কোটি কোটি ভিউ! এ নাটক নিয়ে এত আলোচনা কেন

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ও কেয়া পায়েলনির্মাতার সৌজন্যে

‘দীর্ঘদিন পর পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটা ধারাবাহিক নাটক পেলাম। নাটকটি সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’—এটা আমাদেরই গল্প নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন সুমন ইসলাম নামের এক দর্শক। এক পরিবারের টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিকটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড়।

গত ৫ নভেম্বর থেকে একযোগে চ্যানেল আই ও ইউটিউব চ্যানেল ‘সিনেমাওয়ালা’তে প্রচারিত হচ্ছে এটা আমাদেরই গল্প। গত বুধবার মুক্তি পেয়েছে ১৯তম পর্ব। তিন দিনের ব্যবধানে পর্বটি ৯৬ লাখের বেশিবার দেখা হয়ে গেছে। সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে ধারাবাহিকটির প্রথম পর্ব ১ কোটি ৩০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। এর বাইরে কোনো পর্ব ১ কোটি বার, কোনো পর্ব ৮০ লাখের বেশিবার দেখেছেন দর্শক।

নাটকটি প্রতি মঙ্গল ও বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় চ্যানেল আইয়ে এবং বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাচ্ছে। মারিয়া তাবাসসুম নামের এক দর্শক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমাদের পুরো পরিবার নাটকটি দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকি।’

ধারাবাহিকটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ। ধারাবাহিকটির মোট ৫২টি পর্ব প্রচারিত হবে। এপ্রিলে এর প্রচার শেষ হবে।

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার ও কেয়া পায়েল
নির্মাতার সৌজন্যে

কেন এত আলোচনা

একসময় ঢাকার ধারাবাহিক নাটকের বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। বিদেশি ধারাবাহিকে ঝুঁকেছেন দর্শকেরা। এর মধ্যেই এটা আমাদেরই গল্প আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। দর্শকেরা বলছেন, ধারাবাহিকটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখার মতো। পাশাপাশি এর গল্প ও চরিত্রের মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন তাঁরা।

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ ও সুনেরাহ্ বিনতে কামাল
নির্মাতার সৌজন্যে

আরিফা জান্নাত নামের এক দর্শক ইউটিউবে মন্তব্য করেছেন, ‘গল্পে জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত, সম্পর্ক ও আবেগের জটিলতা ভালো লাগল। পরিবার, বন্ধু ও সামাজিক বন্ধনের নানা দিক নাটকে জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। গল্পের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ্য।’

এতে ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা মিঠু, নাদের চৌধুরীসহ অনেকে অভিনয় করেছেন।

শিল্পীদের অভিনয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। নিশাত সাইমা নামের আরেক দর্শকের ভাষ্য, ‘পরিবারের মধ্যে ঘটে যাওয়া আমাদের গল্পগুলো ধারণ করেছে প্রত্যেক শিল্পী। বাস্তব চরিত্রই যেন হয়ে উঠেছে সবাই। প্রেম, বিচ্ছেদ, বিবাহের জটিলতা, শ্বশুর, বাবা, মা, মেয়ের আবেগ জড়িয়ে নিয়েছে দর্শককে।’

আরও পড়ুন
নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ
নির্মাতার ফেসবুক থেকে

ধারাবাহিকটি দর্শক কেন দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পারিবারিক গল্প সব সময়ই আলাদা জায়গা তৈরি করে। কারণ, এখানে বয়স, শ্রেণি, ভেদাভেদ থাকে না। সবাই কোনো না কোনো চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারে। আমার মনে হয়, দর্শক এটা পছন্দ করছেন। কারণ, গল্পটা খুব বাস্তব, আবেগগুলো অতিরঞ্জিত নয়। আর চরিত্রগুলো একেবারেই চেনা মানুষদের মতো। প্রতিদিন আমরা যে সম্পর্কগুলো দেখি, পরিবারের ভেতরের টানাপোড়েন, না-বলা কষ্ট, ভালোবাসা আর দায়িত্ব—সবকিছু মিলিয়েই মনে হয়েছে, এটা শুধুই একটা গল্প নয়, এটা আমাদেরই গল্প। তাই নামটাও এমন রাখা, যেন নিজের জীবনকে এর ভেতরে খুঁজে পায় দর্শক। এখানে হাসি আছে, কান্না আছে, আবার নীরব কষ্টও আছে, যেটা অনেক সময় আমরা নিজেরাই অনুভব করি।’

অভিনেতা খায়রুল বাসারও বলছেন একই কথা, ‘দর্শক এই গল্প লুফে নিচ্ছেন। কারণ, তাঁরা এটা আমাদেরই গল্পর সঙ্গে নিজের পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক-ক্রাইসিস রিলেট করতে পারছেন।’

সুনেরাহ্ বিনতে কামাল বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি, কেউ না কেউ নাটকটি নিয়ে, আমার অভিনয় নিয়ে প্রশংসা করছে। আমাকে অনেকেই এখন সায়রা (নাটকের চরিত্র) বলে ডাকে। মজা লাগে।’

আরও পড়ুন

‘কনসেপ্ট কপি নয়, অনুপ্রাণিত’

দর্শকদের কেউ কেউ ধারাবাহিকটির সঙ্গে পাকিস্তানি ধারাবাহিক কাভি মে কাভি তুম-এর মিল খুঁজে পাওয়ার কথা বলছেন। বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা বলছেন, স্টোরিটা ইন্সপায়ার্ড, কপি নয়, ‘এই স্টোরির কনসেপ্টটা ইন্সপায়ার্ড (অনুপ্রাণিত)। সেটা থেকে (অনুপ্রাণিত হয়ে) আমি আমার মতো করে আমাদের চারপাশের প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে নিচ্ছি।’

রাজের ভাষ্য, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ওদের কনসেপ্ট থেকে গল্পটাকে পুরোপুরি আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ আর পারিবারিক বাস্তবতায় মানিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশি পরিবারের সম্পর্কের ধরন, আবেগ প্রকাশের ভাষা, সামাজিক চাপ—সবকিছু আলাদা। সেই জায়গাগুলোতে আলাদা করে কাজ করতে হয়েছে, যেন দর্শকের মনে কখনোই এটা মনে না হয় যে গল্পটা বাইরের। এটাকে একেবারেই নিজেদের গল্প করে তোলাটাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।’