ম্যাডোনার বয়স ৬৭, শাকিরার ৪৯, বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁরাই এত এনার্জেটিক কীভাবে?

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে সুপারবোলের আদলে হয়ে গেল হাফটাইম শো। সেই মঞ্চে জাস্টিন বিবার, বিটিএস, বার্না বয় ও ক্রিস মার্টিনের মতো তারকাদের ছাপিয়ে ম্যাডোনা আর শাকিরাকে নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। দুই শিল্পীর বয়সই ৫০-৬০–এর ঘরে। তবু মঞ্চে তাঁদের প্রাণবন্ত নাচ, শক্তিশালী উপস্থিতি ও ফিটনেস দেখে অনেকেই বিস্মিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, ‘যদি বাঁচতেই হয় তো ম্যাডোনা আর শাকিরাকে দেখো। ওদের দেখে বাঁচতে শেখো!’

‘কুইন অব পপ’ ম্যাডোনার পারফরম্যান্সকে বর্ণনা করতে হলে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের মতো বলতে হবে ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এই দুই তারকার উপস্থিতি কেবল নস্টালজিয়া ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য নয়; বরং চার দশকজুড়ে ম্যাডোনা এবং তিন দশকের বেশি সময় ধরে শাকিরা বিশ্বসংগীতে যে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তারই স্বীকৃতি, উদ্‌যাপন।

৬৭ বছরেও ম্যাডোনার অবিশ্বাস্য উদ্যম

ম্যাডোনার সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো (বাঁয়ে) ও রোনালদো (ডানে)
ছবি: রয়টার্স

‘কুইন অব পপ’ ম্যাডোনার পারফরম্যান্সকে বর্ণনা করতে হলে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সিজারের মতো বলতে হবে ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’। ম্যাডোনা এলেন, তবে একা আসেননি। সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো এবং রোনালদিনহো। গাইলেন তাঁর ২০০০ সালের জনপ্রিয় হিট গান ‘মিউজিক’–এর একটি নতুন সংস্করণ। আর জয় করলেন বিশ্বের নানা প্রান্তের কোটি দর্শকের হৃদয়।

ম্যাডোনা কয়েক দশক ধরে নিজের ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ম্যাডোনা কয়েক দশক ধরে নিজের ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যে রয়েছে—

  • সপ্তাহে প্রায় ছয় দিন ব্যায়াম।

  • শক্তি বাড়ানোর স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি পিলাটিস, যোগব্যায়াম ও নাচের অনুশীলন।

  • কনসার্ট ট্যুরের আগে দীর্ঘ সময় ধরে কোরিওগ্রাফির মহড়া, যা একটি উচ্চমাত্রার কার্ডিও ওয়ার্কআউট।

  • পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীর পুনরুদ্ধারের (রিকভারি) ওপর জোর।

  • পুষ্টিকর, প্রোটিন–সমৃদ্ধ ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস।

২০২৩ সালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও ম্যাডোনা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার মঞ্চে ফিরেছেন। তাঁর মতে, ধারাবাহিক অনুশীলন আর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাঁকে বারবার ফিরে আসার শক্তি দেয়।

আরও পড়ুন

৪৯ বছরেও নাচই শাকিরার সবচেয়ে বড় ব্যায়াম

অ্যাফ্রোবিটস আর ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান নাচের সমন্বয়ে গতকাল রাতে শাকিরা যা দেখালেন, লোকে বলছেন ‘আই ক্যান্ডি’
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

অ্যাফ্রোবিটস আর ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান নাচের সমন্বয়ে গতকাল রাতে শাকিরা যা দেখালেন, লোকে বলছেন ‘আই ক্যান্ডি’। চোখ ও মন থেকে এই পারফরম্যান্সের ছাপ সরাতে সময় লাগবে তাঁদের।

বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে ‘দাই দাই’ গানটিতে তিনি নাইজেরিয়ান অ্যাফ্রোবিটস এবং জনপ্রিয় আফ্রিকান নৃত্য দল উগান্ডার ‘ঘেটো কিডস’–এর ছন্দে আফ্রিকান স্ট্রিট ড্যান্সের যে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন, সেটা এককথায় এক আশ্চর্য নিখুঁত শিল্প।

উগান্ডার ‘ঘেটো কিডস’–এর ছন্দে শাকিরার আফ্রিকান স্ট্রিট ড্যান্স
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

শাকিরার ফিটনেসের মূল রহস্য তাঁর নাচ। বেলিড্যান্স, লাতিন নাচ ও কনসার্টের অনুশীলন তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রমে রাখে। তাঁর ফিটনেস রুটিনে সাধারণত থাকে—

  • সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন ব্যায়াম।

  • কার্ডিও, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং এইচআইআইটি (হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং)।

  • পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলসমৃদ্ধ খাদ্য।

  • অতিরিক্ত চিনি ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।

  • সারা দিনে পর্যাপ্ত খাওয়া।

শাকিরা একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফিট থাকা তাঁর কাছে শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গান গাওয়া ও নাচার জন্য এটি পেশাগত প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বয়স নয়, ধারাবাহিকতাই আসল

বিশ্বকাপের হাফটাইম শোয়ে ম্যাডোনা ও শাকিরার উপস্থিতি তাই নিছক বিনোদন নয়; বয়সকে অভিজ্ঞতার সৌন্দর্য, আর অনুধাবনের শক্তির সঙ্গে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করারও এক শক্তিশালী বার্তা
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাডোনা ও শাকিরার ফিটনেসের পেছনে কোনো জাদু নেই। আছে নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, শক্তিবর্ধক অনুশীলন, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম আর বছরের পর বছর একই রুটিন ধরে রেখে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন।

এই শোয়ে ম্যাডোনা আর শাকিরার দুর্দান্ত উপস্থিতি বার্তা দেয়, আপনি যেমন জীবন যাপন করতে চান, জীবনে যা কিছু অর্জন করতে চান না কেন, সেখানে বয়স কোনো বাধা নয়। তাই যেকোনো বয়সেই নিজের সঠিক নিয়মে বাঁচুন।

বিশ্বকাপের হাফটাইম শোয়ে ম্যাডোনা ও শাকিরার উপস্থিতি তাই নিছক বিনোদন নয়; বয়সকে অভিজ্ঞতার সৌন্দর্য, আর অনুধাবনের শক্তির সঙ্গে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করারও এক শক্তিশালী বার্তা।

সূত্র: টাইলা

আরও পড়ুন