প্রথমে ধীরলয়ে শুরু হয় গান। আস্ত আস্তে দ্রুত হয় লয়, তার সঙ্গে বাড়তে থাকে নাচের গতি। দ্রুত তালের এই নাচের সময় হৃৎস্পন্দনের গতিও বেড়ে যায়। তাই জুম্বার শেষ ১৫ মিনিটে আবার প্রশান্তির গান বাজিয়ে স্বাভাবিকে আনা হয় নাচের গতি। হৃৎস্পন্দনও এতে আস্ত আস্তে স্বাভাবিক হতে থাকে, এমনটাই বলছিলেন ফিটনেস পরামর্শক রুশলান হোসেইন। নাচের গতি আস্তে আস্তে না কমিয়ে হুট করে জুম্বা শেষ করে দিলে হার্টের ক্ষতি হতে পারে বলে এই প্রশিক্ষকেরা জানালেন।

default-image

জুম্বা ড্যান্সের উৎপত্তিস্থল কলম্বিয়া। এই মিউজিক ফিটনেস প্রোগ্রামে মূলত চারটি বেসিক ল্যাটিন সুরের ওপর অনুশীলন করানো হয়। সালসা, মেরেঙ্গে, রেগেটন ও কুম্বিয়া—এই চার সুরের নির্ধারিত তালে তালে চলে জুম্বা ড্যান্স। অনেকেই অ্যারোবিকস আর জুম্বাকে এক করে ফেলেন। সুমাইয়া চৌধুরী বলছিলেন, অ্যারোবিকসের সঙ্গে জুম্বার যথেষ্ট পার্থক্য আছে। জুম্বা করলে যেমন পুরো শরীরের কার্ডিও হয়, অ্যারোবিকস সেখানে একেকটি নির্দিষ্ট স্থান ধরে কাজ করে। এমন আরও নানা পার্থক্য আছে।

একই কথা বলছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। একসময় নিয়মিত জুম্বা করতেন এই অভিনেত্রী। যেহেতু জুম্বা নাচে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গেরই মুভমেন্ট থাকে, তাই বডি টোনিংয়ের জন্য এর সত্যিই কোনো বিকল্প নেই। ওজন কমানোর পাশাপাশি ওজন ধরে রাখতেও নিয়মিত জুম্বার অনুশীলন করতেন তিনি।

যেকোনো বয়সের যে কেউই এর অনুশীলন করতে পারবেন। ৪ থেকে ৭০ বছর বয়সী সদস্যরা একসঙ্গে এই জুম্বা ড্যান্স করতে পারেন। এমনকি যাঁদের বেকপেইন বা হাঁটুর ব্যথা আছে, তাঁরাও চাইলে এই শরীরচর্চায় যোগ দিতে পারেন। তবে তাঁদের অবশ্যই এই নাচ শুরুর প্রথম থেকেই দক্ষ একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। কারণ, একজন প্রশিক্ষক বা ইনস্ট্রাক্টর শারীরিক সমস্যার ধরন বুঝে জুম্বার ধাপগুলো নির্ধারণ করে থাকেন। সঠিক ধাপ না জেনেবুঝে জুম্বার অনুশীলন শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে।

মানসিক বিষণ্নতা দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে জুম্বা। সুমাইয়া চৌধুরী বলছিলেন, এই শরীরচর্চার একটি অংশ হলো শাউট বা চিৎকার। দ্রুতগতিতে নাচের তালে তালে মন খুলে আনন্দ–উল্লাস চলতে থাকে পুরোটা সময়। যেমনটা আমরা আড্ডায় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে করে থাকি। মন খুলে এই হইহুল্লোড় তখন মন ভালো হওয়ার একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই শরীরচর্চার অনুশীলনে বাড়ে ত্বকের জেল্লা। এক ঘণ্টা ধরে টানা অনুশীলনে প্রচুর ঘাম বের হয় শরীর থেকে। যে কারণ শরীরের ভেতরকার দূষিত পদার্থ বের হয়ে ত্বক হয়ে ওঠে আরও উজ্জ্বল।

জুম্বা নাচকে যোগাযোগদক্ষতা বাড়ানোর একটা কৌশলও বলা হয়। একসঙ্গে অনেকের অনুশীলন করার ফলে সামাজিক দক্ষতা বাড়ে। দূর হয় সামাজিক ভীতি। যারা একটু অন্তর্মুখী বা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে যাঁরা জড়তা বোধ করেন, তাঁদের জন্য জুম্বা হতে পারে সামাজিক দক্ষতা বাড়ানোর চমৎকার এক অনুশীলন।

জুম্বা নিয়ে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কাজ করছেন সুমাইয়া কৃত্তিকা। তিনি জুম্বা কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স পাওয়া জুম্বা ইনস্ট্রাক্টর। ‘শেপ আপ উইথ কৃতি’ পেজে জুম্বা শেখানোর পাশাপাশি ট্যাপআউট ফিটনেসে অতিথি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

একের মধ্যে যেখানে অনেক কিছু মেলে সেদিকে যাওয়াটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ। রোজকার জিমে ভারোত্তোলন আর পুশআপ করতে করতে একঘেয়েমি চলে আসে অনেকের। কিন্তু জুম্বা সেখানে ভিন্ন। নাচতে নাচতে যদি ওজন কমে, তবে সেটাই তো ভালো। নেচে ওজন কমাতে তাই জুম্বার বিকল্প পাওয়া কঠিন।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন