সন্তান মায়ের কাছ থেকে যেসব গুণ বা বৈশিষ্ট্য পায়
সন্তান গড়ে তার জিনের অর্ধেক মায়ের কাছ থেকে পায়, স্বাভাবিকভাবেই বাকি অর্ধেক পায় বাবার কাছ থেকে। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া কিছু বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ জিন সন্তানের শরীরের বিপাকক্রিয়া, বার্ধক্যের গতি, বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যে প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের আইকিউ মায়ের আইকিউর কাছাকাছি থাকে। এ ছাড়া চুলের ধরন ও রং, চোখের রং, ঘুমের অভ্যাস, মেজাজ এবং কিছু রোগের ঝুঁকিও মায়ের দিক থেকে আসতে পারে।
১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ
কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। এটি শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া ও বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।
২. বুদ্ধিমত্তা
গবেষণায় দেখা যায়, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য
চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং, ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা (এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়, মোচড়ানো বা বাঁকানো দেখায় এবং সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি রঙের দাগের মতো দেখা যায়) শিশু সাধারণত মায়ের থেকেই পায়।
৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন
শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন, সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা—এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন
অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা (যেমন বিষণ্নতা) মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে।
৬. কিছু রোগের ঝুঁকি
মায়োপিয়া (কাছের জিনিস অস্পষ্ট দেখা), গ্লুকোমা, ছানি, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে।
৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)
ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার ঝুঁকি বেশি।
৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)
মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। এ ছাড়া জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ ও জীবনযাপনও সমানভাবে সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে।
সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন