কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: শুধু প্রযুক্তিবান্ধব হলেই হবে না, প্রয়োজন সুশাসনও

আমরা বুঝে ওঠার আগেই এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।ছবি: রব ডোবি

সকালের নাশতার টেবিলে এখন নতুন একজন অতিথি বসে। তাকে দেখা যায় না, তার জন্য আলাদা কোনো চেয়ারও লাগে না। তবু পরিবারের প্রায় সবার সঙ্গেই তার কথা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে তাকে দিয়ে অ্যাসাইনমেন্টের খসড়া বানায়। বাবা অফিসের দীর্ঘ রিপোর্ট সংক্ষিপ্ত করেন। মা নতুন কোনো রান্নার রেসিপি জানতে চান। স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বিজ্ঞান প্রজেক্টের জন্য ছবি বানায় তার সাহায্যে।

অতিথিটির নাম—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সংক্ষেপে এআই।

মাত্র কয়েক বছর আগেও এআই ছিল প্রযুক্তিবিদদের গবেষণাগারের বিষয়। আজ সেটি আমাদের ডাইনিং টেবিল, অফিস, হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কৃষকের মাঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমরা অনেকেই প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছি, কখনো বুঝে, কখনো না বুঝেই।

আগে গুগলে লিখতাম, ‘ঢাকায় আজ বৃষ্টি হবে কি?’ এখন এআইকে জিজ্ঞেস করি, ‘আজ বিকেলে বের হলে ছাতা নেওয়া উচিত হবে?’ আগে আমরা উত্তর খুঁজতাম। এখন আমরা কথোপকথন করি।

পরিবর্তনটা এত দ্রুত হয়েছে যে আমরা বুঝে ওঠার আগেই এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

গত ঈদের আগের সপ্তাহে ঢাকার একটি শপিং মলে ঢুকেছিলাম। চারদিকে মানুষের ভিড়। দোকানে দোকানে কেনাকাটা চলছে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। তাঁর হাতে কয়েকটি শাড়ির ছবি। তিনি তাঁর বন্ধুকে বলছিলেন, ‘এআই-কে জিজ্ঞেস করেছি, কোন রংটা আমাকে বেশি মানাবে।’ কথাটা শুনে মনে হলো, আমরা কত সহজে নতুন প্রযুক্তিকে নিজের জীবনের ভেতর জায়গা করে দিই।

কয়েক বছর আগে কেউ কল্পনাও করেনি, পোশাকের রং বেছে দিতেও মানুষ কম্পিউটারের পরামর্শ চাইবে। আজ সেটাই স্বাভাবিক। আবার দেশের অন্য প্রান্তে, নীলফামারীর এক কৃষক হয়তো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আজ ধান কাটবেন, নাকি আরও এক দিন অপেক্ষা করবেন। কোথাও একজন চিকিৎসক এক্স-রে রিপোর্ট বিশ্লেষণে সফটওয়্যারের সহায়তা নিচ্ছেন। কোথাও একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নিজের পণ্যের বিজ্ঞাপন লিখছেন এআইয়ের সাহায্যে। একই প্রযুক্তি। কিন্তু ব্যবহারকারীরা একেবারে ভিন্ন। এটাই এআইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি—এটি একই সঙ্গে সবার প্রযুক্তি।

তবে নতুন অতিথিকে ঘরে জায়গা দেওয়ার আগে আমরা সাধারণত একটি কাজ করি। আমরা তাঁকে চিনে নিই। তিনি কে? কোথা থেকে এসেছেন? তাঁকে কতটা বিশ্বাস করা যায়? এআইয়ের ক্ষেত্রে আমরা সেই কাজটি খুব একটা করিনি। আমরা তাকে ব্যবহার করতে শুরু করেছি। কিন্তু তাকে বোঝার চেষ্টা খুব বেশি করিনি।

আরও পড়ুন

কয়েক মাস আগে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমাকে বলছিলেন, ‘ম্যাম, আগে কোনো বিষয় বুঝতে ইউটিউবে বিশ মিনিটের ভিডিও দেখতে হতো। এখন এআই-কে জিজ্ঞেস করলে দুই মিনিটেই বুঝিয়ে দেয়।’ আমি তাঁকে বললাম, ‘চমৎকার। কিন্তু যদি ভুল বুঝিয়ে দেয়?’

ছাত্রটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। আমাদের সময়ে বইয়ের শেষে উত্তরমালা থাকত। সেখানে ভুল থাকলে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করা যেত। আজ এআই উত্তর দেয়। কিন্তু সেই উত্তরের ভুল ধরবে কে? এই প্রশ্নটি খুব সহজ মনে হলেও, আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি।

এই ছোট্ট প্রশ্নটিই আগামী দিনের বড় প্রশ্ন। কারণ, এআই এখন শুধু আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না, ধীরে ধীরে আমাদের সিদ্ধান্তেও অংশ নিতে শুরু করেছে। কোন বিজ্ঞাপনটি আমরা দেখব, কোন ভিডিওটি সামনে আসবে, অনলাইন দোকানে কোন পণ্যটি আমাদের দেখানো হবে—এসবের পেছনেও অদৃশ্য কিছু সিদ্ধান্ত কাজ করছে। এগুলো হয়তো ছোট সিদ্ধান্ত। কিন্তু সব সিদ্ধান্ত ছোট থাকবে না।

অনেকে মনে করেন, এআই হয়তো একদিন মানুষের সব কাজ করে ফেলবে। ইতিহাস অবশ্য অন্য কথা বলে। ক্যালকুলেটর আসার পর গণিত শেষ হয়ে যায়নি। কম্পিউটার আসার পর অফিস বন্ধ হয়ে যায়নি। ইন্টারনেট আসার পর বই হারিয়ে যায়নি। বরং মানুষ নতুনভাবে কাজ করতে শিখেছে। এআই-ও সম্ভবত সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি অধ্যায়।

ধরুন, একটি ব্যাংক এআইয়ের সাহায্যে ঋণের আবেদন যাচাই করছে। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কাছে বার্তা এল—‘আপনার আবেদন গ্রহণ করা যায়নি।’ তিনি নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন, কেন? আয়ের কারণে? ব্যবসার ধরন দেখে? কোনো তথ্য ভুল ছিল? নাকি ব্যবস্থাটিই ভুল করেছে? যদি উত্তর আসে, ‘কম্পিউটার বলেছে, তাই’, তিনি কি সেটি মেনে নেবেন? সম্ভবত না। কারণ, মানুষ শুধু সিদ্ধান্ত জানতে চায় না; সিদ্ধান্তের কারণও জানতে চায়। ভুল হলে আপত্তি জানানোর সুযোগ চায়। জানতে চায়, শেষ পর্যন্ত দায় নেবে কে।

এখানেই আসে এআইয়ের সুশাসনের প্রশ্ন। ‘সুশাসন’ শুনলে বিষয়টি একটু ভারী মনে হতে পারে। আসলে ধারণাটি খুব সাধারণ। আমরা রাস্তায় গাড়ি চালানোর নিয়ম করি বলে গাড়ির বিরোধী হয়ে যাই না। বরং নিয়ম আছে বলেই সবাই তুলনামূলক নিরাপদে চলতে পারি। এআইয়ের সুশাসনও তেমন। প্রযুক্তিকে থামানো নয়; বরং এমনভাবে এগোনো, যাতে তার সুবিধা আমরা পাই; আবার মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকে।

এখানে বিশ্বাসের প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চিকিৎসককে বিশ্বাস করি। ব্যাংককে বিশ্বাস করি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করি। এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি। নিয়ম, অভিজ্ঞতা, জবাবদিহি আর মানুষের দায়িত্ববোধ মিলেই তৈরি হয়েছে। এআইকেও সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারণ, এআই সব সময় সঠিক নয়। অনেক সময় খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল উত্তরও দিতে পারে। আত্মবিশ্বাস আর সত্য এক জিনিস নয়। এআই শেখে মানুষের দেওয়া তথ্য থেকে। সেই তথ্য যদি অসম্পূর্ণ হয়, তার সিদ্ধান্তেও সেই অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। তথ্যের মধ্যে যদি পক্ষপাত থাকে, সিদ্ধান্তেও তার ছাপ পড়তে পারে।

এআই এখন শুধু চ্যাট করা বা চমৎকার টেক্সট লিখে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সে এখন নিজেই নিজের ম্যানেজার!
ছবি: লিংকডইন

ধরুন, কোনো ব্যবস্থা তৈরিতে শুধু শহরের মানুষের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেটি গ্রামের মানুষের বাস্তবতা ঠিকভাবে বুঝবে—এ নিশ্চয়তা কোথায়? আবার পৃথিবীতে ইংরেজি ভাষার বিপুল তথ্যের তুলনায় বাংলার তথ্য অনেক কম।

ফলে একই প্রযুক্তি ইংরেজিতে যত ভালো কাজ করবে, বাংলায় ততটা ভালো না-ও করতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য এআইয়ের প্রশ্ন শুধু ‘আমরা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করব’ নয়। প্রশ্ন হলো—সেই প্রযুক্তি আমাদের ভাষা, মানুষ ও বাস্তবতাকে কতটা বুঝবে।

আরেকটি বড় প্রশ্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে। আমরা এখন খুব সহজেই বিভিন্ন অ্যাপে নিজের ছবি দিই, কণ্ঠস্বর দিই, অবস্থান জানাই, পছন্দ-অপছন্দের তথ্য দিই।

কখনো সন্তানের ছবিও দিই। কিন্তু সেই তথ্য কোথায় যাচ্ছে, কত দিন থাকবে, অন্য কোনো কাজে ব্যবহার হবে কি না—এসব কি আমরা জানি? একসময় মানুষ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আলমারিতে তালা দিয়ে রাখত। এখন তালা দিতে হয় তথ্যকেও। কারণ, আগে শুধু পরিচয় চুরি হওয়ার ভয় ছিল। এখন কণ্ঠস্বরও নকল করা যায়, ছবি বদলে দেওয়া যায়, এমন ভিডিও বানানো যায়, যা কখনো ঘটেইনি।

আরও পড়ুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–নির্ভর বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুয়া ছবি বা ভিডিও নির্বাচন, কোনো দুর্ঘটনা কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময়ে কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই ছোটবেলায় শেখা কথাটিরও এখন নতুন সংস্করণ দরকার। আগে বলা হতো, ‘শুনে বিশ্বাস কোরো না।’ এখন বলতে হবে—‘দেখেও যাচাই করো।’ শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। এআই কয়েক সেকেন্ডে রচনা লিখতে পারে, গণিত বুঝিয়ে দিতে পারে, প্রোগ্রামিং কোড তৈরি করতে পারে। শেখার জন্য এটি অসাধারণ একটি সহায়ক। কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু উত্তর পাওয়া নয়; উত্তর খুঁজে বের করার ক্ষমতা তৈরি করা।

একজন শিক্ষার্থী যদি এআইয়ের উত্তর জমা দেওয়ার আগে প্রশ্ন করতে শেখে—‘উত্তরটি কি ঠিক? কেন ঠিক?’—তাহলেই প্রযুক্তি তার শেখার শক্তি বাড়াবে। নইলে প্রযুক্তি যত বুদ্ধিমান হবে, শিক্ষার্থী তত কম চিন্তা করবে—এমন ঝুঁকিও আছে। স্বাস্থ্যসেবার কথাও ভাবা যায়। একজন চিকিৎসককে এআই দ্রুত হাজারো রিপোর্টের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ রোগী শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। বাংলাদেশের মতো চিকিৎসক ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা দেশে এটি বড় সুযোগ।

কিন্তু রোগী শুধু একটি রিপোর্ট নন। তাঁর পারিবারিক ইতিহাস আছে, আর্থিক বাস্তবতা আছে, ভয় আছে, উদ্বেগ আছে। একজন চিকিৎসক রোগীর চোখের আতঙ্কও দেখেন। কখনো তাঁর একটি বাক্য—‘ভয় পাবেন না, আমরা আছি’ চিকিৎসারই অংশ হয়ে ওঠে। তাই এআই চিকিৎসকের শক্তিশালী সহযোগী হতে পারে; চিকিৎসকের মানবিক বিচারের বিকল্প নয়।

আরও পড়ুন

অনেকে মনে করেন, এআই হয়তো একদিন মানুষের সব কাজ করে ফেলবে। ইতিহাস অবশ্য অন্য কথা বলে। ক্যালকুলেটর আসার পর গণিত শেষ হয়ে যায়নি। কম্পিউটার আসার পর অফিস বন্ধ হয়ে যায়নি। ইন্টারনেট আসার পর বই হারিয়ে যায়নি। বরং মানুষ নতুনভাবে কাজ করতে শিখেছে। এআই-ও সম্ভবত সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি অধ্যায়।

প্রশ্ন তাই ‘এআই আসবে কি না’—সেটি নয়। এআই ইতিমধ্যেই এসেছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের সক্ষমতা বাড়াবে, কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা কমাবে না? এ প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রকৌশলী, গবেষক বা সফটওয়্যার কোম্পানির হাতে নেই। এটি শিক্ষকেরও প্রশ্ন। অভিভাবকেরও প্রশ্ন। সাংবাদিকেরও প্রশ্ন। নীতিনির্ধারকেরও প্রশ্ন। আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি একজন সাধারণ নাগরিকেরও প্রশ্ন। কারণ, এআইয়ের সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার জীবনেই এসে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশের জন্য অবশ্য এআইকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বরং আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। কৃষিতে ফসলের রোগ আগাম শনাক্ত করা, আবহাওয়ার ঝুঁকি বুঝতে কৃষককে সাহায্য করা, ঘূর্ণিঝড় বা বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করা, যানজট বিশ্লেষণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শিল্প উৎপাদন—অসংখ্য জায়গায় এআই আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। তবে এখানে একটি ভুল করলে চলবে না। এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু প্রকৌশলী বা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। একটি এআইভিত্তিক কৃষিসেবা তৈরির কথা ভাবুন।

প্রকৌশলী প্রযুক্তি তৈরি করবেন, কৃষিবিজ্ঞানী বলবেন কোন তথ্য দরকার, আর কৃষক বলবেন মাঠে আসলে কী ঘটে। নীতিনির্ধারক দেখবেন মানুষের তথ্য নিরাপদ কি না। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করবে। সাংবাদিক প্রশ্ন করবেন। অর্থাৎ এআই শুধু প্রযুক্তির প্রকল্প নয়। এটি সমাজেরও প্রকল্প। এই জায়গাতেই বাংলাদেশের একটি বাড়তি সুযোগ আছে। প্রযুক্তিতে যারা আমাদের আগে এগিয়েছে, তারা অনেক ভুলও করেছে। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করে তাকে প্রভাবিত করা—এসব অভিজ্ঞতা এখন আমাদের সামনে আছে। অন্যের ভুল থেকে শেখা পিছিয়ে থাকা নয়। অনেক সময় সেটিই বুদ্ধিমানের মতো এগোনো।

আমাদের তাই এআই ব্যবহারের পাশাপাশি এআই সাক্ষরতাও বাড়াতে হবে। শুধু কোন বোতামে চাপ দিলে কাজ হবে, সেটি জানা যথেষ্ট নয়। জানতে হবে কখন প্রযুক্তিকে বিশ্বাস করব, কখন প্রশ্ন করব, আর কখন একজন মানুষের সিদ্ধান্ত চাইব। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়।

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যালয়, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবারেরও। হয়তো আগামী দিনে একটি শিশুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল শিক্ষা হবে খুব সাধারণ একটি বাক্য—‘এআই উত্তর দিয়েছে, ভালো কথা। এবার তুমি ভেবে দেখো, উত্তরটি ঠিক কি না।’ কয়েক বছর পর আমাদের সন্তানেরা হয়তো জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমাদের সময়ে যখন এআই এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন তোমরা কী করেছিলে?’ আমরা যেন বলতে পারি—আমরা প্রযুক্তিকে ভয় পাইনি।

আবার অন্ধভাবে বিশ্বাসও করিনি। আমরা প্রশ্ন করেছি, শিখেছি, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে চেয়েছি। কারণ, ভবিষ্যতের সবচেয়ে উন্নত সমাজ সেই সমাজ নয়, যেখানে সবচেয়ে বুদ্ধিমান যন্ত্র আছে। বরং সেই সমাজ, যেখানে মানুষ তার বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রজ্ঞা, ন্যায়বোধ ও মানবিকতাকেও সমান গুরুত্ব দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও তাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির নাম—মানুষ।

  • ড. তাহসিনা ফারাহ সনম অধ্যাপক ও এআই গবেষক, ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি, বুয়েট।