সরকারি টেন্ডারে দেশীয় অগ্রাধিকার আইন কেন ব্যবহার হচ্ছে না

আমি ২০০৮ সাল থেকে সরকারি দরপত্রের কাজ করে আসছি। এই প্রায় দুই দশকে হাতে গোনা দু-একটি দরপত্র ছাড়া কোথাও দেশীয় অগ্রাধিকারের ধারাটি প্রয়োগ করা দেখিনি। অথচ এই সুবিধা দেওয়ার আইনি ব্যবস্থা রাষ্ট্রের হাতে বহু বছর ধরেই আছে।

সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করেছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় একনেক সরকারি ভবন নির্মাণে আমদানি করা পণ্যের বদলে দেশে তৈরি টাইলস ও লিফট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে এবং নির্দেশনাটি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি স্বাগত জানানোর মতো। কিন্তু এখানে একটি নীরব বৈপরীত্য আছে—দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া তো নতুন কিছু নয়, বিদ্যমান বিধিমালাতেই সরকারি সংস্থাগুলোকে দেশীয় পণ্য কেনায় উৎসাহ দেওয়া আছে। তবু টাইলস ও লিফটের জন্য আলাদা করে একটি নির্দেশ জারি করতে হলো কেন? কারণ, বিদ্যমান বিধানটি এমনিতে প্রয়োগই হচ্ছিল না। সমস্যাটা তাই আইনে নয়, প্রয়োগে।

বিষয়টির মাপ বোঝা যাক একটি সংখ্যায়। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০১৯–২০ অর্থবছরে সরকারি ক্রয় ছিল জাতীয় বাজেটের ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ, জিডিপির ৮ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রতিবছর যে বিপুল অর্থ খরচ করে, তার সিংহভাগই যায় দরপত্রের পথ ধরে। প্রতিটি দরপত্র তাই নীরবে একটি বড় প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে দেয়—এই টাকা দেশের ভেতরে শিল্প ও দক্ষতা গড়বে, নাকি অন্যের সক্ষমতা কিনে দেশের বাইরে চলে যাবে।

এই টাকায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার হাতিয়ার আমাদের আইনেই আছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং বিধিমালায় দেশীয় অগ্রাধিকার বা ডমেস্টিক প্রেফারেন্সের বিধান রয়েছে; দেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য মূল্যায়নে সাধারণত সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ এবং পূর্তকাজে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। আইন ও স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট যেখানে অনুমতি দেয়, সেখানে স্থানীয় সেবা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতাকেও মূল্যায়নের অংশ করা যায়। কেউ যেন না ভাবেন এটি আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী। বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর সরকারি ক্রয় চুক্তির (জিপিএ) স্বাক্ষরকারীই নয়, আর বিশ্বব্যাংক ও এডিবির নিজস্ব ক্রয়নীতিতেও নির্দিষ্ট শর্তে দেশীয় অগ্রাধিকার স্বীকৃত। অর্থাৎ আমরা কোনো নিয়ম ভাঙছি না, বরং একটি স্বীকৃত অধিকারই ব্যবহার করছি না।

এটি সরকারের সংস্কার-দিকনির্দেশনার বিপরীতও নয়। নতুন পিপিআর ২০২৫, যা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে পুরোনো পিপিআর ২০০৮-এর জায়গা নিয়েছে, তাতে টেকসই সরকারি ক্রয়ের ধারণা যুক্ত হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্যরূপে নিম্ন মূল্যের দরপত্র চিহ্নিত করতে একটি সূত্রভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এমনকি অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে আগের সেই মূল্যসীমার বিধান, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিয়েছিল, তা তুলে দিয়ে ভ্যালু ফর মানি ও টেকসই ক্রয়কে সামনে আনা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার নিজেই ‘সবচেয়ে কম দামই সেরা’ যুক্তি থেকে সরে আসছে।

আরও পড়ুন

তাহলে সমস্যাটা ঠিক কোথায়? এখানেই আমার মূল আপত্তি। বর্তমান ব্যবস্থায় দেশীয় অগ্রাধিকার প্রয়োগ করা না–করা মূলত ক্রয়কারী সংস্থার ঐচ্ছিক সিদ্ধান্ত। ই-জিপিতে বা অন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাকে কেবল একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নিতে হয়, আর বাস্তবে প্রায় সব সময় বেছে নেওয়া হয় ‘না’। এর পেছনে অজ্ঞতা যেমন আছে, তেমনি আছে দায় এড়ানোর প্রবণতা—দেশীয় পণ্যে দাম সামান্য বেশি পড়লে অডিট আপত্তির ভয়ে কর্মকর্তারা সহজ পথে সর্বনিম্ন বিদেশি দরের দিকে চলে যান। প্রশ্নটি সহজ, দেশীয় অগ্রাধিকার যদি রাষ্ট্রের নীতিই হয়, তবে সেটি কেন একজন কর্মকর্তার ইচ্ছাধীন বিষয় হবে?

আরও গভীর একটি সমস্যা আছে, যা নিয়ে আমরা প্রায় কথাই বলি না। বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে দরপত্রের স্পেসিফিকেশন তৈরি করা যায় না। অথচ বাংলাদেশে সম্ভবত এখানেই সবচেয়ে বড় ঘাটতি। যিনি পণ্যটি বা কাজটি সত্যিকার অর্থে বোঝেন, সেই সাবজেক্ট স্পেশালিস্টকে হয় স্পেসিফিকেশন তৈরির কাজে রাখা হয় না, নয়তো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ কোনো লোকই নেই। ফল যা হওয়ার তা-ই হয়, স্পেসিফিকেশন হয়ে যায় হয় দায়সারা, নয়তো কোনো নির্দিষ্ট বিদেশি পণ্যের বিবরণ থেকে হুবহু নকল করা। দেশীয় সক্ষমতার কথা তখন সেখানে আসবে কোত্থেকে?

এর পরিণতি সরাসরি। মূল্যায়ন যখন কেবল সর্বনিম্ন দরে হয়, তখন আমদানি করা পণ্য, বিশেষত চীনা পণ্য, খাতা-কলমে সস্তা দেখিয়ে কাজ নিয়ে যায়; কিছু ক্ষেত্রে করছাড়ের সুবিধায় ব্যবধান আরও বাড়ে। অথচ প্রশ্নটা সক্ষমতার নয়। লিফটের কথাই ধরুন। শিল্পের হিসাব বলছে, আরএফএল মাসে প্রায় ১০০টি এবং ওয়ালটন প্রায় ৬০টি লিফট বানাতে পারে, অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠান মিলে মাসে প্রায় ১৬০টি, যেখানে সরকারি চাহিদা মাসে ৫০টির কম; আর দেশীয় লিফটে ক্রয়ব্যয় অন্তত ২০ শতাংশ কমে। সিরামিক খাতেও উদ্বৃত্ত সক্ষমতা পড়ে আছে। ঢাকা বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে জাপানি ঠিকাদারের নির্ধারিত মান পূরণ করেই দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিমেন্ট, রড, ইট ও বালু সরবরাহ করেছে। অর্থাৎ মান আর বাধা নয়, বাধা হলো দরপত্রে সুযোগটাই না রাখা।

আরেকটি সত্য প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয়—সবচেয়ে কম দাম মানেই সবচেয়ে সাশ্রয়ী নয়। একটি ছোট হিসাব করা যাক। ধরুন, একটি আমদানি করা যন্ত্রের দাম ১০০ টাকা, দেশীয়টির ১০৮ টাকা; কাগজে আমদানিটিই সস্তা। কিন্তু পাঁচ বছরে আমদানি যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ, বিদেশি টেকনিশিয়ানের সেবা ও বেশি ডাউনটাইম মিলিয়ে বাড়তি খরচ দাঁড়ায় ধরা যাক ৩০ টাকা, মোট ১৩০ টাকা। দেশীয়টির সেবা ও যন্ত্রাংশ দেশেই, বাড়তি খরচ ৫ টাকা, মোট ১১৩ টাকা। সস্তায় কেনা আর সাশ্রয়ী কেনা এক জিনিস নয়। এমনকি পুরো যন্ত্র আমদানি না করে মানসম্পন্ন যন্ত্রাংশ এনে দেশে সংযোজন করলে ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, সেই সঙ্গে তৈরি হয় দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা।

আরও পড়ুন

সমস্যা কেবল ধারা না বসানোয় নয়, কাঠামোতেও আছে। রেট শিডিউল কিংবা যোগ্যতার শর্তে অনেক সময় মানের বদলে কোম্পানির বয়স বা উৎপাদক দেশের নাম দিয়ে শ্রেণিবিন্যাস হয়। কখনো এমন অভিজ্ঞতার শর্ত বসানো হয়, যা অনেক সক্ষম দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের চেয়েও পুরোনো। এখানে একটি বৈপরীত্য—সরকার যদি কেবল অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকেই কাজ দেয়, তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞতা অর্জন করবে কোথা থেকে? সক্ষমতা নিজে নিজে তৈরি হয় না, কাজ দিয়ে তৈরি করতে হয়। তাই অত্যন্ত বড় ও স্পর্শকাতর প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দরকার হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি দরপত্রে এমন শর্ত বসানো উচিত নয়, যাতে যোগ্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান শুরুতেই ছিটকে পড়ে।

একটি হিসাব এই আলোচনায় সবচেয়ে কম হয়। সরকারি প্রকল্পের টাকা কেবল মূল ঠিকাদারের কাছে যায় না; একটি দেশীয় প্রকল্পের অর্থ ঘোরে প্রকৌশলী, ফেব্রিকেটর, কেব্‌ল ও স্ট্রাকচার সরবরাহকারী, পরিবহন, স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, ভ্যাট, আয়কর আর কর্মসংস্থানের ভেতর দিয়ে। একই ১০০ টাকা দেশের অর্থনীতিতে কয়েকবার ঘোরে। বিপরীতে বিদেশ থেকে টার্নকি ক্রয়ে এই মূল্যশৃঙ্খলের বড় অংশ দেশের বাইরে চলে যায়। সরকারি ক্রয়ের আসল মূল্য তাই কেবল দাম নয়, সেই টাকা দেশে কতবার ঘোরে, সেটিও।

স্বাভাবিক আপত্তিটি এখানে তুলে ধরা ভালো। দেশীয় অগ্রাধিকার দিলে তো সরকার অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে কিনবে। উত্তর হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য কিছুটা বেশি হতে পারে। কিন্তু দেশীয় অগ্রাধিকারে সরকার যে সুযোগ দেয়, সেই পরিমাণ টাকা সে অন্য ভ্যাট বা ট্যাক্স থেকে পেয়ে যায়। ফলে এখানে দেশের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু সেই সামান্য সুযোগ দেশের শিল্প–সক্ষমতা, কর্মসংস্থান, রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের বিনিময়ে একটি বিনিয়োগ। পরিষ্কার করে বলি, অগ্রাধিকার মানে অযোগ্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া নয়। আমি সুরক্ষাবাদ চাই না, কৌশলগত ক্রয় চাই।

একটি অভিজ্ঞতা বলি। জাতিসংঘের একটি প্রকল্পে আশিটির বেশি দেশের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে একমাত্র ভারতের ক্ষেত্রেই শর্ত ছিল, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। উদ্দেশ্য কেবল আজকের কাজটি শেষ করা নয়, পরের কাজটি যেন দেশীয় কোম্পানি নিজেই করতে পারে। যৌথ উদ্যোগ তাই কেবল কাগুজে অংশীদারত্ব নয়, এটি হওয়া উচিত জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা হস্তান্তরের বাস্তব ব্যবস্থা। আমরা গত এক দশকে অনেক মেগা প্রকল্প শেষ করেছি, কিন্তু মেগা সক্ষমতা তৈরি করিনি। ফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে, একটি বিমানবন্দর বা একটি মেট্রোরেল করতে গেলেও আজও আমাদের বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।

আরও পড়ুন

এটি বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত পথ। ভারতে ২০১৭ সালের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ক্রয় আদেশে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি হলে সরবরাহকারী ‘ক্লাস-১’ এবং ২০ থেকে ৫০ শতাংশ হলে ‘ক্লাস-২’ শ্রেণিভুক্ত হয়ে সরকারি ক্রয়ে অগ্রাধিকার পায়। উগান্ডার ‘বাই উগান্ডা বিল্ড উগান্ডা’ নীতি ২০১৪ সালে অনুমোদিত ও ২০১৭ সালে চালু হয় স্থানীয় পণ্য ও সেবার ক্রয় বাড়াতে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সক্ষমতা গড়তে। বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পথে; তাই ডব্লিউটিও সংগতি রেখেই অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব, বিশেষত যেহেতু আমরা জিপিএর সদস্য নই।

তাহলে করণীয় কী? আমি দুই স্তরে ভাবতে বলি।

প্রথমত, যা আগামীকালই যেকোনো দরপত্রে বসানো যায়, মাত্র তিনটি লাইন:

এক. দেশীয় অগ্রাধিকার প্রযোজ্য: পণ্যে ১৫ শতাংশ, পূর্তকাজে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যায়ন-সুবিধা।

দুই. আন্তর্জাতিক দরপত্রে দেশীয় ফার্মের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক করা হোক, স্থানীয় অংশীদারত্ব ন্যূনতম ৩০ শতাংশ এবং এই অংশীদারত্ব যেন কাগুজে না হয়, বরং প্রকৃত কাজ, স্থানীয় প্রকৌশলী নিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ভিত্তিতে হয়।

তিন. যন্ত্রাংশ ও বিক্রয়োত্তর সেবা কমপক্ষে পাঁচ বছর দেশেই নিশ্চিত করার শর্ত।

দ্বিতীয়ত, যা ব্যবস্থাগত পর্যায়ে বদলাতে হবে:

দেশীয় অগ্রাধিকারকে ঐচ্ছিক নয়, অনুমেয় করা হোক; স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্টে ধারাটি ডিফল্টভাবে থাকবে, প্রয়োগ না করলে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে তা প্রকাশ্যে প্রকাশ করতে হবে। ই-জিপিতে একটি স্বয়ংক্রিয় যাচাই যুক্ত হোক, যাতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে কোনো দরপত্র প্রকাশ করা না যায়। প্রকৃত উৎপাদক ও নামসর্বস্ব আমদানিকারকের পার্থক্য টানতে ন্যূনতম স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত এবং একটি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ চিহ্নিতকরণ চালু হোক। রেট শিডিউল ও যোগ্যতার শর্ত হালনাগাদ হোক মান ও স্থানীয় সক্ষমতার ভিত্তিতে; বয়স বা দেশের নামে নয়।

আর সবচেয়ে জরুরি, স্পেসিফিকেশন তৈরির টেবিলে সাবজেক্ট স্পেশালিস্টকে বসানো হোক, প্রয়োজনে এই দক্ষতা গড়ে তোলা হোক; কারণ, ভুল স্পেসিফিকেশন দিয়ে ভালো ক্রয় সম্ভব নয়। মূল্যায়নের মানদণ্ড হোক ভ্যালু ফর মানি ও জীবনচক্র ব্যয়, নিছক সর্বনিম্ন দর নয়; আর সরল বিশ্বাসে অগ্রাধিকার প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে অডিট আপত্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হোক।

একনেকের টাইলস-লিফট সিদ্ধান্ত ভালো সূচনা, কিন্তু একটি-দুটি পণ্যের জন্য আলাদা নির্দেশ নয়, দরকার একটি ব্যবস্থাগত সমাধান, যা প্রতিটি দরপত্রে দেশের কথা মনে রাখতে বাধ্য করে। আমরা প্রায়ই বলি, বাংলাদেশের টাকায় বাংলাদেশ গড়ব। সেই গড়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারটি পড়ে আছে আইনের বইয়ে, দরপত্রের ঘরটিতে অব্যবহৃত। সক্ষমতা আছে, আইন আছে; নেই কেবল প্রয়োগের সদিচ্ছা, সঠিক লোক আর কয়েকটি লাইন।

আজ যে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘অনভিজ্ঞ’ বলে বাদ দিচ্ছি, পাঁচ বছর পর সেই প্রতিষ্ঠানই হয়তো আমাদের বিদেশনির্ভরতা কমাতে শুধু নয়, বিদেশে রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারত। সরকারি ক্রয় তাই কেবল কেনাকাটা নয়, এটি একই সঙ্গে শিল্পনীতি, কর্মসংস্থাননীতি ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের হাতিয়ার। হাতিয়ারটি যদি আমাদের হাতেই থাকে, তবে সেটি ব্যবহার না করার কারণ কী?

  • সুবাইল বিন আলম ইঞ্জিনিয়ার ইকোনমিস্ট, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক

[email protected]

মতামত লেখকের নিজস্ব