প্রাক্তনের কাছে ফিরতে ইচ্ছা করছে? আগে নিজেকে ৬টি প্রশ্ন করুন

কিছু সম্পর্ক ‘শেষ হয়েও হয় না শেষ’। কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়, যোগাযোগের পথ মুছে যায়, পুরোনো ছবিগুলো আর্কাইভে চলে যায়; তবু মনের ভেতর কোথাও একটা দরজা খোলা থাকে। সময় পেরিয়ে কখনো অজান্তে সেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়, আবার কি শুরু করা যায়?

প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক নয়। পরিচিত একজন ব্যক্তির কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে একধরনের স্বস্তি আছে
মডেল: তামিম মৃধা ও সারিকা সাবা। ছবি: কবির হোসেন

প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক নয়। পরিচিত একজন ব্যক্তির কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে একধরনের স্বস্তি আছে। তাঁর সঙ্গে জীবনের অনেকটা পথ ইতিমধ্যেই হেঁটেছেন। তাই তাঁকে নতুন করে নিজেকে বোঝাতে হয় না, নিজের অভ্যাস, ভয়, দুর্বলতা কিংবা আনন্দের জায়গাগুলোও ব্যাখ্যা করতে হয় না। কিন্তু পরিচিত বলেই কি সেই সম্পর্ক আবার নিরাপদ হবে?

সব সময় নয়। কারণ, মানুষ কখনো কখনো ভালোবাসার জন্য নয়, একাকিত্বের জন্য প্রাক্তনের কাছে ফিরতে চায়। কখনো নস্টালজিয়া বা অপরাধবোধ থেকে, আবার কখনো মনে হয়, ‘হয়তো এবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’ অথচ পুরোনো সম্পর্ক জোড়া লাগানোর আগে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, কেন সম্পর্কটি ভেঙেছিল? সঙ্গে আরও কিছু প্রশ্ন নিজেকে করুন।

১. সম্পর্কটি কেন ভেঙেছিল?

প্রাক্তনের কাছে ফেরার আগে প্রথমেই ফিরে তাকাতে হবে বিচ্ছেদের কারণটির দিকে। যদি সম্পর্কটি শেষ হয়ে থাকে ভুল–বোঝাবুঝি, দূরত্ব, অপরিণত আচরণ কিংবা জীবনের ভুল সময়ে একে অপরকে পাওয়ার কারণে, তাহলে পরিস্থিতি বদলালে সম্পর্কটিকে নতুন করে ভাবার সুযোগ থাকতে পারে।

কিন্তু সম্পর্ক ভাঙার কারণ যদি হয় অসম্মান, প্রতারণা, নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা, বারবার মিথ্যা বলা, মানসিক নির্যাতন কিংবা বিশ্বাসের ধারাবাহিক ভাঙন, তাহলে শুধু ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে সেই সম্পর্ককে নতুন করে নিরাপদ করা যায় না।

সম্পর্ক ভাঙার কারণ বদলেছে কি না, সেটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

২. দুজন কি বদলেছেন?

সময় মানুষকে বদল দেয়। কেউ নিজের ভুল বুঝতে শেখে, কেউ যোগাযোগের ধরন বদলায়, কেউ নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন হয়। আবার কেউ শুধু সময় পার করে, কিন্তু একই জায়গায় থেকে যায়। তাই ‘সে বদলে গেছে’—এমন ধারণার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বদলের প্রমাণ।

৩. আপনিও কি বদলেছেন?

পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে শুরু করতে গেলে শুধু দুজন ব্যক্তি পুরোনো থাকে না, পুরোনো সমস্যাগুলোও সঙ্গে ফিরে আসতে পারে।

৪. আপনি কি তাঁকে মিস করছেন, নাকি পুরোনো জীবনটিকে?

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য। কখনো আমরা মানুষটিকে নয়, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়কে মিস করি। সেই রাতজাগা কথোপকথন, হঠাৎ ফোন, একসঙ্গে কোথাও যাওয়ার স্মৃতি, জন্মদিনের শুভেচ্ছা কিংবা অসুস্থ হলে পাশে থাকার অনুভূতি—এসব মনে পড়তে পারে। তখন মনে হয়, ‘আমি তাঁকে ফিরে পেতে চাই।’

কিন্তু একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আমি কি মানুষটিকে চাই, নাকি তাঁর সঙ্গে থাকা অবস্থায় নিজেকে যে রকম মনে হতো, সেই অনুভূতিকে চাই? উত্তরটা অনেক কিছু পরিষ্কার করে দিতে পারে।

কখনো আমরা মানুষটিকে নয়, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়কে মিস করি
মডেল: সাথী ও শামস। ছবি: প্রথম আলো

৫. একাকিত্বের সময়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি?

রাত গভীর হলে পুরোনো মানুষের কথা বেশি মনে পড়তে পারে। বিশেষ করে জীবনে যখন নতুন কেউ নেই, বন্ধুরা ব্যস্ত, কিংবা নিজের জীবন নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন প্রাক্তনকে আবার খুব প্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু একাকিত্ব আর ভালোবাসা এক জিনিস নয়।

একাকিত্বের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু পুরোনো সমস্যাগুলো ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই প্রাক্তনের কাছে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে থাকা জরুরি। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরও একই মানুষটিকে একই কারণে ফিরে পেতে চাইছেন কি না, তা ভেবে দেখুন।

৬. দুজনেরই কি ফিরে আসার ইচ্ছা আছে?

সম্পর্ক কেবল একজন পুনর্গঠন করতে পারে না। আপনি হয়তো সম্পর্কটি ফেরাতে চান, কিন্তু অন্যজন হয়তো শুধু অতীতকে সম্মান করেন, সম্পর্কে ফিরে যেতে চান না। সেই সিদ্ধান্তকেও সম্মান করতে হবে। আবার দুজনেই যদি ফিরে আসতে চান, তাহলেও শুধু ‘আমরা একে অপরকে ভালোবাসি’ যথেষ্ট নয়। এবার কথা বলতে হবে কীভাবে সম্পর্কটি আগের চেয়ে ভালো হবে, তা নিয়ে।

আরও পড়ুন

আরও কিছু প্রশ্ন

কোন ভুল আর করা যাবে না? কোনো সীমারেখা থাকবে? কীভাবে মতবিরোধ সামলাবেন? কতটা ব্যক্তিগত জায়গা প্রয়োজন? ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজনের প্রত্যাশা কী? প্রেমের পাশাপাশি এসব প্রশ্নের উত্তরও দরকার।

সম্পর্কে অতীতকে পুরোপুরি অস্বীকার করে এগোনো যায় না
মডেল: আহসান ও উর্বি। ছবি: কবির হোসেন

পুরোনো সম্পর্ককে নতুন সম্পর্কের মতো দেখতে হবে

প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় একটি ভুল ধারণা অনেকেরই থাকে। অনেকেই ভাবেন, ‘আমরা তো আগেও একসঙ্গে ছিলাম, তাই সব আগের মতোই থাকবে।’

আদতে তা নয়। যে সম্পর্ক একবার ভেঙেছে, সেটিকে আবার শুরু করতে হলে পুরোনো সম্পর্কটি ‘কপি’ না করে নতুন সম্পর্ক হিসেবে তৈরি করতে হয়। আগের অভিমান, পুরোনো ঝগড়া, পুরোনো হিসাব বারবার টেনে এনে নতুন শুরু করা যায় না। আবার অতীতকে পুরোপুরি অস্বীকার করেও এগোনো যায় না।

বরং প্রয়োজন কী ঘটেছিল, তা বোঝা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং এবার কীভাবে ভিন্নভাবে এগোনো যায়, সেটি ঠিক করা।

সূত্র: সেলফ ম্যাগাজিন

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন