default-image

অনেককাল আগে বাংলাদেশ টিভির জন্য আমি ঈদের নাটক লিখতাম। রোজার ঈদের রাতে সেই সব নাটক প্রচারিত হতো। খুব সম্ভব ছয়টি বা সাতটি নাটক লিখেছি। নাটক দেখে দর্শকদের লাভ কী হয়েছে জানি না...আমার লাভ একটাই, ঈদ মাটি। নাটক কেমন হবে, এই টেনশনে ঈদের দিনটা অসহ্য বোধ হতো। মেহমানেরা বাসায় এসে আমাকে দেখে প্রথম যে প্রশ্নটা করত সেটা হচ্ছে, ‘কী ব্যাপার, হুমায়ূন সাহেবের কি শরীর খারাপ?’ ঈদের নাটক লেখা আমি ছেড়ে দিই মূলত টেনশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা দেখতে গিয়ে আমার মনে হলো, আমাদের খেলোয়াড়দেরও কি এই অবস্থা হচ্ছে? টেনশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাঁরা কি খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন? নিজের দলের সাফল্যের আনন্দ যেমন সীমাহীন, ব্যর্থতার বেদনাও তেমন সীমাহীন। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা যখন বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন, আমার মনে হচ্ছিল বল না, ওরা যেন আমার পিঠে ব্যাট মেরেছেন। আমি আর্তনাদ করতে করতে মাঠের বাইরে ছুটে যাচ্ছি। আবার আমাদের ব্যাটসম্যানরা যখন বল মাঠের বাইরে পাঠাচ্ছেন, তখন নিজেকে বল মনে হচ্ছে, তবে ‘পাখি-বল’। যে পাখি আনন্দে নাচতে নাচতে, উড়তে উড়তে সীমানার বাইরে যাচ্ছে। এই আলো এই অন্ধকার নিয়ে খেলা দেখার কষ্ট যে এত প্রবল, সে ধারণা আগে ছিল না।

গত খেলায় মজাদার কী ঘটেছে, তা বলি। আকরাম খান ব্যাট করতে এলেন। দর্শকেরা প্রায় একসঙ্গে বললেন, ‘কখন আউট হবে? কখন আউট হবে?’ যখন শূন্য রানে তিনি আউট হলেন, দর্শকদের একজন বললেন, ‘বাঁচলাম।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাঁচলেন কেন?’

বিজ্ঞাপন

তিনি বললেন, ‘খাঁ সাহেব ৩০ থেকে ৪০টা বল নষ্ট করে শূন্য রানে বিদায় হতেন, এখন অল্প বল নষ্ট করেই বিদায় হয়েছেন।’ আকরাম খাঁর দ্রুত আউট হওয়া বাংলাদেশের জন্য অভিশাপের মুখোশ পরা আশীর্বাদ। কেউ শূন্য রানে আউট হলে বড় বড় খেলোয়াড়ের উদাহরণ টানা হয়—যাঁরা শূন্য রানে আউট হয়েছেন। শচীন টেন্ডুলকার কবে কোথায় শূন্য পেয়েছেন...এই সব। তাঁদের ব্যাপার ভিন্ন। তাঁরা কোনো একটা খেলায় শূন্য পান, কিন্তু আগের এবং পরের দশটায় সেঞ্চুরি করেন। কোনো খেলোয়াড় প্রতিটা খেলায় শূন্য করবেন এবং আমরা তাঁর শূন্যকে শচীন টেন্ডুলকারের শূন্যের সঙ্গে তুলনা করব, তা হয় না।

যেসব দিনে বাংলাদেশের বোলিং ভালো হয়, অবধারিতভাবে সেসব দিনে তাদের ব্যাটিং হয় খারাপ। ব্যাটিং ভালো হলে বোলিং খারাপ। কোনো কোনো দিন হাতে বল ধরেও মাটিতে ফেলে দেন। মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর খুবই নাটকীয় ভঙ্গিতে সেই বলটার দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাঁদের মুখ দেখে মনে হয়, তাঁরা বলটাকে বলছেন, ‘কি রে ব্যাটা, তুই এমন হাত থেকে পড়ে গেলি কেন?’

অনেক কঠিন কথা বলেছি, এবার কিছু তরল কথা। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলায় জেতার পর ভোরের কাগজ–এ কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের একটি কার্টুন ছাপা হয়েছে। কার্টুনটি দেখে অনেকদিন পর খুব মজা পেলাম। কার্টুনটি হলো, গৃহিণী রুটি বেলার বেলুন নিয়ে রুদ্রমূর্তিতে স্বামীকে খুঁজছেন। স্বামী বেচারা খাটের নিচে লুকিয়ে আছেন। ভয়ে তার আত্মা উড়ে যাচ্ছে। গৃহিণী বলছেন, ‘মিনসে কই? সে না বলেছিল বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডের সঙ্গে হারবে?’

মন্তব্য পড়ুন 0