ফেসবুকে কেন জনপ্রিয় এই ট্রেন্ড, কীভাবে আপনিও এমন ছবি বানাবেন

অভিনেত্রী জয়া আহসানের ‘ক্রেয়ন স্টাইল’ ছবিটি চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি

সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় প্রতিনিয়তই হাজির হচ্ছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। গত বছর যেমন জিবলি অ্যানিমেশন স্টাইল ট্রেন্ড ছিল। কিছুদিন আগে দলে দলে সবাই আবার তৈরি করছিল থ্রিডি ক্যারিকেচার। আর এবার এসেছে নতুন ট্রেন্ড—ক্রেয়নে আঁকা প্রোফাইল। দেখে মনে হবে যেন কোনো শিশুর আঁকা ছবি। আপনার চিরচেনা ফেসবুক প্রোফাইলটি মোমরঙে আঁকা হলে কেমন হতো, চাইলে সেটাই এআইয়ের মাধ্যমে একনজরে দেখে নিতে পারবেন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই ট্রেন্ডে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

কেন জনপ্রিয় ‘ক্রেয়ন ড্রয়িং ট্রেন্ড’

প্রযুক্তি যখন মানুষকে যান্ত্রিক করে তোলে, অবচেতনভাবেই তখন শিকড়ে বা শৈশবে ফেরার পথ খোঁজে মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ছোটবেলায় সাদা কাগজে মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকা অপটু হাতের ছবিগুলোর প্রতি আমাদের সবার একধরনের অদ্ভুত টান আছে। এই এআই ইফেক্ট ঠিক ছেলেবেলায় আঁকা ছবির মতো অনুভূতি দেয়, যা ব্যবহারকারীদের আবেগপ্রবণ করে তুলছে। দ্বিতীয়ত, আগে এই ধরনের ছবি তৈরি করতে ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রম দিতে হতো। এখন এআই প্রযুক্তির কারণে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে যে কেউ প্রফেশনাল মানের শৈল্পিক ছবি তৈরি করতে পারছেন। তৃতীয়ত, গতানুগতিক ফিল্টার বা এডিটিংয়ের চেয়ে ক্রেয়ন আর্ট অনেক বেশি ইউনিক। প্যাস্টেল টেক্সচার, অগোছালো স্কেচ আর উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার টাইমলাইনে খুব দ্রুত মানুষের নজর কাড়ছে।’
নিজের ফেসবুকে এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন তরুণ পেশাজীবী ফাহমিনা আকতার। তিনি বলেন, ‘সবাই দেখছি শেয়ার করছে। আমার প্রোফাইলে একটা বাঘের কভার ফটো আছে। দেখলাম সেই বাঘের একটা কিউট ছবিও এআই এঁকে দিয়েছে।’

নুসরাত ফারিয়ার ফেসবুক পেজ ক্রেয়ন স্টাইলে দেখাল এমন

কীভাবে তৈরি করবেন

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্ট ঘেঁটে দেখা যায়, সম্ভবত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ক্রেয়ন স্টাইলের চল শুরু হয়েছে। এই ট্রেন্ডে যোগ দেওয়া খুব সহজ। খুব বেশি ‘ডিজাইন সেন্স’ আপনার প্রয়োজন হবে না। অবশ্য সব ছবিই যে ‘মোমরঙে আঁকা’ হলে দেখতে ভালো লাগবে, তা নয়। এমন একটি ছবি বা আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট নিন, যেখানে আপনার চেহারা স্পষ্ট বোঝা যায়। পর্যাপ্ত আলো আছে, এমন ছবি ব্যবহার করলে এআই আপনার অবয়বটি নিখুঁতভাবে বুঝতে পারবে। বর্তমানে এ কাজটি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে করছে চ্যাটজিপিটি, ডাল-ই থ্রি মডেল ব্যবহার করে। এআইকে আপনি যত ভালো বুঝিয়ে বলতে পারবেন, ছবি তত সুন্দর হবে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশটটি (অথবা অন্য যেকোনো ছবি) চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করুন এবং এই প্রম্পটটি লিখুন: Please recreate the entire image in a crayon drawing style. Simplify the details so that it looks like it was drawn by a 10-year-old child. Do not use the original colors from the image. Make the overall look feel like it was drawn on a sheet of white paper, with a very cute and playful vibe. You can add adorable elements such as flowers, candies, stars, clouds, etc., to give it a childlike and innocent feel.
বাংলায় নির্দেশনা দিলে এভাবে বলতে পারেন: এই ছবিটিকে ক্রেয়ন ড্রয়িং স্টাইলে রূপান্তর করো। এটা যেন দেখতে ১০ বছরের বাচ্চার আঁকা ছবির মতো মনে হয়। ছবিতে ফুল, তারা, মেঘ ও ক্যান্ডির মতো কিছু সুন্দর জিনিস যোগ করতে পারো, যেন দেখতে কিউট লাগে।
এআই আপনাকে ছবিটি তৈরি করে দেওয়ার পর আপনি চাইলে রং পরিবর্তন বা ব্যাকগ্রাউন্ডে আরও কিছু যোগ করার অনুরোধ করতে পারেন। পছন্দমতো ছবি তৈরি হয়ে গেলে তা সেভ করে নিন।
ফেসবুকের এই ক্রেয়ন ড্রয়িং ট্রেন্ড মূলত যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে একটুখানি সারল্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা। প্রযুক্তি যখন মানুষকে জটিল করে দিচ্ছে, তখন এই সহজ-সরল শিশুসুলভ ছবি আমাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। তাই দেরি না করে আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট নিন এবং এআইয়ের জাদুতে ফিরে যান আপনার হারানো শৈশবে।

দেখে নিন প্রথম আলোর ‘ক্রেয়নে আঁকা’ ফেসবুক পেজ
আরও পড়ুন