এমা রাদুকানু ও কার্লোস আলকারাজ কি সত্যিই প্রেম করছেন
শিরোনামের প্রশ্নের উত্তর যা-ই হোক না কেন, এই দুজনের ভক্তরা খুব করে তাঁদের একসঙ্গে দেখতে চান। কেবল এই দুজনের ভক্তরাই নন, টেনিসপ্রেমীরাও চান এই দুই তারকা প্রেম করুক। ফলে তাঁদের প্রেম ঘিরে জল্পনার কমতি নেই। যেকোনো মাধ্যমে ছবির একই ফ্রেমে তাঁদের দেখা গেলে শুভকামনা জানানোর যেন ধুম লেগে যায়!
২৩ বছর বয়সী এমা রাদুকানু ব্রিটিশ টেনিস খেলোয়াড়। ২০২১ সালের ইউএস ওপেন জেতা প্রথম ব্রিটিশ উইমেন সিঙ্গেল চ্যাম্পিয়ন। খুবই কম বয়সে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করা এই টেনিস তারকা ফ্যাশন নিয়েও থাকেন আলোচনায়।
খেলার পাশাপাশি লাখ লাখ ডলারের স্পনসরশিপ আর বিজ্ঞাপনও তাঁর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ইনস্টাগ্রামে রাদুকানুর ফলোয়ার ছাড়িয়ে গেছে ২৯ লাখ।
২২ বছর বয়সী কার্লোস আলকারাজ বর্তমানে এটিপি বিশ্ব র্যাঙ্কিকিংয়ে টেনিস ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ১ নম্বর টেনিস তারকা। মাত্র ৪ বছর বয়সে টেনিস কোর্টে তাঁর পদচারণ শুরু। ৬ ফুট উচ্চতার স্প্যানিশ এই তারকার বাবা টেনিস কোচ।
মাত্র ১৪ বছর থেকে পেশাদার টেনিসে যাত্রা শুরু আলকারাজের। ইতিমধ্যে ৬টি গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা শোভা পাচ্ছে আলকারাজের শোকেসে। খেলায় দ্রুতগতি, সংগ্রামী মনোভাব, শক্তিশালী স্ট্রোক, আগ্রাসী খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব ও সব ধরনের সারফেসে জেতার জন্য তাঁকে বলা হচ্ছে ভবিষ্যতের টেনিস কিংবদন্তি। ইনস্টাগ্রামে আলকারাজের ফলোয়ার ছাড়িয়ে গেছে ৮০ লাখ।
এই দুজন ডুবে ডুবে জল খাচ্ছেন?
২০২৩ সালের মাঝামাঝি এমা রাদুকানু দর্শকসারিতে বসে কার্লোস আলকারেজের খেলা দেখেছেন। তখন থেকেই তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়। এরপর তাঁদের দেখা গেছে খেলার মাঠের বাইরে রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন জায়গায় সময় কাটাতে দেখা গেছে।
তাঁরা যখন ইউএস ওপেনে একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন, প্রেমের গুঞ্জনে আরও হাওয়া পেয়েছে। তবে রাদুকানু ও আলকারাজ দুজনেই ‘অলিখিত নিয়ম মেনে’ বলেছেন মুখস্থ কথা, ‘আমরা কেবলই ভালো বন্ধু।’
এককথায়, এই দুজনে এখন এমন এক অবস্থায় আছেন, যেখানে নিজেদের মধ্যকার বিষয়টি গোপন রাখতে চান। অনেকেরই ধারণা, তাঁরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্কটাকে উপভোগ করতে চান, মজবুত করতে চান।
হয়তো সঠিক সময় এলে ভক্তদের দাবি মিটিয়ে প্রেমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেবেন। তার আগপর্যন্ত নীরবে, নিভৃতে নিজেদের সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার অধিকার তো তাঁদের আছেই।
এটাই রাদুকানুর প্রথম প্রেম নয়
২০২৩ সালের শুরুর দিকে এমা রাদুকানু সম্পর্কে জড়ান কার্লো আগোসতিনেল্লির সঙ্গে। মার্কিন মাল্টি-বিলিয়নিয়ার ও ব্যাংকার রবার্ট আগোসতিনেল্লির পুত্র কার্লো। তাঁর মা ফ্রান্সিসকা লানা বিশ্বখ্যাত লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডি’ওরর জনসংযোগ পরিচালক।
রাদুকানু ও কার্লো ২০২৩ সালের মে মাসে হাতে হাত রেখে যোগ দেন প্যারিস ফ্যাশন উইকে। এটা অনেকটা ছিল তাঁদের প্রেমের নীরব ঘোষণা।
এরপর তাঁরা দুজন অন্তত দুবার দেশের বাইরে ঘুরতে গেছেন। সেই ছবিও প্রকাশ করেছিলেন নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
২০২৪ সালের জুনে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। রাদুকানু ইনস্টাগ্রামে কার্লোকে আনফলো ও ব্লক করেন। কার্লোর সঙ্গে প্রকাশ করা ছবিও ডিলিট করে দেন। এটিকে অনেকে নীরব আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ঘোষণা হিসেবে ধরে নিয়েছেন। অনেকে আবার রাদুকানু ও কার্লোর বিচ্ছেদের জন্য দায়ী করেন টেনিস তারকা আলকারাজকে!
একাধিক সম্পর্ক ছিল আলকারাজেরও
কার্লোস আলকারাজ আগে নিজের চেয়ে ৭ বছরের বড় মার্কিন মডেল ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্রুকস নেডারের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। সেই সম্পর্ক টিকেছিল বড়জোর ৬ মাস।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্রুকস নেডার ‘এলে’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কীভাবে ‘সিঙ্গেল হয়ে সুখে আছেন’, তা জানান। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে একাধিক নারীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে আলকারাজের।
সূত্র: এলে