৪১ বছর বয়সেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কীভাবে ফিট আছেন? জানালেন তাঁর শেফ
বয়স এখন ৪১ বছর, অথচ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দেখে বোঝার কোনো উপায় আছে? ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবের লিগে খেলছেন, কিন্তু ফিটনেস ও ফর্ম আছে ঠিক আগের মতোই। বহু ফুটবলারের ক্যারিয়ার যেখানে ৩০ পার হতে না হতেই পড়তির দিকে থাকে, সেখানে রোনালদো বিশ্বকাপ খেলবেন পর্তুগালের অধিনায়ক হিসেবে। কী খেয়ে নিজের দুর্দান্ত ফিটনেস ধরে রেখেছেন? সেটাই বলেছেন রোনালদোর সাবেক শেফ জর্জিও বারোন।
জর্জিও বারোনের সঙ্গে রোনালদোর পরিচয় জুভেন্টাসে থাকাকালীন। ইতালীয় এই শেফ মূলত এলিট অ্যাথলেটদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। খণ্ডকালীন চুক্তিতে বিভিন্ন ক্লাব তাঁকে ভাড়া করে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য। জুভেন্টাসে প্রায় তিন বছর রোনালদোর ডায়েটের দিকে নজর রাখা এই বারোন জানিয়েছেন, কীভাবে রোনালদো ফিট থাকার মন্ত্রণা পান।
সাধারণ খাবার
অনেকেই ভাবেন, খেলোয়াড়েরা বুঝি অনেক দামি খাবারদাবার খান, বিশেষ কিছু সব সময়ই তাঁদের পাতে থাকে। বারোন জানালেন, তা একেবারেই নয়। বারোন বলেন, ‘রোনালদো তাঁর নিয়মের বাইরে বিশেষ কিছুই খান না; বরং তাঁর প্রতিদিনের রুটিন একেবারে ধরাবাঁধা।’
রোনালদোর ডায়েট চার্টে থেকে প্রচুর প্রোটিন, সামান্য কার্বোহাইড্রেট। প্রতিদিন তাঁর প্লেটে থাকে অ্যাভোকাডো, টাটকা শাকসবজি আর ফলমূল। প্রোটিনের জন্য থাকে মাছ, মুরগির মাংস ও ডিম। এ ছাড়া কলিজা তাঁর প্রিয় খাবারের একটি।
খান প্রয়োজন বুঝে
ওজন ঠিক রাখতে মেপে খান না রোনালদো; বরং দিনে ঠিক কতটা পরিশ্রম করতে হবে, তা মাথায় রেখেই কী খাবেন, তা ঠিক করেন। যেদিন অনুশীলন থাকে, সেদিন একটু বেশি খান। ম্যাচের দিন শরীর হালকা রাখতে একটু কম। আর ছুটির দিনে একেবারেই কম।
শেফ বারোন বলেন, ‘রোনালদো প্রচুর পরিশ্রম করতেন, তাই খেতেনও প্রচুর।’
তবে মূল শর্ত একটাই—খাবার হতে হবে টাটকা আর যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই।
চিনি মানেই ‘বিষ’
২০২০ ইউরোয় সংবাদ সম্মেলনে কোকাকোলার বোতল সরিয়ে পানি খাওয়ার কথা বলেছিলেন রোনালদো। সেই ঘটনা সাড়া ফেলেছিল পুরো বিশ্বে। রোনালদো সেই কথা মেনে চলেন অক্ষরে অক্ষরে। বারোনের ভাষ্যমতে, রোনালদোর কাছে চিনি মানেই ‘বিষ’। রোনালদো কেবল মিষ্টিজাতীয় খাবার বর্জনই করেন না, এমনকি কফিতেও চিনি নেন না। যেকোনো প্রক্রিয়াজাত খাবার, অর্থাৎ ফাস্ট ফুডও তাঁর খাবারের তালিকায় নেই।
নিয়ম মেনে সবকিছু
রোনালদোর ফিটনেসের মন্ত্রই হলো ৬০ ভাগ ডায়েট আর ৪০ ভাগ অনুশীলন। প্রতিদিন যা–ই হোক না কেন, এই দুই জায়গায় কখনোই ফাঁকি দেন না। অনেক খেলোয়াড়ই ভিডিও গেম কিংবা অযথা সময় কাটিয়ে রাত জাগেন। সেই জায়গায় রোনালদো বরাবরই নিয়ম মেনে চলেন। ঘুমানোর দেড় ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার সেরে নেন। সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া আর শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।
সূত্র: কভারস ডটকম