মধ্যবয়সী নারীর ব্যথা, কারণ কি মেনোপজ

২০২৬ সালের বিশ্ব মেনোপজ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—‘মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা ক্রনিক পেইন।’ ১৮ অক্টোবর ছিল ‘বিশ্ব মেনোপজ দিবস’।

মেনোপজ নারীর জীবনের অবশ্যম্ভাবী একটি অধ্যায়ছবি: পেক্সেলস

মেনোপজ নারীর জীবনের অবশ্যম্ভাবী একটি অধ্যায়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের শরীরে হরমোন নিঃসরণ কমতে থাকায় নিয়মিত পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু এই পরিবর্তন মানে কেবল প্রজনন ক্ষমতার সমাপ্তি নয়, বরং এটি নারীস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ বছর দিবসটির মূল বিষয় ছিল—মধ্যবয়সী নারীদের জয়েন্টে ও পেশিতে ব্যথা, পেশি শক্ত ও ক্ষয় হওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে মেনোপজের সম্পর্ক উন্মোচন।

আরও পড়ুন

ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে এই বয়সে এসে অনেক নারী হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস, গাঁটে ব্যথা এবং মাইগ্রেনের মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন। এসব ব্যথা নারীদের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সামাজিক ট্যাবু বা সংকোচের কারণে আমাদের দেশের নারীরা প্রায়ই এই ব্যথা ও মানসিক চাপকে কেবল ‘বয়সের দোষ’ বলে সহ্য করেন। অথচ একটু সচেতনতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিসহ চিকিৎসকের পরামর্শে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এই কষ্ট বহুলাংশে কমাতে পারে।

আরও পড়ুন

মেনোপজে যেসব সতর্কসংকেত অবহেলা করা যাবে না

মেনোপজের সময় কিছু লক্ষণকে স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকার পর যোনিপথে সামান্য রক্তপাত, রক্তমিশ্রিত স্রাব বা বাদামি স্রাব হলেও দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত, তীব্র তলপেটের ব্যথা কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও ভালো নয়।

এ ছাড়া বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া অথবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণকে মেনোপজের উপসর্গ ভেবে অপেক্ষা করা উচিত নয়।

দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা, অসহনীয় উদ্বেগ কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা দেখা দিলেও দ্রুত পেশাদার চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।

আরও পড়ুন