বিয়ের আগে, মাঝে এবং পরে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

শুধু সাজসজ্জার কারসাজি দিয়েই কনেকে সুন্দর করে তোলা যায় না। ভেতর থেকে বের করে আনতে হয় কনের সৌন্দর্য। এ জন্য বিয়ের আগে থেকেই আলাদা একটা প্রস্তুতি দরকার। সাধারণত বিয়ের আয়োজনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে ব্যবধান থাকে খুব কম। বিয়ে–পরবর্তী নেমন্তন্নও থাকে। সবকিছুর মধ্যেই কৌশলে যত্ন নিতে হবে। এ বিষয়ে সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্র পারসোনার পরিচালক নুজহাত খান-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম

আগে থেকে যত্ন নিলে বিয়ের সময় ত্বক থাকবে ভালোমডেল: বর্ণ, শাড়ি: টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, গয়না: কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেস, সাজ: নুজহাত খান, স্থান কৃতজ্ঞতা: ক্যানভাস স্টুডিও, ছবি: কবির হোসেন

বিয়ের আগে

বিয়ের অন্তত তিন মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। তবে সবাই সেই সুযোগ না-ও পেতে পারেন। এমন যদি হয় যে আপনার বিয়ের আর সপ্তাহখানেক আছে, তাহলে এই সময়টাকেই কাজে লাগানো ছাড়া অন্য উপায় নেই।

তবে মনে রাখতে হবে, রাতারাতি নিজেকে বদলে ফেলার মতো কিছু করা যাবে না। এ সময় কেমিক্যাল পিলিং এবং রেটিনয়েড–জাতীয় উপকরণ এড়িয়ে চলুন। ফেসিয়াল, বডি স্ক্রাব, ম্যানিকিউর, পেডিকিউর করাতে পারেন। বাড়িতে হাইড্রেটিং সিরাম, টোনার, এসেন্স, হাইড্রেটিং ফেস মিস্ট, আই ক্রিম প্রভৃতি ব্যবহারে উপকার মিলবে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম দারুণ কাজে আসে। তবে এ সময় এমন কোনো প্রসাধন ব্যবহার না করাই ভালো, যা আপনি আগে ব্যবহার করেননি। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া হয়। তাতে ত্বক ভেতর থেকে সতেজ থাকবে।

আরও পড়ুন

বিয়েতে

বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাধারণত খুব একটা বড় বিরতি থাকে না। ভারী মেকআপ আর চুলের ভারিক্কি সাজসজ্জা তো থাকেই, ঘুমেরও ব্যাঘাত হয়। সামাজিক কারণে কনে বাড়তি একটা মানসিক চাপও অনুভব করতে পারেন। সব মিলিয়ে কনের ত্বক ও চুলের ওপর খানিকটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনুষ্ঠানের পর ঘরে ফিরে সাজসজ্জা তোলার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। অয়েল–বেজড মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করুন। তারপর মৃদু ধরনের ফোমিং ক্লিনজার প্রয়োগ করুন।

ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে খেয়াল রাখুন
ছবি: সুমন ইউসুফ

ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। পর্যাপ্ত পানি খান। সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। এই স্বল্প বিরতিতেও হাইড্রেটিং সিরাম কাজে লাগবে। এসব বিষয়ে খেয়াল রাখলে ত্বকে পিম্পল হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়, ত্বক শুষ্কও দেখায় না। বিশ্রামও নিন যতটা সম্ভব। যত্ন নিন মনের।

চুলে ব্যবহৃত সাজের উপকরণ খোলার সময় সতর্ক থাকুন। চুলের জট ছাড়ান খুব সাবধানে। কাজে লাগান মোটা দাঁতের চিরুনি। প্রয়োজনে বাড়ির অন্য কারও সাহায্য নিন। ওই দিনই ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। পরে সালফেটমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। প্রোটিনসমৃদ্ধ কন্ডিশনার বেছে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন

বিয়ের পরে

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষেও বেশ কিছুদিন ধরে চলে নেমন্তন্ন। নিজেদের বাড়িতেও থাকে নানা আয়োজন। তবে বিয়ের পর অন্তত দুই সপ্তাহ ভারী মেকআপ প্রয়োগ কিংবা চুলের ভারিক্কি সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। চুলের যে ধরনের স্টাইলে যন্ত্রের উত্তাপকে কাজে লাগানো হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। বরং ভারিক্কি সাজ ছাড়াই নিজের সত্যিকার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলুন এ সময়। আপনি যেমন, তেমনই সুন্দর, যদি নিজের যত্ন করেন। সবার চুল স্ট্রেইট নয়, সবার চুল কোঁকড়া বা ঢেউখেলানোও নয়। ত্বকের রংও সবার এক নয়। গায়ের রং বা চুলের ধরন কখনোই সৌন্দর্যের মূল নয়। নিজস্বতা বজায় রাখুন। থাকুন আত্মবিশ্বাসী। তাতে সৌন্দর্যের জন্য অকারণ সময় বা শ্রম দিতে হবে না।

ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইডস বা স্কোয়ালেন–সমৃদ্ধ প্রসাধন
ছবি: সুমন ইউসুফ

সতেজ থাকতে সহজ এই চর্চাগুলো করুন—

  • সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন।

  • রোজ অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমান।

  • মাথার ত্বক ও চুলে সপ্তাহে অন্তত একবার উষ্ণ তেল মালিশ করুন।

  • চুলের জন্য সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

  • ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখুন। ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইডস বা স্কোয়ালেন–সমৃদ্ধ প্রসাধন।

  • দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে ভিটামিন সি, নায়াসিনামাইড, মৃদু এক্সফোলিয়েন্টস ব্যবহার করা শুরু করতে পারেন।

  • হাইড্রেটিং ফেসপ্যাক বা শিট মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে এক দিন।

  • এক মাস বা দেড় মাস অন্তর ফেসিয়াল করাতে পারেন।

  • সানস্ক্রিনসামগ্রী ব্যবহার করুন নিয়মমাফিক।

আরও পড়ুন