দুই যুগ আগে চুয়ানদো তান যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন কীভাবে
ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎই সুঠাম দেহের এক তরুণের ছবিতে চোখ আটকে গেল। সিক্স প্যাক অ্যাব আর সতেজ চাউনি দেখে মনে হতেই পারে, বয়স হয়তো তাঁর বিশের কোঠায়। কিন্তু একটু খোঁজ নিতেই জানা গেল, তাঁর বয়স নাকি ৫৯ বছর! বলছি সিঙ্গাপুরের মডেল ও ফটোগ্রাফার চুয়ানদো তানের কথা। যাঁর কাছে বয়স স্রেফ ক্যালেন্ডারের একটা পাতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
২৫ বছর বয়স পার হতে না হতেই ‘পিঠে ব্যথা’ আর ‘বার্ন আউট’ নিয়মিত সঙ্গী হয় সবার। এক খণ্ড অবসর পেলে গা এলিয়ে দেন অনেকে বিছানায়। সেখানে তান যেন সময়ের ঘড়িটাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
তিনি যে হুট করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা কিন্তু নয়। সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকেই তাঁর আনাগোনা ফ্যাশন জগতে। আশির দশকে যখন এশিয়ায় পুরুষ মডেলদের জয়জয়কার, সেখানে তান ছিলেন নিয়মিত মুখ।
কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তখনই ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যান তান। দাঁড়ান গিয়ে ক্যামেরার পেছনে। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ছিলেন ক্যামেরার পেছনের কারিগর। ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে গড়ে তুলেছেন নিজের জনপ্রিয়তা।
২০১৭ সালে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুট করেই ভাইরাল হলেন তান। ৫২ বছর বয়সী তানের ছবি দেখে রীতিমতো সবার চক্ষু ছানাবড়া। কেউ দেখে বলতেই পারবেন না, দুই যুগ আগে তান যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী ১৭ লাখ। স্থান পেয়েছেন ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের সিঙ্গাপুর সংস্করণের প্রচ্ছদেও। কিন্তু কীভাবে ৫৯ বছর বয়সেও তারুণ্য ধরে রেখেছেন তান।
তানের কাছে ফিটনেসের মানে
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চুয়ানদো তান রহস্য ফাঁস করেছেন। তাঁর মতে, বয়স বাড়লেই যে জীবন বিবর্ণ হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তাঁর ভাষায়, ‘বয়স যতই হোক না কেন, নিজের ভেতরের সেই আকর্ষণ বা “সেক্সিনেস” ধরে রাখা জরুরি। সেটা অন্য কাউকে দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজের জন্য।’
তানের কাছে ফিটনেস মানে কোনো জটিল সমীকরণ নয়, বরং খুব সাধারণ একটা অঙ্ক।
হিসাব কষে চললেই শরীরটা ফিট রাখা সম্ভব। কারণ, ৭০ শতাংশ সৌন্দর্য আসে ডায়েট থেকে আর বাকি ৩০ শতাংশ আসে ব্যায়াম থেকে। ঠিক কীভাবে তান নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন, সেই সব টিপস শেয়ার করেছেন নিজেই।
খাবার নিয়ন্ত্রণ
তানের দিন শুরু হয় ছয়টি সেদ্ধ ডিম দিয়ে। তবে কুসুম খান মাত্র দুটি। সঙ্গে থাকে এক গ্লাস দুধ আর কখনো এক ফালি অ্যাভোকাডো। দুপুর আর রাতে তাঁর পাতে থাকে গ্রিল করা মুরগি, লাল চালের ভাত আর প্রচুর সবুজ সবজি।
কখনো কখনো থাকে মাছের স্যুপ। কফি, চা, অ্যালকোহল বা ধূমপান—এসবের বালাই নেই তানের জীবনে। চিনি বা প্রক্রিয়াজাত ফুড তো তাঁর অভিধানেই নেই।
ব্যায়ামে নেই কড়াকড়ি
জিম মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাধার খাটুনি নয়। তান গুরুত্ব দেন ‘কম্পাউন্ড এক্সারসাইজ’-এর ওপর। সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন জিমের ফ্লোরে তাঁকে ঘাম ঝরিয়ে ‘পুশ-আপ’ বা ‘স্কোয়াট’ করতে দেখা যায়। এতে যেমন ক্যালরি বার্ন হয়, তেমনি পেশিগুলোও হয় শক্ত। এরপর ক্লান্ত শরীরে সতেজতা ফেরাতে এক ঘণ্টা সাঁতার কাটা তাঁর রোজকার রুটিন।
রাত ১১টা মানেই ‘গুড নাইট’
ঘুমের ক্ষেত্রে তানের নিয়ম একদম কড়া। রাত ১১টার মধ্যে ঘুমের রাজ্যে ডুব দেন। ঘুমের অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগে ডিনার সেরে ফেলেন। বিছানায় যাওয়ার আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকেন।
রোদ যখন বন্ধু
শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য রোদ পোহানো জরুরি। নিয়মিত সময় করে রোদ পোহান তান। তাই বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। অতিরিক্ত কড়া রোদ আবার ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই রোদ পোহানোর জন্য তান বেছে নেন একদম ভোরের মিষ্টি রোদ অথবা বিকেলের নরম আলো।
আড্ডা হোক নিয়মিত
পরিবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বিষণ্নতা কাটানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রিয়জনদের নিয়মিত সময় দেন তান। মাঝেমধ্যেই মেতে ওঠেন আড্ডায়।
ইতিবাচক থাকুন, ভালো থাকুন
সবকিছুর ঊর্ধ্বে তানের ফিটনেসের বড় মন্ত্র হলো ইতিবাচক চিন্তাভাবনা। তানের বিশ্বাস, ‘আপনার চিন্তাভাবনা ও মানসিকতাই আগামীর পথ তৈরি করে দেয়।’ জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখতে শুরু করলে সেটার ছাপ শরীরেও পড়বে।
নামমাত্র রূপচর্চা
অনেকেই ভেবেছিলেন তান হয়তো সৌন্দর্য ধরে রাখতে কসমেটিক সার্জারি করেছেন। কিন্তু না। স্রেফ একটা ফেসওয়াশ ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন তিনি। তবে মাসে একবার যখন পাকা চুল চোখে পড়ে, তখন চুল ডাই করেন। ব্যস, এটুকুই!
চুয়ানদো তান যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, শরীর আর মনের যত্ন নিলে বয়স হার মানতে বাধ্য। নিয়মমাফিক জীবন আর নিজের প্রতি একটু যত্ন নিলেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব।
সূত্র: ভোগ