‘সবকিছুই সম্ভব’—স্পষ্ট কণ্ঠে ঘোষণা করেছে অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষের রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার পর উগ্র ডানপন্থী এই দলটি কেবল জার্মানি নয়, পুরো অঞ্চলে জোর কম্পন সৃষ্টি করেছে।
বিগত দশকজুড়ে দাপট দেখানো অন্যান্য জনতুষ্টিবাদী আন্দোলনের মতোই এএফডিও তাদের আসল রূপ লুকিয়ে রাখার কোনো চেষ্টা করেনি।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই এএফডি ২৫৮ পৃষ্ঠার একটি ইশতেহার প্রকাশ করে, যার মূল স্লোগান ছিল: ‘সবার আগে দেশ’। এই ইশতেহারে প্রাকৃতিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিসহ বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বিশেষত যাদের দেখতে বা শুনতে ঠিক ‘জার্মানদের মতো’ মনে হয় না।
ইশতেহারটিতে স্কুলের ইতিহাস পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ‘হিটলারের পাঠ কমিয়ে বিসমার্কের ইতিহাস বেশি পড়ানো হয়’। এর মূল উদ্দেশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর জার্মানির নাৎসিবাদ ও হলোকস্ট স্মরণের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তাকে ছোট করে সাম্রাজ্যবাদী অর্জন ও জাতীয় শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
এএফডির এই ইশতেহারে ‘স্বাভাবিক’ বা প্রথাগত বিষমকামী পরিবারকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এলজিবিটিকিউ পরিবারসহ তাদের চোখে ‘পথভ্রষ্ট’ গোষ্ঠীগুলোর আইনি স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
দলটি ইউক্রেনে জার্মানির সামরিক সহায়তার কঠোর বিরোধিতা করে এবং দাবি করে যে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলেই কেবল জার্মানদের জন্য সস্তা জ্বালানি ও পণ্যের কম দাম নিশ্চিত করা সম্ভব।
উগ্র ডানপন্থী এই দলটির ইশতেহার পুরোটা পড়ার মতো। কোনো সন্দেহ নেই যে স্যাক্সনি-আনহাল্ট এবং পাশের একটি রাজ্যে এএফডির শাখাগুলোকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা কেন ‘ডানপন্থী চরমপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে এটি স্বীকার করতেই হবে যে জার্মানির এক বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে এই চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গিই বেশ প্রলুব্ধকর মনে হচ্ছে।
এএফডির প্রলোভনময় প্রতিশ্রুতি
বার্লিনের একের পর এক জোট সরকারের নীতি ছিল আমলাতান্ত্রিক ও ধীরগতির—যেখানে কঠিন বাস্তবতার মুখে অগ্রগতি হতো অত্যন্ত ধীরগতিতে, যদি আদৌ কোনো অগ্রগতি হতো। এর বিপরীতে এএফডির এই চোখধাঁধানো ও সরলীকৃত প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের সহজে আকৃষ্ট করছে।
বাজেটঘাটতি মেটাতে কাটছাঁট, চীনের তীব্র প্রতিযোগিতায় চাকরি হারানো, আর নতুন করে অস্ত্রসজ্জায় শতকোটি ইউরো খরচ করা দলগুলোকে কেন ভোট দেবে মানুষ— যখন তারা নিশ্চিন্তে অতীত জীবনের সেই নিরাপদ সময়েই ফিরে যেতে পারছে?
মূলধারার সব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষেরই ভোটব্যাংকে থাবা বসিয়েছে এএফডি। এমনকি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) প্রায় ৮২ হাজার ভোটারকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে তারা।
তবে ৬ সেপ্টেম্বরের স্যাক্সনি-আনহাল্ট নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল হলো এএফডি এমন সব মানুষকে ভোটের মাঠে ফিরিয়ে এনেছে, যারা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এলাকার মোট ভোটারের প্রায় ১০ ভাগের ১ ভাগ—প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নিষ্ক্রিয় মানুষকে তারা আবার ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
জার্মান রাজনীতিতে এখন যা ঘটছে তার কিছুটা কেবল এই দেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত—বিশেষ করে ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির একত্রকরণের পর থেকে পূর্ব জার্মানির মানুষের মনে নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে, তা অনস্বীকার্য।
এরা মূলত সেই শ্রেণির মানুষ, যারা রাজনীতির ওপর থেকে আশা ছেড়ে দিয়ে এত দিন এক সমান্তরাল জগতে বাস করছিল। এই ভোটারদের অনেকেই জার্মানির নাৎসি অতীতকে ‘বড় করে দেখানো হয়েছে’ বলে মনে করে এবং অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টানতে নারাজ।
উপরন্তু, তারা মধ্যপন্থী রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের মূল্যবোধ ধ্বংস করার কাজে নিয়োজিত একটি ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ব্যবস্থার অস্ত্র হিসেবে দেখে।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট থেকে রিপোর্টিং করার সময় অতিমারির আগের একটি ছোট ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। সাবেক কমিউনিস্টশাসিত পূর্ব জার্মানির প্রধান শহরগুলোর একটি লাইপজিগের রাস্তা দিয়ে আমি হাঁটছিলাম এক স্থানীয় পরিচিত সাহায্যকারীর সঙ্গে। স্মার্ট ও বুদ্ধিমতী সেই নারী অ্যাকটিভিস্ট একসময় গ্রিন পার্টির হয়ে কাজ করতেন।
আঞ্চলিক পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘এমডিআর’-এর কার্যালয় অতিক্রম করার সময়, কোনো উসকানি ছাড়াই তিনি হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন—‘মিথ্যাবাদী সংবাদমাধ্যম’ বা ‘ফেক নিউজ’। চমকে উঠে আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই চ্যানেলটি তাঁর এমন ক্ষোভের কারণ কী করল?
‘ওরা আমার মতো সাধারণ মানুষের কথা শোনে না,’ ব্যস, এটুকুই ছিল তাঁর উত্তর। যখনই তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা বলতে বললাম, তিনি আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠলেন।
জার্মান রাজনীতিতে এখন যা ঘটছে তার কিছুটা কেবল এই দেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত—বিশেষ করে ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির একত্রকরণের পর থেকে পূর্ব জার্মানির মানুষের মনে নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে, তা অনস্বীকার্য। তবে এর একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বাইরে ছড়িয়ে পড়া উগ্র ডানপন্থীদের সামগ্রিক উত্থান।
মাগার প্রতিধ্বনি
স্যাক্সনি-আনহাল্টে জয়ী এএফডি প্রার্থী ৩৫ বছর বয়সী উলরিখ সিগমুন্ড ছিলেন সুগন্ধি বিক্রির একজন সাবেক সেলসম্যান, যিনি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁতভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই তাঁর ‘আদর্শ’।
নীতি এবং যোগাযোগ কৌশল—উভয় ক্ষেত্রেই এএফডি হলো ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মিত্র।
বিষয়টি ট্রাম্পের নজর এড়ায়নি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপজুড়ে ‘দেশপ্রেমিক’ আন্দোলনগুলোকে সমর্থন করার কথা বলা হয়েছিল, যাতে তাদের ভাষায় ‘সভ্যতার বিলুপ্তি’ রোধ করা যায়।
নির্বাচনের ফলাফল আসার পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এএফডির নাম না নিলেও লেখেন, ‘ওয়াও, জার্মানির জনতুষ্টিবাদী দলটির জন্য খুব বড় ঘটনা।’ তিনি তাঁর পোস্টের শেষে যোগ করেন—মাগার আদলেই লেখেন এমজিজিএ!—যা ‘মেক জার্মানি গ্রেট এগেইন’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
এরা মূলত সেই শ্রেণির মানুষ, যারা রাজনীতির ওপর থেকে আশা ছেড়ে দিয়ে এত দিন এক সমান্তরাল জগতে বাস করছিল। এই ভোটারদের অনেকেই জার্মানির নাৎসি অতীতকে ‘বড় করে দেখানো হয়েছে’ বলে মনে করে এবং অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টানতে নারাজ।
উচ্চপর্যায়ে ট্রাম্পই এএফডির একমাত্র বন্ধু নন। ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি নিজেদের অনুরাগের কথা কখনোই গোপন করেনি দলটি। ইউক্রেনসহ অন্যান্য নানা ইস্যুতে তারা মূল রুশ প্রেসিডেন্টের সুরেই কথা বলে। ক্রেমলিনের শর্ত মেনেই অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘শান্তি’ আলোচনার দাবি জানায় তারা।
এই দলের বিশ্বাস, রাশিয়াকে পুনরায় ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে ফিরিয়ে আনলে তাদের সামাজিক রক্ষণশীল এজেন্ডাকে ত্বরান্বিত করা যাবে, সস্তা তেল ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরবে।
তবে এই সবকিছুর পেছনে এখনো একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত জার্মান সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পর্যায় সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য একটাই—ক্ষমতা যেন একক কোনো দলের হাতে পুঞ্জীভূত না হতে পারে। ৮৩ আসনের রাজ্য সংসদে সরকার গঠনে মাত্র ৩টি আসন দূরে থেকে এএফডির এভাবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি চলে আসাটাই এক অভাবনীয় ঘটনা।
এখন মোটরসাইকেল র্যালি আর বর্ণিল নির্বাচনী প্রচারণায় নজরকাড়া এএফডি নেতা সিগমুন্ডকে সরকার গঠনের কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে। এর জন্য তাঁকে হয় অন্য কোনো দলকে রাজি করাতে হবে, না হয় দু-একজন বিদ্রোহী আইন প্রণেতাকে নিজেদের দিকে টানতে হবে।
কিন্তু কোনোটিই সহজ হবে না; বিশেষ করে তথাকথিত ‘ফায়ারওয়াল’–এর কারণে। এটা মূলত মূলধারার দলগুলোর এএফডির সঙ্গে কাজ না করার এক যৌথ অঙ্গীকার। সেই দেয়াল হয়তো কিছুটা দুর্বল হয়ে আসছে, তবে এবারও হয়তো তা কোনোমতে টিকে যেতে পারে।
অক্টোবরের শুরুতে সংসদ অধিবেশন বসার আগে এই রাজনৈতিক দর–কষাকষি একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গড়াবে। সিগমুন্ড যদি মুখ্যমন্ত্রী হনও, তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বিল পাস করানোর জন্য এএফডির মূলনীতিতে কোনো আপস তিনি করবেন না।
যুদ্ধ–উত্তর জার্মান রাজনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল সমঝোতা ও ঐকমত্য—যা কয়েক দশক ধরে গুণ হিসেবে বিবেচিত হতো। অথচ আজকের অনেক ভোটার সেটিকেই দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। আর সোশ্যাল মিডিয়া দেশ ও বিশ্বের সব জটিল সমস্যার তাৎক্ষণিক এবং ব্যথাহীন সমাধানের দাবিকে কেবল আরও উসকে দিচ্ছে।
বার্লিনের গোধূলিলগ্ন
৯ সেপ্টেম্বর বার্লিনে বার্ষিক বাজেট ভাষণ দেওয়ার সময় চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জকে অত্যন্ত বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল। তাঁর নেতৃত্ব এখন গুরুতর সংকটের মুখে। পূর্বের আরেকটি রাজ্য মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্ন এবং রাজধানী বার্লিনে আসন্ন রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস এক বড় ধরনের পরাজয়ের আশঙ্কা করছে।
এমনিতেই কিছুটা কড়া মেজাজের মানুষ মার্জ মাসের পর মাস ধরে জনমত জরিপে ইতিহাসের সর্বনিম্ন রেটিং নিয়ে চলছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের এক বড় অংশ তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছে এবং তাঁর ব্যাকফায়ার করা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বড়াই করে বলেছিলেন এএফডির সমর্থন অর্ধেক কমিয়ে আনবেন, অথচ দেখলেন তা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
মার্জ চ্যান্সেলর পদের জন্য বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে ম্যার্কেল দলকে অতিরিক্ত মধ্যপন্থার দিকে নিয়ে গেছেন, কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় করেছেন এবং অভিবাসীদের খুব বেশি প্রশ্রয় দিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে জার্মানদের সামনে খাঁটি রক্ষণশীলতার বিকল্প থাকা উচিত। সাধারণ মানুষ তাঁর সেই কথা শুনেছে ঠিকই, তবে তাঁর দেখানো পথে হাঁটেনি; হেঁটেছে আরও চরমপন্থার দিকে।
কেবল মার্জের দলই যে সংকটে আছে তা নয়। ক্ষমতাসীন জোটের জুনিয়র শরিক মধ্য-বামপন্থী সোস্যাল ডেমোক্র্যাটদের (এসপিডি) অবস্থাও করুণ, তাদের ভোটব্যাংক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এসপিডির তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হলো বামপন্থীদের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের নীতিতে ফিরে যাওয়া। অন্যদিকে সিডিইউ কর্মীরা চান সরকার যেন ব্যয় আরও কমায় এবং অভিবাসীদের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
অর্থাৎ একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করতে হলেও দুটি দল প্রতিদিন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে টান দিচ্ছে।
মস্কো এবং ওয়াশিংটন—দুই পক্ষই যখন এএফডিকে উৎসাহ দিচ্ছে, তখন জার্মানির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে তার পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে। মার্জ হয়তো তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তবে জার্মানির সামরিক অবস্থান পুনর্গঠনে তিনি যথেষ্ট সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।
তবে এই নীতি ঝুঁকিমুক্ত নয়, যা স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনের পর চ্যান্সেলর নিজেও স্বীকার করেছেন। তিনি মেনে নিয়েছেন যে ওই রাজ্যের ৫৭.৭ শতাংশ ভোটার এমন দলগুলোকে সমর্থন করেছে ‘যারা ইউক্রেনের প্রতি জার্মানির নিরঙ্কুশ সমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
তবুও তিনি যোগ করেছেন যে তিনি তাঁর অবস্থান থেকে ‘এক মিলিমিটারও সরবেন না।’ সংসদে মার্জ এএফডিকে মস্কোর সঙ্গে ‘অদ্ভুত আঁতাত’ এবং ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা’ প্রদর্শনের জন্য অভিযুক্ত করেন।
মার্জ যখন নিজের বক্তব্য শোনাতে এবং আশাবাদী শোনাতে লড়াই করছিলেন, তখন এএফডির সহনেত্রী অ্যালিস ওয়াইডেল পুরো সংসদ মাতিয়ে রেখেছিলেন। জার্মান অর্থনীতির একমাত্র বর্ধনশীল খাত হিসেবে ‘সরকারি খাত এবং আশ্রয়শিল্পকে’ খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর দল তাদের পথে দাঁড়ানো সবাইকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
এটি ছিল ক্ষোভের এক চরম বহিঃপ্রকাশ। আর সামনের অন্ধকার দিন ও মাসগুলোতে এমন দৃশ্য যে আরও দেখতে হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
জন ক্যাম্পফনার সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। হোয়াই দ্য জার্মানস ডু ইট বেটার–এর লেখক।
টাইম থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।