default-image

হ-য-ব-র-ল

লোকশ্রুতি আছে, ব্যাকরণবিদ পাণিনি একবার হিমালয়ে গিয়ে ধ্যান করেন। শিব এতে খুশি হয়ে ১৪ বার ঢাক বাজান। প্রতিবার ঢাক বাজানোর সময় এক এক গুচ্ছ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। ১ থেকে ৪ নম্বর গুচ্ছে তৈরি হয় স্বরধ্বনি। ৭ নম্বর গুচ্ছে নাসিক্যধ্বনি। ৮ থেকে ১২ নম্বর গুচ্ছে স্পর্শধ্বনি। ১৩ ও ১৪ নম্বর গুচ্ছে উষ্মধ্বনি। তবে ৫ নম্বর গুচ্ছে হ-য-ব-র এবং ৬ নম্বর গুচ্ছে ল ধ্বনি তৈরি হয়।

এ দুটি গুচ্ছে অন্তঃস্থ বর্ণ ও উষ্ম বর্ণ এলোমেলো হয়ে মিশে রয়েছে। এখান থেকে হ-য-ব-র-ল অর্থ হয়েছে বিশৃঙ্খল বা এলোমেলো।

ক অক্ষর গোমাংস

একসময় ভারতবর্ষের মানুষ প্রচুর পরিমাণে গরুর মাংস খেত। কৃষিনির্ভর সমাজে তখন গরু ছাড়া ভাবাই যেত না। খাওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে গোহত্যার ফলে দুশ্চিন্তা দেখা দিল, চাষবাসের কাজে যদি গরুর সংকট তৈরি হয়!

এই ধারণা থেকে সেন আমলে গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়। একইভাবে, কোনো ব্যক্তি যদি বর্ণমালার ক অক্ষরও গোমাংসের মতো মুখে না আনে, তবে তার আর বর্ণ শেখা হয় না। সে নিরক্ষর থেকে যায়। ক অক্ষর গোমাংস অর্থ তাই নিরক্ষর, মূর্খ।

বিদ্যার দিগ্‌গজ

বিদ্যার দিগ্‌গজ মানে মহামূর্খ। বিদ্যা মানে জ্ঞান। আর দিগ্‌গজ শব্দ ভাঙলে হয় দিক্+গজ। ভারতীয় পুরাণ মতে, পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, নৈঋত, অগ্নি, বায়ু—এই আট দিকে আটটি গজ বা হাতি আছে। এসব হাতি আট দিকের রক্ষক। হাতিগুলোর নাম ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক। এরা বিভিন্ন দিকের খবর রাখে। তেমনি কোনো ব্যক্তি যদি হাতিগুলোর মতো কোনো দিকে বা বিষয়ে পণ্ডিত হন, তখন তাঁকে দিগ্‌গজ বলা যেতে পারে। তবে বাগ্‌ধারায় বিদ্যার দিগ্‌গজ বলতে ঠিক বিপরীত অর্থ বোঝানো হয়।

তারিক মনজুর: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন
একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন