default-image

লজ্জায় সিন্দুকে

একদিন মোল্লা দেখলেন যে এক চোর তাঁর বাড়িতে ঢুকেছে। ব্যাপারটা টের পেয়ে খুবই সাবধানে-সন্তর্পণে মোল্লা তাঁর বিরাট সিন্দুকটার ভেতরে গিয়ে লুকালেন। এদিকে চোর ঘরময় ঘুরে বেড়াল, বাক্সপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করল। কিন্তু কিছুই মিলল না। রেগেমেগে যেই না চোর ব্যাটা সিন্দুকের মুখ খুলেছে, অমনি মোল্লা মাথা তুলে বলে উঠলেন, ‘চোর বাবাজি, আপনার নেওয়ার মতো কোনো জিনিসই নেই। তাই লজ্জায় আমি সিন্দুকে এসে লুকিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

বাদশাহ যখন এক নম্বর বেকুব

পারস্য দেশের কয়েকজন ব্যবসায়ী এসেছেন দরবারে বাদশাহর পছন্দসই ঘোড়া বিক্রি করতে। বাদশাহ বেশ কিছু ভালো ঘোড়া কিনলেন। এর চেয়েও ভালো ঘোড়া তাঁদের দেশে আছে শুনে বাদশাহ তাঁদের এক শ মোহর অগ্রিম দিলেন। এ ঘটনার দিন কয়েক পর বাদশাহ নাসিরুদ্দিন হোজ্জাকে হুকুম দিলেন, তাঁর রাজ্যে যত বোকা, কম বুদ্ধির লোক আছে, তাদের একটা তালিকা প্রস্তুত করতে। দুদিন প্রচণ্ড খেটেখুটে হোজ্জা ২৬ পাতার একটা তালিকা প্রস্তুত করলেন। তালিকার ওপর চোখ বোলাতেই বাদশাহ দেখলেন, ওতে সবার প্রথমে তাঁর নিজের নাম।

‘সে কী মোল্লা, আমার নাম সবার প্রথমে কেন?’

‘বাহ রে, অজানা-অচেনা ইরানি ব্যবসায়ীদের সম্বন্ধে কোনো কিছু না জেনেই এককথায় এতগুলো মোহর যিনি অগ্রিম দেন, তাঁকে তো বেকুবদের তালিকায় প্রথমেই রাখতে হবে।’

‘আর, তারা যদি সত্যি সত্যি ভালো ঘোড়া নিয়ে হাজির হয়, তাহলে?’ বাদশাহ আশান্বিত হয়ে বলেন।

‘হুজুর, তাহলে আর কি, তাহলে ওই তালিকার প্রথম বেকুব আপনার নাম কেটে, তাদের নামই বসিয়ে দেব’, মোল্লা নাসিরুদ্দিন বললেন।

প্রথমা প্রকাশনের নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ১০০ গল্প বই থেকে

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন