মার্ক টালির মায়ের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়

আজ রোববার ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন খ্যাতনামা সাংবাদিক মার্ক টালি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন বিবিসির এই দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আমন্ত্রণে ঢাকায় এলে সে মাসের ২৩ তারিখ তাঁকে নিয়ে মূল রচনা প্রকাশ করেছিল প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করা হলো।

মার্ক টালি, ২০১৭ছবি: প্রথম আলো আর্কাইভ থেকে

স্মৃতি ’৭১। দাউ দাউ আগুনে পুড়ে যাচ্ছিল সব। পুড়ছিল ঘরবাড়ি, দোকানপাট। পুড়ছিল ফসলের গুদাম, গোয়াল ঘর, খড়ের গাদা। পাকের ঘর, যত্নে বেড়ে ওঠা তুলসী গাছ। মায়াঘেরা পুজোর ঘর। শোবার ঘর। প্রিয় বৈঠকখানা। বাড়ির সামনের রোয়াক। সবকিছু। উত্তুরে হাওয়ায় ভাসছিল ধোঁয়া আর লাশের গন্ধ।

কোথাকার হাওয়া কোথায় গিয়ে মেশে। বলতে পারে না কেউ। বাঙাল মুল্লুকের পোড়া গন্ধ কি গিয়ে পৌঁছে সেই দিল্লি অবধি? নাকি নাক উঁচু করে, একদম বুক ভরে শ্বাস নিয়েছিলেন মার্ক! আর মাঠ পেরিয়ে, বিল পেরিয়ে, উপত্যকা ডিঙিয়ে সেই পোড়া গন্ধটা ঠিকঠিক গিয়ে লেগেছিল তাঁর নাকে? নইলে সুদূর দিল্লিতে বসে টালি কী করে টের পেয়েছিলেন সব?

রেডিও পাকিস্তান প্রলাপ বকছে, এই সত্যটা ততদিনে পরিষ্কার টের পেয়ে গেছেন তিনি। নিজের সাংবাদিক সুলভ ‘সংবাদের গন্ধ শোঁকার নাক’ তাঁকে সংকেত দিচ্ছিল—ভয়ঙ্কর কিছু ঘটছে পূর্ব পাকিস্তান নামের ব-দ্বীপটাতে। কিন্তু টের পেলেই কী?

পাকিস্তানের হর্তাকর্তাদের চোখে ঠুলি, কানে তুলো। দেন-দরবার, কাকুতি-মিনতি সব শুনতে রাজি। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ? কব্বি নেহি। তবে পিছু হটার পাত্র ছিলেন না মার্ক।

বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সে দফায় ‘না’কে ‘হ্যাঁ’ করাতে পেরেছিলেন যাঁরা তাঁদের একজন ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) নয়াদিল্লি প্রতিনিধি মার্ক টালি।

পূর্ব পাকিস্তানে পা দিয়েই মার্ক বুঝেছিলেন তাঁর সন্দেহ মিছে নয়। পশ্চিম পাকিস্তানিদের জিঘাংসার আগুনে পুড়ে খাক হওয়া সারি সারি বাড়িঘরই পরিষ্কার বলে দিচ্ছিল সব। চটজলদি সরে পড়ার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানিরা চাপ দিচ্ছিল।

অতএব সে দফায় দ্রুত ফেরত যেতে হলো মার্ককে। কিন্তু ওই এক দেখাতেই যা বোঝার বুঝে নিয়েছিলেন তিনি।

অচিরেই মার্ক টালি আর তাঁর বিবিসির বদৌলতে দুনিয়া জেনে গেল পশ্চিম পাকিস্তানিদের বর্বরতার কাহিনী। পূর্ব পাকিস্তানের আক্রান্ত মানুষ খুঁজে পেল সত্যঘটনা আর বিশ্লেষণ পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা। যার নাম বিবিসি কিংবা মার্ক টালি।

১১ ডিসেম্বর, ২০০৬। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের আজন্ম বন্ধু মার্ক টালি এসেছেন ঢাকায়। জাদুঘর মিলনায়তনে তাকে ঘিরে অনুজ সাংবাদিক আর টিভি ক্যামেরার ভিড়। এক ফাঁকে মার্ক টালির দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তরুণ সাংবাদিক ‘মার্ক, বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে লড়ার জন্য কী করে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়েছিলেন আপনি?’

উত্তরটা বুঝি তৈরিই করে রেখেছিলেন টালি। তাই জবাব দিতে সময় নেন না একটুও—‘কোনো একটি পক্ষ নেওয়া মানেই নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বরবাদ করে দেওয়া। তাই মোটেও কোনো পক্ষ নিইনি আমি। যেটা সত্যি সেটাই আমি মানুষকে জানিয়েছি। শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়েছে। যেমনটি বরাবর হয়ে আসছে।’

বটে! বাংলাদেশকে তবে মোটেও ভালোবাসেননি মার্ক টালি? বাংলাদেশের জন্য কোনো টানই ছিল না তাঁর। কেবল আদর্শ সাংবাদিকের দায়িত্ব পালনের জন্যই করেছিলেন এতকিছু? শুনতে খুব ভালো লাগে না হয়তো। কিন্তু লন্ডন থেকে উড়ে আসা এক ইংরেজ সাংবাদিকের জন্য সেটাই তো খুব স্বাভাবিক। আর পাক্কা ৩০ বছর বিবিসির নয়াদিল্লির ঘাঁটি সামলেছেন যে বাঘা সাংবাদিক তিনি তো এ রকম কথাই বলবেন।

ছুটির দিনের প্রচ্ছদে মার্ক টালি
ছবি: প্রথম আলো

মার্ক টালির ফিরে আসা

পয়লা কথা, আক্ষরিক অর্থেই মার্ক টালির ‘মাতৃভূমি’ আমাদের এই বাংলাদেশ। মানে মার্ক টালির মায়ের জন্ম বাংলাদেশের আখাউড়ায়। পাট আর নীলের ব্যবসা করতেন মার্ক টালির নানা। তাঁর পাটের ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র ছিল নারায়ণগঞ্জ।

তবে এটা সত্যি, এখন বাংলাদেশ বলতে যে ভূখণ্ডকে বোঝায় সেখানে কিন্তু মার্ক টালির জন্ম নয়। মার্ক টালির জন্ম কলকাতায়। ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর। জন্মের পর ১০ বছর অবধি ভারতবর্ষেই কাটিয়েছেন মার্ক টালি। টালির ধনাঢ্য অ্যাকাউনট্যান্ট বাবা নিজে বিলেতি কেতাদুরস্ত মানুষ ছিলেন। ছেলে তাঁর মতো করে মানুষ হোক সেটাই মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন বাবা।

পরে মার্ক টালি নিজেই ছোটবেলার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন—‘সে সময় আমাদের পাঠানো হতো এমন স্কুলে যেখানে কেবল ইংরেজ ছেলেমেয়েরা পড়ে। আমাদের দেখাশোনার জন্যও রাখা হয়েছিল ইউরোপীয় আয়া। তাদের মূল কাজই ছিল ভারতীয় কাজের লোকদের কাছ থেকে আমাদের দূরে রাখা এবং কোনোভাবেই যাতে আমরা হিন্দি শিখে না ফেলি সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।’

এসব করেও বুঝি সত্যিকারের ইংরেজ হওয়াটা হয়ে উঠছিল না ছেলের। টালির যখন ১০ বছর বয়স তখন ভারতের পাঠ চুকিয়ে সপরিবারে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তাঁরা।

ইংল্যান্ডে মালবর্গ কলেজের পড়ালেখা শেষ করে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন মার্ক। ক্যামব্রিজে তাঁর পড়ার বিষয় ছিল ইতিহাস এবং ধর্মতত্ত্ব।

ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনার কারণেই সম্ভবত তরুণ টালি উত্সাহিত হয়েছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের যাজক হিসেবে জীবন গড়তে। আদর্শ যাজক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য নামও লিখিয়েছিলেন লিংকন থিওলজিক্যাল কলেজে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেখানে মন টেকেনি তাঁর। ফলাফল কেবল দুটো টার্মের লেখাপড়া শেষ করেই পৃষ্ঠভঙ্গ।

সেই ছোট্টবেলায় ভারত ছেড়েছিলেন সত্যি। কিন্তু ভারতকে মন থেকে কখনো মুছে ফেলতে পারেননি মার্ক টালি। ‘ইংল্যান্ড নামের দেশটা তখন খুব বিদঘুটে ঠেকছিল আমার কাছে। ভারতে ফেলে আসা ঝলমলে উন্মুক্ত আকাশের কাছে এই দেশটাকে মনে হচ্ছিল অন্ধকারে ভরা।’ ছোটবেলায় প্রথমবার ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রেখে নিজের এই অনুভূতির কথা এখনো অকপটে স্বীকার করেন টালি। আদতেই ভারতের উজ্জ্বল ঝলমলে আকাশ আর মাটির মায়া তাকে তাড়া করে ফিরছিল প্রতিনিয়ত। তাই বিবিসির লন্ডন দপ্তরে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মওকাটাকেই কাজে লাগালেন মার্ক। বিবিসির নয়াদিল্লি প্রতিনিধি হিসেবে আবার ফিরলেন ভারতে।

‘আমি বুক ভরে গন্ধ নিলাম। আর আচমকা আমার মনে পড়ে গেল সেই ছোট্টবেলার কথা। মন চলে গেল পেছনে। এতটাই দ্রুত যেন অসম্ভব দ্রুতগতির এক ইলেকট্রিক ট্রেনে চেপেছি আমি। অনুভব করলাম ভারত আসলেই আমার কাছে বিশেষ একটা কিছু।’ টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এভাবেই নয়াদিল্লি প্রতিনিধি হিসেবে ভারতে আসার দিনটির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন মার্ক টালি।

মার্ক টালির জন্মভূমিতে ফেরাটা জলে যায়নি। প্রথম যখন দিল্লি এসেছিলেন তখন হিন্দি ভাষাজ্ঞান ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। খুব দ্রুতই নিজেকে বদলেছিলেন তিনি। সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ৩০ বছরের মধ্যে এই উপমহাদেশে ঘটে যাওয়া সব বড়সড় ঘটনার অন্যতম বিশ্লেষক তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা, কিংবা ভূপালের রাসায়নিক বিপর্যয়ের মতো ঘটনা নিয়ে তাঁর তাত্পর্যপূর্ণ এবং যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে বিবিসির দর্শক-শ্রোতাদের।

এমনকি বিবিসি ছাড়ার পরও এখন এই উপমহাদেশ বিষয়ক সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞদের একজনের নাম মার্ক টালি। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আলোচনা? মার্ক টালির চেয়ে ভালো কে করতে পারে?

তাই বলে আবার ভাববেন না কেবল বড়সড় বিষয়গুলো নিয়েই মাথা ঘামান টালি। লক্ষেৗয়ের কোন দোকানে গেলে সেরা কাবাবটা মেলে, কিংবা দিল্লির কোন দোকানে পাওয়া যায় বাহারি মসলার পান—সব তাঁর ঝাড়া মুখস্থ।

আরও পড়ুন

‘ট’তে ট্রেন ‘ট’তে টালি

দিল্লি থেকে রেলগাড়িতে চেপেছেন মার্ক টালি। যাবেন চণ্ডীগড়। টালির পাশে বসেছেন পশ্চিমা আরেক সাহেব। তো ট্রেন যাওয়ার পথে রেলগাড়ি যথারীতি কচ্ছপগতিতে এগোচ্ছে। আর খানিক পরপর স্টেশন পেলেই থামছে। ভারতীয় ট্রেনের ভাবসাব তো টালির ভালোই জানা। তাই নির্বিকার তিনি। কিন্তু পাশের ভদ্রলোক ভারতে নতুন। রেলগাড়ির গদাইলস্করি চাল সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ টালিকে উদ্দেশে বলেই ফেললেন— ‘এই ট্রেনটা বড্ড স্লো।’

টালির জবাব, ‘ট্রেনটা দ্রুতগতির। কিন্তু এগুচ্ছে ঢিমেতালে।’

অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে এটি টালির প্রিয় রসিকতাগুলোর একটি। বাংলাদেশের বেলায়ও টালি মনে করেন এই কথাটা খুব সত্যি।

বাবা এক সময় রেলওয়ের চাকুরে ছিলেন বলেই সম্ভবত রেলগাড়ির প্রতি অদ্ভুত একটা আকর্ষণ সব সময় কাজ করে মার্ক টালির মধ্যে। কাছে কিংবা দূরে যেখানে রেল যাতায়াত আছে সেখানে অন্য কোনো বাহনে চাপতে নারাজ টালি।

‘রেল ভ্রমণের চেয়ে রোমাঞ্চকর কিছু হতে পারে না। রেল ভ্রমণের আনন্দের কাছে বিমান ভ্রমণ নস্যি’ বলেই টালির ধারণা। ভারতে রেল ভ্রমণ বিষয়ে জবরদস্ত একখানা বইও লিখেছেন মার্ক টালি। বইয়ের নাম দ্য গ্রেট রেলওয়ে জার্নিস।

ট্রেন নিয়ে মার্ক টালির আরেকটা ঘটনা বলি। এবারে ১১ ডিসেম্বর ঢাকা আসার আগেরবারের ঘটনা সেটা। যমুনা সেতু সবে উদ্বোধন হয়েছে। এর মধ্যে সেতুতে রেললাইন থাকবে কি না এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রেললাইন ছাড়া এত বড় সেতু? কিছুতেই মানতে পারলেন না মার্ক টালি। শুধু কথায় তো আর চিঁড়ে ভেজে না। অতএব মার্ক টালি স্রেফ নিজের গরজেই শুরু করলেন ছুটোছুটি। বিশ্বব্যাংক আর এডিবির হর্তাকর্তাদের বোঝালেন—রেললাইন থাকা চাই-ই চাই। কেবল টালি নামের রেলপাগল মানুষটার আবদারের কারণে হয়তো নয়। তবে এটা ঠিক শেষ পর্যন্ত রেললাইন কিন্তু চালু হয়েছে আমাদের যমুনা সেতুতে।

আরও পড়ুন

ঢাকায় মার্কটালি

এই ৩৫ বছর পরে এসে আজকের বাংলাদেশ নিয়ে মার্ক টালি কি খুশি পুরোপুরি?

মার্ক টালি দেখেছেন আকারে-আয়তনে অনেক বড় হয়েছে ঢাকা। মাথা উঁচু করে উঠেছে ঝকমকে সব বহুতল ভবন। কিন্তু যমুনা সেতুর ওপারের ওই গ্রামগুলো? সেগুলো আছে সেই আগের মতোই।

‘গ্রাম এলাকায় কী উন্নয়ন হলো সেটা দেখতেই উদগ্রীব ছিলাম আমি। স্রেফ রাজধানী দেখে সমগ্র দেশের উন্নয়ন চিত্র বোঝার চেষ্টা বোকামি।’ মন্তব্য মার্ক টালির।

এবারের ঢাকা সফরটা খুব ব্যস্ততার মাঝে কেটেছে মার্ক টালির। বক্তৃতা, মতবিনিময় এসবের ফাঁকেই ঘুরে যেতে ভোলেননি রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ এলাকা। এক ফাঁকে এসেছিলেন প্রথম আলো কার্যালয়েও। বলেছেন, বাংলাদেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সত্যি। তবুও টালি বিশ্বাস করেন, এই দেশে আবারও পরিচ্ছন্ন একটা নির্বাচন হবে এবং পরাজিত দল মেনে নেবে তাদের পরাজয়।

 সেই যে একবার ইংল্যান্ড ছেড়েছিলেন টালি আর পাকাপাকিভাবে ফেরা হয়নি তাঁর। চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে তাঁর আগের স্ত্রী মার্গারেট থাকেন লন্ডনেই। কিন্তু এই উপমহাদেশের টান কিছুতেই কাটাতে পারেননি টালি। ‘কেন?’ এই প্রশ্নটা করতেই এতক্ষণ সব প্রশ্নের ত্বরিত জবাব দিচ্ছিলেন যে মানুষটা তিনি একটু নড়েচড়ে বসেন। কবজিতে লাল সুতো বাঁধা ডান হাতটা কায়দা করে চিবুকের ওপর রেখে কী যেন ভাবেন খানিক। তারপর মুখ খোলেন—‘হয়তো ঈশ্বর চেয়েছেন তাই।’ বলেই আবার নিমেষের জন্য ভাবনার দুনিয়ায় ডুবে যান। কে জানে, তাঁর ৭০ বছর বয়সী চোখে হয়তো সেই ছোটবেলার মিষ্টি স্মৃতি ভাসে। নিজের অজান্তেই হয়তো টালি চেপে বসেন স্মৃতি নামের সেই দ্রুতগামী রেলগাড়িতে। কু উ উ ঝিক ঝিক। কুউ ঝিক ঝিক। (ঈষৎ সংক্ষেপিত)

আরও পড়ুন