রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত: সৈয়দ জামিল আহমেদ

মেটা থিয়েটার ‘আন্তিগোনে, কবর, চাকা, বেহুলার ভাসানে দাফনহীন বিবিধ লাশের গায়েবানা জানাজা’ নিয়ে আসছেন নাট্য নির্দেশক, স্পর্ধা: ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সৈয়দ জামিল আহমেদ। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চে ঢাকার স্পর্ধা অ্যাটেলিয়ারে পরিবেশনাটি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার নির্দেশকের সাক্ষাৎকার নেন মকফুল হোসেন

প্রথম আলো:

মেটা থিয়েটারটির বিষয়বস্তু কী?

সৈয়দ জামিল আহমেদ: আন্তিগোনে, কবর, চাকা কিংবা বেহুলার ভাসান-এ লাশ সমাহিত করা হয় না। বেহুলার ভাসানে লখিন্দরের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। লখিন্দরসহ বেহুলার ভাসান আমাদের মনে এক আদি রূপকল্প হিসেবে গেঁথে আছে।

আমাদের দেশে যত ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হয়েছে, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সাধারণ জনগণের ওপর; সেই একাত্তর থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার মানুষ, শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান, ফেলানী, কল্পনা চাকমা, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রতিটি মানুষের প্রতি সহমর্মী হয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত; এই হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ কি? এই হত্যার মিছিল কেন?

আমাদের দেশে বারবার সংঘাত ঘটে যাচ্ছে। এটি আত্মপরিচয়ের সংঘাত। আমরা আগে মুসলিম নাকি বাঙালি? আমাদের ভাষা আগে নাকি ধর্ম আগে?

এ প্রশ্ন নিয়ে ১৯০৫ থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, পরে একাত্তরে আমরা একভাবে দাঁড়ালাম। তারপরও বাংলাদেশে বারবার এমন ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও ঘটেছে।

যে জিনিসটা বারবার ফিরে আসে, আমাদের পরিচয়টা কী? কখনো সামনে আসে ধর্ম, কখনো সামনে আসে ভাষা ও সংস্কৃতি। আবার আমরা যখন ভাষা ও সংস্কৃতির কথা বলি, তখন আদিবাসীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখি। এই সংকটগুলো উত্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

সেই একাত্তর থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার মানুষ, শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান, ফেলানী, কল্পনা চাকমা, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রতিটি মানুষের প্রতি সহমর্মী হয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।
সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্য নির্দেশক
গতকাল রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে স্পর্ধা অ্যাটেলিয়ারে সৈয়দ জামিল আহমেদ
ছবি: মীর হোসেন
প্রথম আলো:

পরিবেশনায় আর কী কী থাকছে?

সৈয়দ জামিল আহমেদ: আর্নেস্ট রেনাঁর ‘নেশন কী’ ধারণার একটি ভাবানুবাদ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁরা পরিষ্কারভাবে বলছেন, মানুষ অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানে ওই স্মৃতিসম্পদ রক্ষা করার এবং একই সঙ্গে সেই স্মৃতিসম্পদ নিয়ে বসবাস করার ইচ্ছা পোষণ করে।

আমরা প্রশ্নটা তুলতে চাইছি, আমরা কি আসলেই একসঙ্গে বসবাস করার ইচ্ছা পোষণ করছি? অতীতের স্মৃতি হিসেবে একাত্তরকে মনে করা যেতে পারে।

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানেও সবার সমর্থন ছিল। কিন্তু পরে একটি মহল মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দিতে চেষ্টা করেছে। আমরা কি সেটাকে মুছে ফেলব? আমরা কি ভুলে যাব? আমরা সেই প্রশ্নটাই তুলছি।

আমাদের স্মৃতি কী হবে? কোথা থেকে আমরা স্মরণ করব? অন্যদিকে শেখ মুজিবের সময় কিংবা শেখ হাসিনার সময়ে ১৫ বছর ধরে আমরা প্রায় শুধু শেখ মুজিবের ভাষণই শুনেছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ও সেই কৈশোরে মুগ্ধ-উজ্জীবিত হওয়া একজন হিসেবে বলছি, আমারও কান ঝালাপালা হয়ে গিয়েছিল।

আমরা ভুলে গেছি নীল বিদ্রোহের কথা, সিপাহি বিপ্লবের কথা, কৈবর্ত আন্দোলনের কথা। আমাদের অতীত যেন একাত্তর সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, সীমিত আকারে একটি দলের রাজনীতির মধ্যে। আমরা সেই প্রশ্নটাই তুলছি, আমরা তাহলে কী মনে রাখব? কত দূর পর্যন্ত মনে রাখব? আত্মপরিচয়ের সংকট ও দ্বন্দ্বের ফলে বারবার লাশ পড়ছে।

লাশ পড়ার ফলে যেন লখিন্দরকে নিয়ে ভেসে যাওয়ার সেই আর্কেটাইপাল ইমেজ (আদি রূপের প্রতিচিত্র) বারবার আমাদের সামনে ফিরে আসে। লখিন্দরের সেই ইমেজটাই যেন হয়ে গেছে শেখ মুজিবের লাশ ভাসা, জিয়াউর রহমানের লাশ ভাসা, মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ ভাসা, ধর্ষণের শিকার নারীদের লাশ ভাসা, ফাঁসিতে যাওয়া মানুষের লাশ ভাসা—সব জায়গা থেকেই আমরা এই আদি রূপকল্পটাকে ব্যাখ্যা করতে চাই।

আন্তিগোনে-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাশ সমাহিত করার সবার অধিকার আছে। সমাহিত করা এখানে প্রতীকী অর্থে। আমাদের একটি সমাধান বা স্বীকৃতির জায়গায় পৌঁছানো দরকার। লাশ সমাহিত করে, সেই রেজোল্যুশনের (সমাধান) জায়গায় এসে সবাইকে স্বীকার করা, শেখ মুজিবকে স্বীকার করা, তাঁর জন্য শোক করা; জিয়াউর রহমানের জন্য শোক করা; মুক্তিযুদ্ধের জন্য শোক করা; শাপলা চত্বরের জন্য শোক করা।

জামায়াতের নেতাদের নিজেদের অপরাধের দায় স্বীকার করা, এভাবে সবকিছুকে সমাহিত করে, চাকা নাটকের মতো সোহাগীর বিলের দিকে যাত্রা করা। মানে সোনার বাংলার দিকে আমাদের সবার একসঙ্গে যাত্রা করা উচিত।

আরও পড়ুন
সৈয়দ জামিল আহমেদ
ছবি: মীর হোসেন
প্রথম আলো:

পরিবেশনাটির জন্য ৭ মার্চকে বেছে নিলেন কেন?

সৈয়দ জামিল আহমেদ: আমি সময় বেছে নিই না। সময় আমাকে বলে, কী করা দরকার। অনেক দিন ধরেই আমরা ভাবছিলাম, নানাভাবে বিষয়টা ফিরে এসেছে। আমার নানা লেখায় কথাটা এসেছে। ৭ মার্চে প্রশ্নটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি আমি শুনেছিলাম এই ভাষণ। রেসকোর্সের ময়দানে ছিলাম না, বাইরে ছিলাম। এত মানুষ ময়দানের ভেতরে ঢুকতে পারিনি। তখন ছোট ছিলাম।

ভাষণটাই মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। সেই চিহ্নটা শেখ হাসিনা বারবার শুনিয়ে কান ঝালাপালা করিয়ে দিয়েছে। ঠিক তেমনি, চিহ্নটাকে মুছে ফেলার চেষ্টাও একই রকম ভুল। আমরা ওই চিহ্নটাকে স্মরণ করতে চাই।

এই পরিবেশনা কেবল শেখ মুজিবের স্মৃতিচিহ্ন উত্থাপন করা নয়। আমরা জিয়াউর রহমানের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট (ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন) পড়ব, আমরা তাজউদ্দীন আহমদের স্বপ্ন পাঠ করব। চার নেতার হত্যাকাণ্ড আমরা উপস্থাপন করব। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কথা বলব।

প্রজেকশনে শেখ মুজিব, সিরাজ সিকদার, জিয়াউর রহমান, নূর হোসেন, আবু সাঈদ, শরিফ ওসমান হাদির ছবিসহ অসংখ্য মৃত ব্যক্তির ছবি দেখাব। সঙ্গে বেহুলার ভাসানের গান গাইব। ১৫ দিন ধরে নানাভাবে চিন্তা করছি। তবে রিহার্সাল করছি মাত্র দু-তিন দিন ধরে।

ভাষণটাই মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। সেই চিহ্নটা শেখ হাসিনা বারবার শুনিয়ে কান ঝালাপালা করিয়ে দিয়েছে। ঠিক তেমনি, চিহ্নটাকে মুছে ফেলার চেষ্টাও একই রকম ভুল। আমরা ওই চিহ্নটাকে স্মরণ করতে চাই।
সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্য নির্দেশক
সৈয়দ জামিল আহমেদ
ছবি: প্রথম আলো
আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

আপনি যে প্রশ্নগুলো তুলছেন, সেগুলো তোলার একটা ঝুঁকিও নিশ্চয়ই আছে। ঝুঁকিটা কেন নিচ্ছেন?

সৈয়দ জামিল আহমেদ: ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ যদি না থাকে, তাহলে শিল্পকর্ম কেন করবেন? শিল্পকর্ম তো কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়, একুশে পদক পাওয়ার জন্য নয়, রাষ্ট্র এসে পিঠ চাপড়ে বলবে ‘ভালো করেছো’, সেটার জন্যও নয়। শিল্পকর্মের কাজ হচ্ছে প্রশ্ন তোলা এবং মানুষকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলা।

কোনো ছবি যদি আপনাকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য না করে কিংবা অস্বস্তি তৈরি না করে, তাহলে সেই শিল্পকর্মের মানে কী?

চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের আঁকা শেখ মুজিবের মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ছবিটি অস্বস্তি তৈরি করে। ওই ছবি আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে। কেউ যদি বলে সেখানে কোনো ঝুঁকি নেই, কোনো অস্বস্তি নেই, তাহলে সে ভুল বলছে।

তাহলে প্রশ্ন আসে, ওই ছবি এখন কেন টাঙানো হয় না? কেন আমরা দেখি না? কারণ, ঝুঁকি আছে। যেমন শেখ হাসিনার সময়ে অনেক ছবি, অনেক কবিতা নিষিদ্ধ ছিল।

শিল্পকর্মের কাজ হচ্ছে প্রশ্ন তোলা এবং মানুষকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলা।
সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্য নির্দেশক
সৈয়দ জামিল আহমেদ
ছবি: দীপু মালাকার
প্রথম আলো:

আপনি শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের পদ ছেড়েছেন। সেই যাত্রায় আপনি কোনো বাধার মুখে পড়েছিলেন?

সৈয়দ জামিল আহমেদ: অবশ্যই পড়েছি। একদিক থেকে আমি ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) কাছ থেকে চ্যালেঞ্জ পেয়েছি। কারণ, ডিসিরা অনেক কাজ করতে দেয়নি। যদিও আমি সেক্রেটারি (সচিব) পদে ছিলাম, ডিসিরা ডেপুটি সেক্রেটারি (উপসচিব) পদে। তবু তারা নানাভাবে আমাকে কাটিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ ও খুলনা কিংবা বাগেরহাটে তারা কাজ আটকে দিয়েছে। তারা বলেছিল, গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে, সমস্যা হতে পারে। তারা যাত্রাপালা করতে দেবে না। এভাবে নানা ধরনের বাধা দেওয়া হয়েছে। এটাকে আমি একধরনের গ্রাসরুট (তৃণমূল) পর্যায়ের বাধা বলব।

আরও পড়ুন

প্রথম আলো :

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকেও বাধা পাওয়ার কথা বলেছেন।

সৈয়দ জামিল আহমেদ: মন্ত্রণালয় থেকেও বারবার বাধা এসেছে। কারণ, শিল্পকলা একাডেমির স্বায়ত্বশাসনের জন্য আমরা একটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করেছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের যিনি প্রধান ছিলেন, তিনি সেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেননি। অথচ এটা স্বাক্ষর করা ছিল আমাদের রেজোল্যুশনের অংশ। তিনি সেটাকে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।

বরং তিনি আমাকে চেক সই করতে বলেছিলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরে দেবেন বলে, যেখানে চেক সই করার কথাই ছিল না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তো আমার সই করার কথা নয়। গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে স্বচ্ছতার জন্য। মানুষ তো এসব অনেক দেখেছে।

শিল্পকলা একাডেমির স্বায়ত্বশাসনের জন্য আমরা একটি নতুন প্রস্তাব তৈরি করেছিলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের যিনি প্রধান ছিলেন, তিনি সেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেননি।
সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্য নির্দেশক
স্পর্ধা অ্যাটেলিয়ারে সৈয়দ জামিল আহমেদ
ছবি: মীর হোসেন
শিল্পকলা একাডেমির অভ্যন্তরে বিভাজন ছিল। একদল আওয়ামী লীগের পক্ষে, আরেক দল বিএনপির পক্ষে। কেউ গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষে, কেউ তার বিপক্ষে। একধরনের মারমুখী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্য নির্দেশক
প্রথম আলো:

সেই সময় শিল্পকলায় নানা ধরনের বিভাজনের কথা শোনা গেছে...

সৈয়দ জামিল আহমেদ: শিল্পকলা একাডেমির অভ্যন্তরে বিভাজন ছিল। একদল আওয়ামী লীগের পক্ষে, আরেক দল বিএনপির পক্ষে। কেউ গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষে, কেউ তার বিপক্ষে। একধরনের মারমুখী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টা খুবই আইরনিক। আপনারা দেখেছেন, প্রথম আলোতে মব আগুন দিয়েছে। একইভাবে শিল্পকলা একাডেমিতেও আগুন দেওয়া হতে পারত। শিল্পকলার স্বার্থে আমি তখন নাটকটা বন্ধ করতে বাধ্য হই, নিজের রেপুটেশনের (সুনাম) চিন্তা না করে।

আমার ভুল ছিল, আমি মঞ্চে গিয়ে সেটা ঘোষণা করেছিলাম। আসলে আমি ওদের থামাতে চেয়েছিলাম। অন্যথায় শিল্পকলা একাডেমিতেও আগুন দেওয়া হতে পারত। আমি নাটক বন্ধ করার মানুষ নই।

আমার বিশ্বাস ছিল, মানুষ তা বুঝবে। শিল্পকলায় আমার জন্য কারও কারও দুর্নীতি করতে অসুবিধা হচ্ছিল, ফলে আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কাজ করতে না পারলে ওখানে থেকে কী করব।

আমি সেখানে চাকরি করার জন্য, টাকা পাওয়ার জন্য বা কোনো বড় সম্মান পাওয়ার জন্য যাইনি। গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন শিল্পভাষা সৃষ্টি করতে, পরিবর্তনের কাজ করার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু নানাভাবে সেই কাজটা করতে দেওয়া হয়নি। তবে এটা নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।

প্রথম আলোতে মব আগুন দিয়েছে। একইভাবে শিল্পকলা একাডেমিতেও আগুন দেওয়া হতে পারত।
সৈয়দ জামিল আহমেদ, নাট্য নির্দেশক
মেটা থিয়েটারের পোস্টার
ছবি: স্পর্ধার সৌজন্যে
আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

আপনি তো স্পর্ধার সঙ্গে কাজে ফিরেছেন...

সৈয়দ জামিল আহমেদ: স্পর্ধার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলাই এখন আমার কাজ। শিল্পকলা ছাড়ার পর থেকে আমরা নতুনদের নিয়ে উৎসব করেছি। এরপর এখানে একাধিক ওয়ার্কশপ করেছি। আমরা নিজেদের একটি স্টুডিও তৈরি করেছি। একটি একাডেমিও তৈরি করেছি।

এখন আমরা একটার পর একটা কাজ করব। আমরা বাচ্চাদের নিয়ে পরপর তিনটি শিশুনাট্য করেছি। এখন এই মেটা থিয়েটারের পর আমরা আরেকটি মেটা থিয়েটার নিয়ে কাজ করব। প্যারাথিয়েটার করেছি।

অনেকে বলে আমরা খুবই সিরিয়াস কথা বলি, তাই কয়েকটা হাসির নাটকও করব। তারপর আমাদের আশা আছে আন্তিগোনে করব। এরপর আরও একাধিক নাটকের পরিকল্পনা আছে।