এই একটি কারণে দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন না তো

বয়সের সঙ্গে দেহ, মস্তিষ্ক আর মনে নানা পরিবর্তন আসবেই। তবে বয়সের আগেও বুড়িয়ে যান অনেকে। আর এতে দায় আছে আধুনিক জীবনধারার। তবে শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পরও কেবল একটি কারণেই আপনি দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারেন। কী সেই কারণ? ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নওসাবাহ্ নূর-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ মানসিক চাপপ্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

ঘরে-বাইরে একটিই কারণ

বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। তুমুল প্রতিযোগিতার এই যুগে জীবন থেকে স্বস্তি যেন হারিয়েই গেছে। অফিসে কাজের চাপ তো আছেই। তাতে যোগ হচ্ছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ভালো লাগার কাজ করার সুযোগ কজনই–বা পান!

অনেক পরিবার ছোট হলেও বাড়ির যাবতীয় দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁদেরই
ছবি : প্রথম আলো

বহু মানুষ কেবল জীবন চালাতে বেছে নেন একটি চাকরি কিংবা যোগ দেন ব্যবসায়। আবার কাজের ধরন যেমনই হোক, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও আয় খুব একটা বাড়ে না অধিকাংশ মানুষেরই। পাশাপাশি প্রতিযোগিতা থাকে অফিসের ভেতরেও থাকে শত্রুতা। অফিসের লোকসানে ছাঁটাইয়ের ভয়ে থাকেন কর্মীরা। মনের শান্তি খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

আবার অনেক পরিবার ছোট হলেও বাড়ির যাবতীয় দায়িত্ব সামলাতে হয় তাঁদেরই। নির্ভরযোগ্য কারও সঙ্গে নিজের সন্তানের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার সুযোগটাও কম। দাম্পত্যের সমীকরণও অনেকটাই জটিল এ যুগে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনেক সম্পর্কই এখন দাঁড়িয়ে থাকে কেবল স্বার্থের ভিত্তিতে। ক্রমাগত এমন নানা চাপে পিষ্ট হতে থাকে মন।

আরও পড়ুন

যা ঘটে দেহে ও মস্তিষ্কে

ক্রমাগত মানসিক চাপে থাকলে বাড়ে প্রদাহ। কোষের ভেতর হতে থাকে বয়সজনিত পরিবর্তন। দেহে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসল হলো স্ট্রেস হরমোন। আর ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। সব মিলিয়ে দেহ এবং মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়ে রক্তচাপ। রক্তে সুগার ও খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়ে।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমতে থাকে। মনোযোগ দেওয়ার ধৈর্য কমে যায়। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। ত্বকে দেখা দেয় বলিরেখা। খানিকটা কুঁচকে যায় ত্বক। দেখায় নিষ্প্রাণ।

মানসিক চাপের কারণেও বলিরেখা পড়া খুব স্বাভাবিক
ছবি: পেক্সেলস

বয়সের চেয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যেতে না চাইলে বুঝতেই পারছেন, দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তবে কাজটা খুব একটা সহজ নয়। জীবনকে সহজ করে তুলতে এসব বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন—নিজের খুঁতগুলোকে মেনে নিন।

এই পৃথিবীতে কেউই নিখুঁত নন। অতীতের ভুলগুলোর জন্য অনুতাপ করবেন না। আপনি যা নন, তা হওয়ার ভান করবেন না। নিজের জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হোন। মনে রাখবেন, পৃথিবীর কোনো না কোনো কাজে আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজন। অবাস্তব প্রত্যাশা রাখবেন না।

আরও পড়ুন

অকারণ প্রতিযোগিতায় নামবেন না। একাডেমিক ফলাফলের পিছে ছুটবেন না। সবাই সবকিছু একইভাবে পারবেন না, এ সত্য ভোলা যাবে না। সব সময় আবেগ চেপে রাখবেন না। কাছের মানুষের সামনে প্রকাশ করুন নিজেকে।

সম্পর্কগুলোর ব্যাপারে যত্নশীল এবং সৎ থাকুন সব সময়। অনেক বন্ধু না থাকলেও চলবে। সংখ্যায় কম হলেও সত্যিকার বন্ধু থাকুক। অন্তত একজন মানুষ থাকুক, যাঁর কাছে শান্তি মেলে। এমন মানুষদের এড়িয়ে চলুন, যাঁরা সব সময় আপনার খুঁত ধরে কিংবা পরচর্চা করে।

প্রয়োজনের বাইরে তাঁদের সঙ্গে কম মেলামেশা করুন। নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিন। ভালো লাগার কাজ করুন। নতুন কিছু শিখতেও পারেন। পেশাজীবনে যা করতে চান, তা হয়তো সব সময় আপনি করতে পারবেন না।

সুযোগ থাকলে সাহস করে পছন্দের কাজের জগতে ঢুকে পড়ুন। পেশাগতভাবে সেই কাজ করতে না পারলেও শখের কাজের জায়গায় রাখতে পারেন সেটিকে। প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটান, ঘুরতে যান, আড্ডা দিন ও  হাসুন। এমন কাজের চর্চা করুন, যাতে অন্তরে প্রশান্তি আসে।

আরও পড়ুন