‘পাস করে বেরোনোর আগেই অনেকে বিভিন্ন কোম্পানিতে ডাক পান’
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের কেন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া উচিত, সে প্রসঙ্গে বলেছেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক শাহরিয়ার মনজুর
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হ্যাকাথন বা প্রোগ্রামিংয়ের প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নিয়ে দক্ষতা ঝালাই করার বড় সুযোগ আছে কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের। আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (আইসিপিসি) যেমন সারা বিশ্বেই প্রোগ্রামারদের জন্য বেশ মর্যাদাপূর্ণ বলে ধরা হয়। এখানে নানাভাবে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ও অ্যালগরিদম সমাধানের দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছে কয়েক বছর ধরে।
আইসিপিসির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি গাণিতিক চিন্তাভাবনার অনেক উন্নতি হয়। জটিল চিন্তার ক্ষমতা বাড়ে। অন্য দিকে হ্যাকাথনে অংশ নিয়ে বাস্তবজীবনের প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা তৈরি হয়।
এই দুই ধরনের প্রতিযোগিতায় একটি বিষয় লাগবেই, সেটি হলো দলগতভাবে কাজের দক্ষতা। কেননা, একটি দলের অংশ হয়েই এসব প্রতিযোগিতায় সমস্যা সমাধান করতে হয়। এই দক্ষতা পেশাজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরিচয় হয়। অনেক শিক্ষার্থী যথেষ্ট পরিচিতিও পেয়ে যায়। ফলে পাস করে বেরোনোর আগেই অনেকে বিভিন্ন কোম্পানিতে ডাক পান। আমার বন্ধু মুনিরুল আবেদিন যেমন ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালে অংশ নিতে গিয়ে মাইক্রোসফটে ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। সে বুয়েট ৯৪ ব্যাচের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী। পাস করার আগেই তার চাকরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা আরও বেড়েছে।
একজন সাধারণ কম্পিউটার বিজ্ঞানের গ্র্যাজুয়েটকে ৩০-৫০ ক্রেডিট সমতুল্য সমস্যা সমাধান (প্রবলেম সলভ) করতে হয়। সেই তুলনায় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ২৫০ ক্রেডিট বা তারও অনেক বেশি পরিমাণ প্রবলেম সলভ করে। কাজেই তাঁদের দক্ষতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেক অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। কোডফোর্সেস, অ্যাটকোডার, কোডশেফ, ইউভিএ অনলাইন জাজ, লাইটওজে, হ্যাকর্যাংক, লিটকোড, টপকোডার, টিমাস/এসপিওজে সাইটে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায়। বাংলাদেশে অনেকে প্রশিক্ষণও দেয়। তবে এখন চ্যাটজিপিটির মতো সাইটগুলোর কারণে অনলাইনে প্রতিযোগিতার রেটিংয়ের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। আইসিপিসির মতো ‘অনসাইট’ প্রতিযোগিতার গুরুত্বই এখন বেশি।
আমি একাধিকবার আইসিপিসির বিচারকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নিজ চোখেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ধীরে ধীরে বাড়তে দেখছি। ভবিষ্যতে আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও ভালো করার সুযোগ আছে।