গত জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় আমাদের গ্রামের বুথ লেভেল অফিসার আমাকে ফোন করে পাসপোর্টের অনুলিপি চেয়েছিলেন। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী’ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার আওতায় তখন ভোটার তালিকার ব্যাপক নিরীক্ষা চলছিল।
সেই অনুযায়ী আমি নথিপত্র জমা দিই। দুই সপ্তাহ পর আমাদের নাম থাকা নিয়ে খণ্ডঘোষ বিডিও অফিসে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আমি ম্যানচেস্টার থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সেখানে যুক্ত হই।
শুনানিতে নিজের অবস্থান নিয়ে আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি আমার নিজের পাসপোর্ট, বাবার পাসপোর্ট ও স্বাধীনতার আগের জমির মালিকানার প্রমাণপত্র জমা দিয়েছিলাম। রাষ্ট্রের এর চেয়ে বেশি আর কীই–বা চাওয়ার থাকতে পারে?
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, চাওয়ার অনেক কিছুই বাকি ছিল। বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়ে উচ্চশিক্ষার কাজে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে আমাদের পরিবারের চারজনের নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাবা, আমার দুই ভাই–বোন ও আমার নাম সেই তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এবং ঐতিহ্যগতভাবেও বেশ প্রশংসিত। কিন্তু তারা কীভাবে এমন পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু করল, যা পদ্ধতিগতভাবে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত অংশকেই বিপদে ফেলছে
এমন ঘটনা শুধু আমাদের সঙ্গেই ঘটেনি। স্বাধীন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সবার ইনস্টিটিউট’–এর তথ্যানুসারে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে আনুমানিক ৯১ লাখ মানুষের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এটি ঘটেছে মূলত তিনটি ধাপে।
ডিসেম্বরে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৫৮ লাখ নাম বাতিল করা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ‘প্রথম চূড়ান্ত তালিকা’তে বাদ যায় আরও ৫ লাখ এবং মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম দিকের মধ্যে আরও ২৭ লাখ নাম বাদ পড়ে। সর্বশেষ এই অংশটির নাম বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পরিবর্তনশীল একটি বিষয়, আর সেটি হলো ‘যৌক্তিক অসংগতি’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যানসি’।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে কেন বাদ দেওয়া হলো
‘যৌক্তিক অসংগতি’ নামের এই শ্রেণিবিন্যাস কেবল পশ্চিমবঙ্গের এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতেই ব্যবহার করা হচ্ছে। মা ও বাবার নামের বানানে অমিল থাকা, বাবা অথবা মা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য অস্বাভাবিকভাবে কম হওয়া বা কারও ছয়টির বেশি সন্তান থাকার মতো কারণেও এই অদ্ভুত অজুহাত দেখিয়ে তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সবার ইনস্টিটিউট বলছে, যে প্রকৃত বাদ পড়া নামগুলো অর্থাৎ মারা গেছেন এমন প্রায় ২৪ লাখ ভোটার ও স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হওয়া আরও ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের কথা হিসাবে ধরলেও অঙ্কটা ঠিক মিলছে না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া পড়াদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ জীবিত ও যোগ্য ভোটার। ভারতের গণতন্ত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করার শতভাগ আইনি ও নৈতিক অধিকার তাঁদের রয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ও এর আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি দেখেছি, ভোটার অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই হার এতই বিশাল, যা সাধারণ কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়।
তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষের মধ্যে গলেহারা বেগম নামের ৮৫ বছর বয়সী এক বিধবাও আছেন, যাঁর সঙ্গে আমার শৈশব থেকেই পরিচয়। এই প্রবীণ নারী মূলত প্রতিবেশীদের দয়া ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।
ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে নিজের অস্তিত্বের দাপ্তরিক প্রমাণ হিসেবে তাঁর সম্বল বলতে রয়েছে শুধু একটি ভোটার আইডি কার্ড ও একটি আধার নম্বর। নির্বাচন কমিশনের কৃত্রিম অ্যালগরিদম তাঁর কাছ থেকে যে ধরনের জমির দলিল বা উপযুক্ত পাসপোর্ট প্রমাণ হিসেবে আশা করছে, এর কোনো কিছুই তাঁর কাছে নেই।
বাঙালি শিকড়ের কথা বিবেচনা করলে তিনি সমাজের অধিকাংশ মানুষের চেয়েই বাংলার মাটিতে বেশি প্রোথিত। মূলত এই পশ্চিমবঙ্গ নামের রাজ্যটির জন্ম হওয়ার আগে থেকেই এই গ্রামগুলোতে তাঁর পরিবারের বসবাস ছিল। অথচ এই আধুনিক কাগজপত্রের নিয়মের বেড়াজালে আমলাতান্ত্রিকভাবে তাঁকে একজন ‘সন্দেহভাজন’ নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুধু ‘প্রকৃত’ ভারতীয়দের নিয়ে ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন’ তৈরির যে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এই পুরো কাঠামোটাই মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়কে অস্তিত্বের হুমকিতে ফেলতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে কাদের বাদ দেওয়া হলো
সবার ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলার এই বিশাল প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন গলেহারা বেগমের মতো মুসলিমরা। মোট বাদ দেওয়া নামের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের।
সবার ইনস্টিটিউটের তৈরি মানচিত্র অনুযায়ী, গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রগুলো থেকে যাঁদের নাম অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে, সেই তালিকায় মুসলিমদের সঙ্গে দলিত, আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর সংখ্যা একত্রে যোগ করলে মোট বাতিলের প্রায় ৯০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়।
সংবাদমাধ্যমে এই সংকটের যে খবর প্রচার হয়েছে, তা মূলত শুধু ব্যক্তিপর্যায় ও কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়া, বাধ্য হয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদের পুনরায় নিবন্ধন করা, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভোটারদের পরিসংখ্যান নিয়ে সাধারণ কৌতূহল এসব নিয়েই গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যেসব কারণে এই অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার যৌক্তিক ধারাবাহিক বিশ্লেষণ প্রায় নেই বললেই চলে।
এআই দিয়ে কি নির্বাচন কমিশন চলতে পারে
ভারতের নির্বাচন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত এবং ঐতিহ্যগতভাবেও বেশ প্রশংসিত। কিন্তু তারা কীভাবে এমন পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু করল, যা পদ্ধতিগতভাবে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত অংশকেই বিপদে ফেলছে।
কোন প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তাভাবনা থেকে এমন একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া তৈরি করা হলো, যার ফলে সবচেয়ে কম কাগজপত্র থাকা মানুষগুলোকেই অতি সহজে সমাজ থেকে মুছে ফেলা গেল। অথচ একটা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই দরিদ্র ও বিপদাপন্ন মানুষদেরই সবার আগে সার্বিক সুরক্ষা পাওয়ার কথা।
গত জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুলের অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম যাচাই করতে যাওয়ার ফলেই এমন ভুলগুলো হচ্ছে।
অ্যালগরিদমনির্ভর ডিজিটাল প্রশাসনিক কাজগুলোকে যতটা নিরপেক্ষ ও দক্ষ বলে দাবি করা হয়, তার সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গাটিতে। মানুষের সিদ্ধান্তে যতই ত্রুটি থাকুক না কেন সেখানে অন্তত একজন জবাবদিহি করার ব্যক্তি থাকেন, যা এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় একেবারেই নেই।
একজন স্থানীয় বুথ–স্তরের কর্মকর্তা যখন অন্যায়ভাবে কারও নাম বাতিল করেন, তখন এর প্রতিবাদ করা যায়, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার দ্বারস্থ হওয়া যায় এবং আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অ্যালগরিদম যখন কোনো বাঙালি মুসলিম বিধবার নাগরিকত্বকে নিছকই ‘যৌক্তিক অসংগতি’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দেয়, তখন সেই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ, দূরের এবং আপাতদৃষ্টিতে যেকোনো রকম আইনি আপিলের বাইরে চলে যায়।
সত্তরের দশকে উত্তর-উপনিবেশবাদী তাত্ত্বিকেরা লিখেছিলেন কীভাবে একটি আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরেই ঔপনিবেশিক আচরণগুলো আবার নতুন করে জন্ম নেয়। তাঁরা দেখিয়েছিলেন কীভাবে গ্রামীণ ও ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক সমাজগুলো সুবিধাভোগী, শিক্ষিত এবং সামাজিকভাবে ক্ষমতাবানদের দ্বারা প্রতিনিয়ত অবহেলিত ও কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
এই বিশেষ ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী দেখেও মনে হচ্ছে, সমাজের বুকে প্রায় একই ধরনের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তফাত শুধু এটাই, আগেরকালের সেই দৃশ্যমান শোষকদের জায়গাটা এখন দখল করে নিয়েছে একটি ডিজিটাল নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা অ্যালগরিদম।
পশ্চিমবঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদকে জায়গা দিতেই কি এই ব্যবস্থা
যে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থাটা ডালপালা মেলছে তা এখন অনেকের কাছেই পরিষ্কার। উগ্র হিন্দুত্ববাদের অনুসারীরা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার মুসলিমদের একটি মারাত্মক জনতাত্ত্বিক হুমকি ও বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।
সবচেয়ে পরিহাসের বিষয় হলো, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু দলিত গোষ্ঠী, যাদের মতুয়া সম্প্রদায় বলা হয়, সেই মতুয়াদেরও অসংখ্য মানুষের নাম এবার তালিকা থেকে কাটা পড়েছে। অথচ ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই মতুয়া সম্প্রদায়কে বরাবরই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে তাদের বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
কীভাবে শুরু হলো এই বিভাজন
২০১৯ সালের এই সংশোধনী বিলটি ভারতের নাগরিকত্বের ধারণাটির ভেতর প্রকাশ্যেই একধরনের ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে শুধু ‘প্রকৃত’ ভারতীয়দের নিয়ে ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন’ তৈরির যে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এই পুরো কাঠামোটাই মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়কে অস্তিত্বের হুমকিতে ফেলতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই নিবিড় সংশোধনী কার্যক্রম মূলত বাংলার বুকে হাজারো মানুষের শিকড়কেই যেন অস্বীকার করছে, যেই শিকড়ের ব্যাপ্তি আদতে আধুনিক ভারত বা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মেরও বহু আগ থেকে।
এর পাশাপাশি এটি শুধু যে নাগরিক সমাজ থেকে একটা শ্রেণিকে আমলাতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিচ্ছে তা নয়, বরং এটা আজ খোদ গণতন্ত্রেরই এক ভয়ানক অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেই অস্ত্রের মাধ্যমে তারা সত্যিকার নাগরিকদের থেকে এক কল্পিত ‘অনুপ্রবেশকারী’কে আলাদা করার অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে।
অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জোর গলায় বলছে যে এটি নিতান্তই সাধারণ রুটিন মাপের একটি প্রক্রিয়া, যা আইনিভাবে সম্পূর্ণ বৈধ। ভারতীয় আদালতও এই দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে। তবে এটাও মনে রাখা উচিত যে আইনি কাঠামোর চোখে যেটা বৈধ, তার সবটাই যে ন্যায়সংগত, তা কিন্তু নয়। মূল আলোচনার জায়গাটা তাই এখানে আটকে নেই। বরং প্রশ্ন উঠেছে, ভারত আধুনিক কালে ঠিক কেমন গণতন্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে এবং সেই চর্চিত গণতন্ত্রের অধীনে আসলে কার অধিকারটুকু সুরক্ষিত থাকছে।
ভারতের নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক
পূর্ব বর্ধমানের সেই জরাজীর্ণ বাড়ির গলেহারা বেগমের কথা বারবার মনে পড়ে আমার। মনে পড়ে এই রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে একদম নিঃশব্দে, প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ায় কোনো প্রকার রক্তপাতহীনভাবেই তাঁকে নাগরিক অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে ফেলার ভয়ংকর ওই মুহূর্তগুলোর কথা। ঠিক এ কারণেই এই অ্যালগরিদমিক অপশাসনগুলো ঠেকানো আরও বেশি কঠিন।
কাগজ আর দলিলের প্রমাণপত্রকে যখন নিজ শিকড়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মনে করা হয় আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি করা অগণতান্ত্রিক ও অদ্ভুত সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়, আধুনিক ভারত তখন মূলত এভাবেই ভোটার অধিকার হরণের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রটির ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের উধাও হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই একটা সাধারণ প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এটি আদ্যোপান্ত একটি জটিল রাজনৈতিক সমস্যা এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম রাজনৈতিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই এর স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরি।
মেহেবুব সাহানা যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারে কর্মরত গবেষক ও একাডেমিক
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত