদা আক্তার ববিতা : আমি মনে করি, শিল্পীদের একেবারেই রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। একজন শিল্পী যেভাবে কাজ করেছেন, যা তিনি হয়েছেন, পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন—একটা সময় দেশের মানুষ তাঁদের অনেক অনেক ভালোবাসেন। আমি মনে করি, যেই মুহূর্তে শিল্পী রাজনীতিতে জড়ান সবকিছু জিরো হয়ে যায়। সম্ভবত আমি ভুলও হতে পারি। আমাদের এখানে অনেক শিল্পী রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, আমি কখনো এসব পছন্দ করি না। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, শিল্পীরা রাজনীতিতে জড়ানোর কারণে জনগণ তাঁদের তালির বদলে গালি দিয়েছে। আমি কেন জনগণের গালি খেতে যাব! সে জন্য আমি মনে করি শিল্পীদের রাজনীতিতে যাওয়া উচিত নয়।
শিল্পীরা কি নিজের কাজ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণেই রাজনীতিতে জড়ান?
ফরিদা আক্তার ববিতা : মোটেও না। অনেক শিল্পী মনে করেন, রাজনীতিতে গেলে অনেক সুনাম হবে, অনেক নাম হবে—এটাই ভুল ধারণা। অর্থনৈতিকভাবে একটু উপকৃত হবে—এটাও ভুল। বরং এতে লোকে বদনাম করবে। শিল্পী সব সময় শিল্পী—সে রাজনীতি সচেতন হবে কিন্তু কেন সে রাজনীতি করবে? এটা আমার খুব অপছন্দ। যে যা–ই বলুক, আমার একটাই কথা—শিল্পীরা কখনোই রাজনীতিতে যাবে না। এই যে দেখেন—রিয়াজ, ফেরদৌসসহ আরও কে কে তো শিল্পী হিসেবে ভালোই ছিল। কেন ওরা রাজনীতিতে গেল! রিয়াজ এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন! রাজনীতি এমন একটা জায়গা, এখানে কাল কী হবে, তা কেউ বলতে পারে না। এসব কারণে শিল্পী হিসেবে মানুষ তার নাম ভুলে যাচ্ছে। তাই বলব, যারা রাজনীতি করে, তারা ভুল করে—এটা আমি সমর্থন করি না।
প্রথম আলো :
কেউ মনে করেন, শিল্পীরা যদি রাজনীতি করেন, ক্ষমতা বাড়ে।
ফরিদা আক্তার ববিতা : এটা একেবারেই ভুল ধারণা বলে আমি মনে করি। একজন শিল্পীর ক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা সব সময় রাজনীতিবিদের চেয়ে বেশি। শিল্পীর মর্যাদা আর সম্মানও অনেক বেশি। যত দিন দল ক্ষমতায়, রাজনীতিবিদ তত দিন শক্তিশালী। যে মুহূর্তে দল ক্ষমতায় নাই, রাজনীতিবিদের সবকিছু তখনই শেষ। কিন্তু একজন শিল্পীর ক্ষমতা সব সময় থেকে যাবে—যত দিন যাবে বাড়বে, সম্মান–মর্যাদাসহ। দলমত, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সব সময় শিল্পীর ক্ষমতা থেকে যাবে। শিল্পীরা রাজনীতিতে গেলে পরিণতি খুব খারাপ হয়, মোটেও ভালো হয় না—এটা আমি নিজেই দেখেছি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনি কি কখনো রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন?
ফরিদা আক্তার ববিতা : অনেকে বোধ হয় জানতেন, ওনাকে প্রস্তাব করলে, কখনো রাজি হবেন না। তাঁরা হয়তো মনে করেছেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ববিতা যা পেয়েছেন, তাতেই তিনি অনেক খুশি। আমাকে কখনো কেউ রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেননি।
প্রথম আলো :
সামনে নির্বাচন, নতুন সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
ফরিদা আক্তার ববিতা : দেশটা সুন্দরভাবে এগিয়ে নিক। আমরা দেশের সব মানুষ শান্তিতে যেন থাকি, দুর্নীতি যেন দেশে না থাকে। শিল্পীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে শিল্পচর্চা করে যেতে পারে—এটাই চাই। সরকারের কাছে এ–ও চাইব, সিনেমা হল বাড়ানো, এফডিসিকে আরও গতিশীল যেন করে। শুনেছিলাম, চলচ্চিত্রের জন্য একটা বড় এরিয়া করা হবে, সেটার কোনো খবর অনেক দিন জানি না—সেদিকেও নজর দিলে ভালো হয়।