চাকরির ইন্টারভিউয়ে ৭-৩৮-৫৫ নিয়ম কী, সফল হতে চাইলে কেন এটি প্রয়োগ করবেন

ভাবুন, আপনি একটি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গেছেন। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবু দেখা গেল, ভালো উত্তর দেওয়ার পরও চাকরিটা হলো না। কেন এমন হয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে একটি বিখ্যাত মনোবৈজ্ঞানিক সূত্রে—৭-৩৮-৫৫ নিয়ম। কী এই নিয়ম, আর এই নিয়ম কেন কার্যকর?

মানুষের কাছে আপনার বার্তার সবচেয়ে বড় অংশ পৌঁছে যায় কথার মাধ্যমে নয়, আপনার আচরণ ও ভঙ্গিমার মাধ্যমেমডেল: জুলফিকার। ছবি: কবির হোসেন

ভাবুন, আপনি একটি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গেছেন। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবু দেখা গেল, ভালো উত্তর দেওয়ার পরও চাকরিটা হলো না। কেন এমন হয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে একটি বিখ্যাত মনোবৈজ্ঞানিক সূত্রে—৭-৩৮-৫৫ নিয়ম। কী এই নিয়ম, আর এই নিয়ম কেন কার্যকর?

ধারণাটি দেন মনোবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট মেহরাবিন। ইরানি-মার্কিন এই মনোবিজ্ঞানী ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ১৯৬৭ সালে অ্যালবার্ট মেহরাবিন যোগাযোগ ও আবেগ প্রকাশ নিয়ে গবেষণা করার সময় ৭-৩৮-৫৫–এর ধারণা দেন।

এই নিয়ম অনুযায়ী—

যেকোনো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনি কী বলছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কীভাবে বলছেন আর আপনার শরীরী ভাষা কেমন।

৭ শতাংশ = আপনি কী বলছেন (শব্দ)

৩৮ শতাংশ = কীভাবে বলছেন (কণ্ঠস্বর)

৫৫ শতাংশ = আপনার শরীরী ভাষা (বডি ল্যাঙ্গুয়েজ) গুরুত্ব বহন করে।

অর্থাৎ, মানুষের কাছে আপনার বার্তার সবচেয়ে বড় অংশ পৌঁছে যায় কথার মাধ্যমে নয়, আপনার আচরণ ও ভঙ্গিমার মাধ্যমে।

কেন শরীরী ভাষা এত গুরুত্বপূর্ণ?

ধরুন, কেউ বলল, ‘আমি ভালো আছি।’ কিন্তু তার মুখভঙ্গি বিষণ্ন, কণ্ঠস্বর দুর্বল। তখন আপনি কথার চেয়ে তার মুখ ও আচরণকেই বেশি বিশ্বাস করবেন। ঠিক একই জিনিস ঘটে চাকরি বা যেকোনো সাক্ষাৎকারে।

এই লেখার শুরুতে যেটি বলছিলাম। আপনি হয়তো সব উত্তর ঠিকঠাকই দিয়েছেন। তবে শরীরী ভাষার মাধ্যমে অপর পক্ষকে বোঝাতে বা বিশ্বাস করাতে সক্ষম হননি।

এককথায় আপনার শরীরী ভাষায় বোর্ড আশ্বস্ত হয়নি। আর সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্টারভিউয়ে ৭-৩৮-৫৫ নিয়ম কীভাবে কাজ করে?

অনেক সময় প্রার্থী—

ভালো উত্তর দেন। কিন্তু উত্তরটা ভালো করে দেন না। অর্থাৎ, চোখে চোখ রেখে কথা বলেন না। কণ্ঠস্বরে অস্পষ্টতা বা দুর্বলতা থাকে। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে।

ফলে সাক্ষাৎকার যিনি বা যাঁরা নিচ্ছেন, তাঁরা মনে করেন, এই ব্যক্তি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নন বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযুক্ত নন।

এ কারণেই বলা হয়, জব ইন্টারভিউয়ে সাফল্য নির্ভর করে ‘আপনি কী বলছেন’ তার ওপর কম, ‘আপনি কীভাবে বলছেন’ তার ওপর বেশি।

অনেকেই শুধু উত্তর মুখস্থ করেন। কিন্তু সেটি মুখস্থ করেন, আত্মস্থ করেন না বা বিশ্বাস করেন না। গলার স্বর, শরীরের ভাষা বা নিজের আত্মবিশ্বাসী শারীরিক উপস্থিতির দিকে খেয়াল রাখেন না। এর ফলে ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও তাঁরা ব্যর্থ হন।

আরও পড়ুন

কীভাবে ৭-৩৮-৫৫–এর এই নিয়ম কাজে লাগাবেন?

১. নিজের ‘প্র্যাকটিস ভিডিও’ করুন

নিজেকে রেকর্ড করে দেখুন—কণ্ঠস্বর, চোখের যোগাযোগ, ভঙ্গি কেমন। সেসব দেখে নিজেকে সংশোধন করুন। বারবার শুধরে নিন। যখন আপনি নিজের ভিডিও দেখে নিজেই সন্তুষ্ট, তখন বুঝবেন, আপনি প্রস্তুত।

২. আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি রাখুন

  • সোজা হয়ে বসুন।

  • চোখে চোখ রেখে কথা বলুন।

  • ফুরফুরে মেজাজে থাকুন।

কোনো বিষয় না জানলে সেটি সুন্দরভাবে জানান। বলুন যে আপনি বোর্ড থেকে বের হয়েই বিষয়টি জেনে নেবেন।

৩. কণ্ঠস্বর ঠিক রাখুন

স্পষ্টভাবে কথা বলুন। খুব দ্রুত বা খুব ধীরে নয়। স্বাভাবিক ও উষ্ণ স্বর ধরে রাখুন।

আরও পড়ুন

৪. শরীরী ভাষায় খেয়াল করুন

হাত-পা বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। সহজ ও স্বাভাবিক ভঙ্গি রাখুন। শরীরী ভাষা ঠিক করা এক দিনের কর্ম নয়। আপনি কোত্থেকে উঠে এসেছেন, কিসের ভেতর দিয়ে গেছেন, এসবই শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ফুটে ওঠে। শরীরী ভাষা ঠিক করতে ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন।

৫. বাস্তব পরিস্থিতিতে চর্চা করুন

বন্ধুর সঙ্গে মক ইন্টারভিউ দিন। এআই ব্যবহার করে মক ইন্টারভিউ দিতে পারেন। নিজেকে বাস্তব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করুন।

সূত্র: দ্য এভরিগার্ল

আরও পড়ুন