প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায় কেন, চিকিৎসা কী

বয়সের কারণে অনেকেরই প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। কারও কারও হাঁচি-কাশি দিলে বা পেটে চাপ পড়লে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। নারী-পুরুষ যে কারোরই এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিব্রতকর একটি সমস্যা। বৃদ্ধ বয়সে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া নারীদের সন্তান প্রসবের পর এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

বয়সের কারণে অনেকেরই প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে
ছবি: পেক্সেলস

কারণ কী

  • মূত্রনালি সংকুচিত হওয়ার শুরুতে বা যখন সংকুচিত হওয়া উচিত, তখন না হয়ে অত্যধিক প্রস্রাবে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে প্রবল চাপে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মূত্র বেরিয়ে আসে।

  • মূত্রাশয় ও মূত্রনালি ঘিরে থাকা পেশিগুলো ঠিকমতো কাজ না করলেও এই সমস্যা হতে পারে।

  • নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়, অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি বা অন্য কোনো কারণে পেটের নিচের পেশিগুলো শিথিল হয়ে যেতে পারে।

  • পুরুষের বেলায় প্রোস্টেট গ্রন্থির সার্জারির পরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • অনেকের আবার প্রস্রাব করার পর মূত্রনালি সম্পূর্ণ খালি হয় না, একটু একটু করে ঝরতে থাকে বা প্রস্রাব করে আসার পরই আবার বাথরুমে ছুটতে হয়।

  • মূত্রনালির পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো বাধার কারণে এমন হতে পারে।

  • মূত্রতন্ত্রের কোনো সংক্রমণ, মূত্রনালির ক্যানসার, প্রোস্টেটের সমস্যা, পারকিনসন ডিজিজ, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।

  • এ ছাড়া অতিরিক্ত ট্রেসের কারণেও এ সমস্যা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

চিকিৎসা কী

যে কারণে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে, সেই কারণের চিকিৎসা করতে হবে। তবে বয়স হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূত্রথলি ও মূত্রনালির পেশির শক্তি ফিরে আসে না। সে ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন ও ফিজিওথেরাপি হতে পারে সমাধান।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম, অভ্যাসের পরিবর্তন ও কিছু ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে এ থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ব্যায়াম ১: চেয়ারে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে একটু সামনের দিকে ঝুঁকুন। এবার প্রস্রাব ধরে রাখার জন্য দরকারি মাংসপেশিগুলো সংকুচিত করুন। এই অবস্থায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড থেকে সংকুচিত মাংসপেশি ছেড়ে দিন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ১৫ বার এবং দিনে ৪ বার করুন। এই ব্যায়ামকে বলে পেলভিক ফ্লোর মাসল এক্সারসাইজ; যা মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে। রোজ ১০ থেকে ১৫ বার করুন।

ব্যায়াম ২: সোজা চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করে নিন। এবার ধীরে ধীরে কোমর ওপরের দিকে ওঠান। ৫ সেকেন্ড এভাবে ধরে রাখুন এবং ছাড়ুন। এই ব্যায়ামও দিনে ৪ বেলা এবং প্রতিবার ১০ বার করে।

ব্যায়াম ৩: কেগেল এক্সারসাইজ করার জন্য মাটিতে চিত হয়ে সোজাভাবে শুয়ে পড়ুন। দুটো পা ফাঁক করে রাখুন, হাত দুটি শরীরের দুই পাশে সোজা করে রাখুন। এবার শরীরের নিম্নভাগ (বুকের নিচ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত) ওপরের দিকে উঠিয়ে দিন। এভাবে ১৫ পর্যন্ত গুনুন। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। হয়ে গেলে ধীরে ধীরে শরীর নিচের দিকে নামিয়ে দিন। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ বার করুন।

আরও পড়ুন

কিছু অভ্যাস

  • প্রস্রাবের বেগ শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর প্রস্রাব করার অভ্যাস করা। এই ব্যায়াম প্রস্রাব ধরে রাখতে শেখায়। এটাকে বলে ব্লাডার ট্রেনিং।

  • এ ছাড়া টেনশনমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

  • অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকলে উপকার পাবেন।

মো. সাইদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক, চিফ কনসালট্যান্ট ও চেয়ারম্যান রি-অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ অ্যাভিনিউ, সাতরাস্তা, তেজগাঁও, ঢাকা

আরও পড়ুন