ঘুমের সময় শিশু খাওয়ার জন্য বায়না করে?

সারা দিনের কাজের শেষে ক্লান্ত আপনি। ভাবছেন, সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে আপনিও বিশ্রাম নেবেন। ঠিক এই সময়ই শিশু হয়তো জানান দিল, তার ক্ষুধা লেগেছে। কেন বহু শিশুর ঠিক এই সময়টাতেই ক্ষুধা পায়? এর সমাধানই–বা কী? এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

খাবার খাওয়ার জন্য যেমন জোরাজুরি করা ঠিক নয়, তেমনি অসময়ে খাবার চাইলে ধমকানোও উচিত নয়ছবি : সাবিনা ইয়াসমিন

বাড়ন্ত বয়সের চাহিদা

একদম ছোট শিশুদের অনেকেরই রাত জাগার প্রবণতা থাকে। দিনভর সে যত আনন্দ করেছে, সেটাই চালিয়ে যেতে চাইতে পারে। বিশেষ করে তার যদি ছোটাছুটি কম হয়ে থাকে, তাহলে রাতেও খুব একটা ক্লান্ত হবে না। ডিজিটাল ডিভাইস নিয়েই আরও কিছুটা সময় কাটাতে চাইতে পারে।

একদম ছোট শিশুদের অনেকেরই রাত জাগার প্রবণতা থাকে
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

যে কারণেই জেগে থাকতে চেয়ে থাকুক না কেন, এই চাওয়ার বিষয়টা শিশু খাবারের চাহিদা হিসেবে প্রকাশ করতে পারে। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাবার খেলে অনেক সময়ই আমাদের অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ড কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে, যদি খুব বেশি চিনিযুক্ত খাবার না হয়। তাই বিশ্রামের প্রস্তুতি হিসেবেও খাবারের চাহিদা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া শিশুর দেহে বিপাকপ্রক্রিয়া চলে বেশ দ্রুতগতিতে। ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত সে যতটা খাবার খেয়েছে, ছোটাছুটি করতে করতে তা হজম হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তাই তার ক্ষুধা লেগে যেতেই পারে।

আরও পড়ুন

শিশু আপনাকেও চায়

আপনার সারাটা দিন কাটে সংসারের নানা ব্যস্ততায়। ঘরে কিংবা বাইরে যে লম্বা সময় আপনাকে ব্যস্ততায় কাটাতে হয়, সেই সময়টায় শিশু নিজের মনের মতো করে আপনাকে পায় না।

‘আমার তোমাকে প্রয়োজন’—এই সহজ কথাটা হয়তো সহজে বলতে পারে না সে। বরং সে বলে ফেলে, ‘আমার ক্ষুধা লেগেছে।’ আপনি আরও কিছুটা সময় তার সঙ্গে থাকুন, এটুকুই হয়তো চাওয়া তার।

শিশুরা চায় আপনি আরও কিছুটা সময় তার সঙ্গে থাকুন
ছবি: কবির হোসেন
আরও পড়ুন

তাই খেয়াল রাখুন

শিশুপালনের বিষয়টা হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। খাবার খাওয়ার জন্য যেমন জোরাজুরি করা ঠিক নয়, তেমনি অসময়ে খাবার চাইলে ধমকানোও উচিত নয়।

বরং ঘুমের আগের সময়টাতে স্বাস্থ্যকর চর্চা করতে পারেন। তাতে শিশুও থাকবে স্বস্তিতে। আপনিও রাতবিরাতে খাবার তৈরির বিপত্তিতে পড়বেন না।

শিশুর দাঁত ব্রাশ করিয়ে ফেলতে হবে
ছবি: অধুনা

• ঘুমের ঘণ্টাখানেক আগে হালকা খাবার দিন শিশুকে। এই খাবার কিন্তু এক গ্লাস দুধও হতে পারে। কিংবা কোনো ফল। চিনিযুক্ত খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার (যেমন চিপস, চকলেট বা ইনস্ট্যান্ট নুডুলস) এড়িয়ে চলুন।
• এ সময় খাবার দেওয়ার পর শিশুর দাঁত ব্রাশ করিয়ে ফেলতে হবে।
• ঘুমানোর অন্তত দু-তিন ঘণ্টা আগেই নিজের ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করে দিন। শিশুকেও এই নিয়মের মধ্যে থাকতে উৎসাহ দিন। ঘুমের আগের এই সময়টুকুতে শিশুকে এমন কিছু করতে দিন, যাতে সে প্রশান্তি পায়, খুব বেশি ছোটাছুটি না করে। সারা দিনে সে কী করল, আপনি কী করলেন, সেসব নিয়ে গল্প করতে পারেন। পথে হয়তো কোনো মজার ঘটনা ঘটেছে, সেটাও তার বয়সের উপযোগী করে বলতে পারেন। বেশি ছোটাছুটি না করেও খেলা যায়, এমন কিছু খেলতে পারেন।

শিশু যতটা খাবার খেয়েছে, ছোটাছুটি করতে করতে তা হজম হয়ে গিয়ে থাকতে পারে
ছবি : অগ্নিলা আহমেদ

• রোজ একই সময়ে শিশুর ঘুমের ব্যবস্থা করুন। ঘুম থেকে ওঠার সময়টাও রাখুন নির্দিষ্ট। ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা—সবটাই হোক আনন্দময়। নিজের মনমেজাজ খারাপ হলেও শিশুর জীবন থেকে আনন্দ কেড়ে নেবেন না। সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিলে সে তো ভালো থাকবেই, সঙ্গে ভালো থাকবেন আপনিও। বহু বছর পরে এই সময়গুলোই হয়ে থাকবে জীবনের পরম প্রাপ্তি।

আরও পড়ুন