কয়েক দিনের চরম উত্তেজনার পর, ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে ইরানের ওপর। এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ইরানকে ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
তবে সোমবার বেসেন্ট যে নিষেধাজ্ঞার কথা বললেন, তাতে নতুন কোনো সুস্পষ্ট কৌশলের বার্তা ছিল না। এই ঘোষণার আগেও হাজার হাজার ইরানি ও অ-ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ছিল।
এই পদক্ষেপের আসল উদ্দেশ্য ইরানকে নতুন করে নিষিদ্ধ করা নয়; বরং যেসব দেশ, কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সরাসরি হুমকি দেওয়া। বেসেন্ট এখানে যেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের পুরোনো বুলিরই পুনরাবৃত্তি করলেন—‘হয় আপনি আমাদের পক্ষে, না হয় বিপক্ষে।’
ইরানের কাস্টমস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ১৭৮টি দেশের সঙ্গে ব্যবসা করে। তবে এর মধ্যে চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানি অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। অন্যদিকে, বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে ইরানকে যুক্ত রাখতে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউএই দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের মোট আমদানির ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ (যার মূল্য প্রায় ২,১০০ কোটি ডলার) এনেছিল ইউএই থেকে।
কেবল এই পরিসংখ্যানে পুরো চিত্রটা বোঝা যায় না। বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল এবং দুবাইভিত্তিক এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ইরানি বাণিজ্যে কতটা সহায়তা করছে, সেই হিসাব আরও বড়।
বড় পরীক্ষা বেইজিংয়ের
সম্প্রতি ইউএই ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। বেসেন্ট বলেছেন, এটি কোনো ‘আকস্মিক বিষয়’ নয়। তবে এই ঘোষণার পর দুদেশের সচল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঠিক কতটা প্রভাবিত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্য যেকোনো আঞ্চলিক দেশের চেয়ে ইউএই-তেই বেশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে—যার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ফলে এই বাণিজ্যে স্থগিতাদেশ দেওয়ার ঘটনাটি হয়তো যুদ্ধের কারণে আগে থেকে ঘটে যাওয়া সম্পর্কে ফাটল ধরার আনুষ্ঠানিক রূপ মাত্র।
তবে আসল পরীক্ষা হবে চীনের ক্ষেত্রে। বেইজিংকে টার্গেট করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে বেসেন্টের স্পষ্ট জবাব ছিল, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ নয়।’
চীন অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াবে। বেইজিং নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেবে বলেও জানান তিনি।
এটি কি সত্যিই কঠোর প্রয়োগ নির্ভর এক নতুন নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা, নাকি মূলত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ? যার উদ্দেশ্য তেহরানকে বোঝানো যে বশ্যতা স্বীকার না করলে তাদের অর্থনৈতিক ধস অনিবার্?
ওয়াশিংটন এর আগেও এমন পরীক্ষা চালিয়েছে। গত মে মাসে ইরানের তেল কেনার অপরাধে চীনের পাঁচটি শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন। তখন বেইজিং সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার নির্দেশ দেয় এবং শোধনাগারগুলোকে সুরক্ষার আশ্বাস দেয়।
ফলে মূল প্রশ্নটি থেকেই যায়: ইরান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সরাসরি বড় আকারের অর্থনৈতিক সংঘাতের জন্য ওয়াশিংটন কি আদৌ প্রস্তুত?
এখানে আরও একটি বড় সমস্যা রয়েছে। এই ধরনের বিশাল প্রচারণা বাস্তবায়নে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। অথচ ট্রাম্প কানাডা ও ইউরোপ থেকে শুরু করে চীন পর্যন্ত সব বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে একযোগে বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করে রেখেছেন।
এখানকার আন্তর্জাতিক পরিবেশ বারাক ওবামার আমলের মতো নেই, যখন চীন এবং রাশিয়াও ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করেছিল।
এদিকে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন সামুদ্রিক অবরোধের কারণে ইতিমধ্যেই ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। তাহলে বেসেন্ট নতুন কী যোগ করছেন?
এটি কি সত্যিই কঠোর প্রয়োগ নির্ভর এক নতুন নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা, নাকি মূলত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ? যার উদ্দেশ্য তেহরানকে বোঝানো যে বশ্যতা স্বীকার না করলে তাদের অর্থনৈতিক ধস অনিবার্য?
এর পেছনে একটি বাজার-মনস্তাত্ত্বিক দিকও থাকতে পারে। যুদ্ধের কারণে দেশে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ কমানোর একটি তাগিদ ট্রাম্প প্রশাসনের রয়েছে। এই আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় মূল্য রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলছে।
ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন বারবার দাবি করছে যে প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু ভেসেল ট্র্যাকারগুলোতে সেটির কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যা–ই হোক না কেন, বেসেন্টের এই ঘোষণা সাময়িকভাবে কাজ দিয়েছে—শেয়ারবাজার চাঙা হয়েছে, ব্র্যান্ড অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে এবং বন্ড মার্কেট শান্ত হয়েছে।
সম্ভাব্য তিন পথ
এখন প্রধান প্রশ্ন হলো, তেহরান কীভাবে এর জবাব দেবে? ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, বর্তমান পরিস্থিতি অনিশ্চিতভাবে চলতে পারে না।
পরবর্তী করণীয় কী, তা নিয়ে ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিতর্ক দৃশ্যমান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (যিনি ইরানের মধ্যস্থতাকারী দলের প্রধান)—উভয়েই দীর্ঘায়িত সংঘাতের অর্থনৈতিক ভয়াবহতা তুলে ধরে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
২১ আগস্ট গালিবাফ এক নজিরবিহীন সোজা কথাই স্বীকার করেন: ‘আমাদের সামরিক শক্তি যতই থাকুক না কেন, দেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত থাকে, তবে আমরা টিকে থাকতে পারব না।’ একই দিনে পেজেশকিয়ান যুক্তি দেন, ইরানের উচিত এখনই যুদ্ধ শেষ করা, কারণ দেশ এখনো নিজেকে শক্ত অবস্থানে মনে করছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা—সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসেন রেজাই আরও কঠোর পাল্টা চাপ দেওয়ার পক্ষে। ইসলামাবাদ আলোচনার পর থেকেই রেজাই এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা পেজেশকিয়ান-গালিবাফের নমনীয় পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছেন।
নভেম্বর পর্যন্ত তেহরান বড় কোনো সংঘাত এড়িয়ে চলতে পারে; প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখে ট্যাংকারগুলোতে মাঝে মাঝে হামলা চালিয়ে তেলের বাজারে চাপ বজায় রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াবে।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরানের সামনে তিনটি সম্ভাব্য গতিপথ স্পষ্ট হয়ে উঠছে (সম্ভাবনার ক্রমানুসারে দেওয়া হলো):
প্রথমত, তেহরান আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করতে পারে। তাদের হিসাব হতে পারে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধ বা সংকুচিত করতে বাধ্য করার মতো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে।
এই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ‘রেস টু দ্য হোয়াইট হাউস’ নামে একটি তথ্যভিত্তিক নির্বাচন পূর্বাভাস মডেল (যা পোলিং, নির্বাচনী ইতিহাস ও তহবিল সংগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত হয়) বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে জেতার ৭৬ শতাংশ এবং সিনেট দখলের ৫৩ শতাংশ সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো ভোটের ধারা: যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে সিনেটে রিপাবলিকানরা ৭৭-২৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এখন সেখানে ডেমোক্র্যাটরা ৫৩-৪৭ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে—যা এক বিরাট পরিবর্তন।
তাই নভেম্বর পর্যন্ত তেহরান বড় কোনো সংঘাত এড়িয়ে চলতে পারে; প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখে ট্যাংকারগুলোতে মাঝে মাঝে হামলা চালিয়ে তেলের বাজারে চাপ বজায় রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াবে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি সমঝোতা হতে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও ওমানের মতো দেশগুলোর মাধ্যমগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানকে হয়তো প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে, লেবানন যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ত্যাগ করতে হবে, হুথিদের হামলা বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে এবং পরমাণু অস্ত্র না বানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
পাকিস্তানের নতুন করে শুরু করা মধ্যস্থতা এই সম্ভাবনাকে আরও কিছুটা জোরালো করেছে। বেসেন্টের ঘোষণার পরপরই আলোচনার আশায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৮ ডলারের নিচে নেমে আসে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সোমবার জানিয়েছেন, তিনি এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বৈঠক’ করেছেন এবং সেখানে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে।
নাকভি আরও বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে এই গতিশীলতা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করবে।’
তৃতীয়ত, তেহরান সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে চুপচাপ অপেক্ষা করাটা সংঘাতের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। ফলে তারা নতুন করে হামলা শুরু করতে পারে।
গত সপ্তাহে মহসিন রেজাইয়ের দেওয়া বক্তব্য এই কৌশলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান এত দিন কেবল সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটন যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ তীব্র করে, তবে এই অঞ্চলে পরিচালিত মার্কিন তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার এটিই তেহরানের সবচেয়ে স্পষ্ট হুমকিগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরো অঞ্চলজুড়ে, বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও ইউএই-তে আমেরিকান করপোরেট কার্যক্রম ও বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই নতুন উত্তেজনার লক্ষ্য সামরিক বিজয় নাও হতে পারে। বরং তেহরানের মূল উদ্দেশ্য হবে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহে একটি তীব্র ধাক্কা দেওয়া—যাতে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং ওয়াশিংটন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
সুতরাং, অর্থমন্ত্রী বেসেন্টের এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়াও তৈরি হতে পারে। তেহরানের বিকল্প পথগুলোকে ক্রমাগত সংকুচিত করে দেওয়ার মাধ্যমে, ওয়াশিংটন হয়তো শেষ পর্যন্ত সংঘাত বাড়ানোকেই ইরানের জন্য কোনো পছন্দ নয়, বরং একমাত্র বাধ্যবাধকতা বানিয়ে ফেলছে।
শাহির শহিদসালেস একজন ইরানি-কানাডীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত