যখন–তখন নাক খোঁটানোর অভ্যাস আছে? ছাড়ার উপায় জানুন
খেয়ালে বা বেখেয়ালে করা কিছু কাজ অজান্তেই আমাদের ব্রিবতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। তেমনই একটি কাজ নাক খোঁটা। অকারণে যেখানে–সেখানে এ কাজ অনেকেই করেন। নাকের ভেতরে অতিরিক্ত শুষ্ক বা ভেজা অবস্থা—দুটিই বিরক্তিকর। তাই অনেকেই নাকের ভেতরের ময়লা আঙুল দিয়ে বের করেন।
উদ্বেগ থেকে যাঁরা নখ কামড়ান, তাঁদের মধ্যেও এই নাক খোঁটার অভ্যাস দেখা যায়। মেডিকেলের ভাষায় একে বলে ‘রাইনোটেলেক্সোমেনিয়া’। অতিরিক্ত নাক খোঁটা, বারবার নাকের ভেতর আঙুল দিয়ে ময়লা বের করার চেষ্টা বা নাকের লোম তোলার চেষ্টা—এটি একধরনের ডিজঅর্ডারও বটে।
নাকের ভেতর ময়লা হলে সকালে হাতমুখ ধোয়ার সময় বা গোসলের সময়ই তা পরিষ্কার করে নিতে পারেন। অন্যের সামনে বিব্রত হওয়া ছাড়াও নাকে বারবার আঙুল দিলে নানা রকম ক্ষতি হতে পারে।
সমাধান কী
অনেক সময় শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে নাকের ভেতরে অস্বস্তি অনুভূত হয়। এমন হলে নাকে স্যালাইন স্প্রে করে ভেতরটা শুষ্ক করা যায়। ‘স্যালাইন নাসাল ওয়াশ’ নাকের ভেতরের ময়লা বের করে আনতে সাহায্য করে, আবার সিজনাল অ্যালার্জিতেও উপকারী।
নাকে অতিরিক্ত ময়লা হওয়ার জন্য ধুলাবালু, ধোঁয়া ও ময়লা পরিবেশ দায়ী হতে পারে। আবার কম আর্দ্রতায় ড্রাই সাইনাসের সমস্যা হয়। তাই কেন বেশি ময়লা বা শ্লেষ্মা হচ্ছে, তা খুঁজে বের করুন। এতে বারবার নাকে হাত দেওয়ার বদভ্যাস থেকে বের হতে পারবেন।
এই বদভ্যাস যাঁদের আছে, মনের অজান্তেই তাঁদের আঙুল নাকে চলে যায়। তাই আঙুলে একটা ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে রাখতে পারেন। এতে আনমনে আঙুল নাকে গেলেও ব্যান্ডেজ দশা মনে করিয়ে দেবে, ‘অযথা নাকে আঙুল নয়।’
উদ্বিগ্ন হলে নাকে আঙুল না দিয়ে তা উপশমে বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে। উদ্বেগ কাটাতে পছন্দের গান শোনা, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, আঙুল গোনার মতো কাজ করে হাতকে ব্যস্ত রাখতে হবে। খেলা বা ছবি আঁকার চেষ্টাও উদ্বগে কাটাতে কার্যকর।
শিশু যদি এমন অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে ধমক বা বকা না দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন নাকে অযথা আঙুল দেওয়া ভালো নয়। একই সঙ্গে কাজটি শিশুর সকালে ফ্রেশ হওয়ার কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন। শিশুকে টিস্যু বা রুমাল ব্যবহারে উৎসাহ দিন।
সূত্র: হেলথ লাইন ও বিবিসি