টাঙ্গাইলের পুরোনো এক জমিদারবাড়ি যেভাবে হয়ে উঠল ভাইরাল শুটিং স্পট

সম্প্রতি টাঙ্গাইলের হেমনগর জমিদারবাড়িতে আয়োজন করা হয় এক ফটোশুটের, যা ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল। চলুন জেনে আসি জমিদার বাড়িতে শুটের পেছনের গল্প।

টাঙ্গাইলের হেমনগর জমিদারবাড়িতে ফটোশুটের আগের আয়োজন
ছবি: রনি রেজাউল

পুরোনো জমিদারবাড়ির একেকটি কোণ, একেক রকম সাজ, ভিন্ন ভিন্ন পোশাক—সব মিলিয়ে যেন একেকটি আলাদা দৃশ্য। কোথাও বিয়ের আয়োজন, কোথাও দুই পরিবারের আলাদা জগৎ, আবার কোথাও এমন কিছু মুহূর্ত, যার সঙ্গে পরের ছবিটির যোগ খুঁজে নিতে হয়।

আসলে আলাদা আলাদা ছবি নয়, সব কটি ছবিকে মিলিয়ে একটি গল্প বলার পরিকল্পনা থেকে টাঙ্গাইলের হেমনগর জমিদারবাড়িতে আয়োজন করা হয় পোশাকের ব্র্যান্ড সাভাটা বাই রিফাহ্‌র বিয়ের পোশাকের ফটোশুট, যা ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল।

আরও পড়ুন
শুটের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, জমিদারবাড়িটি ভাইরাল হয়ে যায়
ছবি: রনি রেজাউল

১৯৫১ সালের সময়কালকে ধরে সেই সময়ের ভালোবাসার এক সম্পর্ক নিয়ে এই ফটোশুটের আয়োজন করা হয়। ভালোবাসার এই সম্পর্কের পাশাপাশি সেই সময়ের পরিবেশ–পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পটি পুরোনো সময়ের হলেও এর পোশাক ও উপস্থাপনায় রাখা হয়েছে বর্তমান সময়ের ছোঁয়া।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড সাভাটা বাই রিফাহ্‌র বিয়ের পোশাকের এই ফটোশুটের জন্য তৈরি করা গল্পকে ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে টাঙ্গাইলের হেমনগর জমিদারবাড়িকে বেছে নেন ফটোগ্রাফার ও পরিকল্পনাকারী রনি রেজাউল।

সম্পূর্ণ আয়োজনের ধারণা, নির্দেশনা ও ফটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন রনি রেজাউল।
ছবি: রনি রেজাউল

গল্পের সঙ্গে জায়গার খোঁজ

সম্পূর্ণ আয়োজনের ধারণা, নির্দেশনা ও ফটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন রনি রেজাউল। শুরু থেকেই তাঁর ভাবনায় ছিল এমন একটি জায়গা, যেখানে পুরোনো সময়ের আবহের পাশাপাশি স্থাপত্যের বৈচিত্র্য এবং সংস্কৃতিকে আলাদা করে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। হেমনগর জমিদারবাড়ি দেখার পর রনি বুঝতে পারেন, তাঁর ভাবনাকে বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এটিই উপযুক্ত জায়গা। বড় পরিসরের বাড়ি, নানা ধরনের স্থাপত্য ও আলাদা আলাদা অংশ থাকায় এখানে ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব।

গল্পের সময়কাল পুরোনো হলেও ছবিগুলোকে পুরোপুরি সেই সময়ের মধ্যে আটকে রাখা হয়নি। রনি রেজাউলের পরিকল্পনায় পুরোনো আবহের সঙ্গে বর্তমান সময়ের ফ্যাশনের কিছু উপাদানও রাখা হয়েছে। ফলে পোশাক, সাজসজ্জা ও ছবির বিন্যাসে একদিকে পুরোনো দিনের অনুভূতি থাকলেও অন্যদিকে সমকালীন ফ্যাশনের উপস্থিতিও দেখা যায়।

আরও পড়ুন
বড় পরিসরের এই আয়োজনে মূল মডেলদের পাশাপাশি আরও ৪০ জন শিল্পী ছিলেন
ছবি: রনি রেজাউল

শুটের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভিড়

বড় আয়োজনের কারণে শুটের দিন সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়ায় ভিড় সামলানো। শুটিং দেখতে মানুষের উপস্থিতি এতটাই বেড়ে যায় যে শুটের প্রথম দিন প্রায় এক ঘণ্টা শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। শুটের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে রনি রেজাউল ও তার টিমের লোকেরা হেমনগর জমিদারবাড়ির বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার ও রঙের কাজ করেন।

শুট ও ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় মানুষ এখন জায়গাটি দেখতে আসছেন। এ প্রসঙ্গে আলোকচিত্রী রনি রেজাউল বলেন, ‘ সরকার এ ধরনের স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে আরও মনোযোগী হবে। এমন ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে শুধু ছবি তোলার জায়গা হিসেবে নয়, ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে এগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া উচিত।’

এই কাজের পরিকল্পনা শুরু হয় জানুয়ারি থেকে
ছবি: রনি রেজাউল

জানুয়ারি থেকে দুই দিনের শুট

এই কাজের পরিকল্পনা শুরু হয় জানুয়ারি থেকে। এরপর ধাপে ধাপে পোশাক নির্বাচন ও নকশা, মডেল নির্বাচন, সাজসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি এগোয়। শেষ পর্যন্ত দুই দিনে শেষ হয় ফটোশুট।

বড় পরিসরের এই আয়োজনে মূল মডেলদের পাশাপাশি আরও ৪০ জন শিল্পী ছিলেন। ফলে প্রতিটি দৃশ্যে কে কোথায় থাকবেন, কোন পোশাক বা সাজসজ্জা ব্যবহার হবে, কোন অংশে কীভাবে ছবি তোলা হবে—সবকিছু আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হয়েছে।

ফটোশুটের নির্দেশনা ও ফটোগ্রাফিতে ছিলেন রনি রেজাউল। ফটোগ্রাফি সহকারী মুক্তাদির মাহী, স্টাইলিংয়ে মাশরুর রহমান নিহাল, মেকআপে পারভেজ এবং ভিডিওগ্রাফিতে ছিলেন শুভদীপ্ত সরকার। নারী মডেল ছিলেন মাইসা, শীলা, তুবা, প্রিয়ন্তী, মঞ্জিতা, প্রিয়াঙ্কা, সাফা মারুয়া, ইলা ও আরোহে। পুরুষ মডেল ছিলেন রেহান, রাব্বি, ইমন, জারিফ ও আকাশ।

আরও পড়ুন