দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সংবিধান অনুযায়ী শান্তিবাদের নীতিতে চলা জাপান এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় অকল্পনীয় ভূমিকা রাখছে। জাপান প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনা, বিদেশে সেনা মোতায়েনের চুক্তি, সামরিক মহড়ায় সরাসরি অংশ নেওয়া এবং মারণাস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে।
জাপানের বর্তমান কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই লাভজনক। টোকিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার মিত্রতা থেকে সরে আসছে না কিংবা সামরিক স্বায়ত্তশাসনও খুঁজছে না; বরং তারা ইন্দো-প্যাসিফিকে মার্কিন শক্তির স্থায়িত্ব বাড়াতে কাজ করছে।
চীনকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিত জাপানের এই সংস্কার ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করা। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ও ঝুঁকি দুই-ই অনেক কমে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে যথাযথ অগ্রাধিকার না দিয়ে এ সুযোগ নষ্ট করার ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান রক্ষা নিয়ে একটি মন্তব্য করার পর বেইজিং টোকিওর বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। তারা জাপানে ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজের সরবরাহ সংকুচিত করে এবং জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি স্থগিত করে।
তাকাইচির বক্তব্য মার্কিন নীতিমালার অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়নি। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে ওয়াশিংটন টোকিওকে জানায় যে ইরান যুদ্ধের কারণে দুই বছর আগে জাপানের কেনা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত হবে।
আপাতত জাপান এসব ঘটনা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ, ওয়াশিংটন ছাড়া টোকিওর হাতে আর কোনো উন্নত বিকল্প নেই। ওয়াশিংটনের উদাসীনতা ও টোকিওর প্রতি অবহেলা পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।
একক পাহারা
কয়েক দশক ধরে মার্কিন-জাপান জোটের ভিত্তি ছিল কাজের এক দ্বিপক্ষীয় বণ্টন: যুক্তরাষ্ট্র জাপানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে, আর জাপান তার জাতীয় শক্তি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে নিয়োজিত করবে। অসম হলেও এই সমঝোতা দুই পক্ষকেই সন্তুষ্ট করেছিল।
স্নায়যুদ্ধকালে এশিয়ায় সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর পাশাপাশি জাপানি সামরিকবাদের পুনরুত্থান রোধে আমেরিকা অঞ্চলে স্থায়ী অবস্থান পায়, আর ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পায় জাপান।
কিন্তু গত দুই দশকের একাধিক বাহ্যিক ধাক্কা জাপানি নেতাদের এই যুদ্ধোত্তর সমঝোতা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। ২০১০ সালে বিরোধপূর্ণ সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ (চীনে দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত) নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে বেইজিং টোকিওতে বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
এর মাধ্যমে চীন দেখিয়ে দেয় যে তারা সরবরাহশৃঙ্খলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত, যা টোকিওর দুর্বলতাকে প্রকাশ করে দেয়।
জাপানি নেতৃত্বও মার্কিন প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন আরও প্রমাণ করে যে পরাশক্তিগুলো জোর খাটিয়ে ভৌগোলিক সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে ইচ্ছুক।
একই বছর তৎকালীন মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর চীনের আগ্রাসী সামরিক মহড়া জাপানের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে তাইওয়ান প্রণালির সংঘাত এখন আর কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়। টোকিও ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে যে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্বার্থ রক্ষায় আরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন।
২০১৬ সাল থেকে জাপান ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশল অনুসরণ করছে, যার উদ্দেশ্য হলো ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে আইনের শাসন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং মুক্তবাণিজ্যের ভিত্তিতে সুসংগঠিত করা।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়াড জোট পুনরুজ্জীবিত করে, যা অবৈধ সামুদ্রিক গতিবিধি শনাক্তকরণ এবং সমুদ্রের তলদেশের কেব্ল সুরক্ষায় কাজ করছে।
২০২২ সাল থেকে জাপান অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সামরিক সমঝোতা চুক্তি সই করেছে, যা এক দেশের সামরিক বাহিনীকে অন্য দেশের ভূমিতে প্রশিক্ষণ ও অপারেশনের অনুমতি দেয়। এসব চুক্তি গভীর সামরিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে জাপান প্রথমবারের মতো মার্কিন-ফিলিপাইন যৌথ সামরিক মহড়ায় কমব্যাট ভূমিকায় অংশ নিতে সেনা পাঠায়।
জাপান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু ওয়াশিংটনের এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সমর্থন না পেলে মার্কিন-জাপান সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়বে, যা বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা মিত্রকে দূরে ঠেলে দেবে।
জাপান তাদের শিল্পশক্তিকেও নিরাপত্তা অংশীদারত্বে রূপান্তর করছে। তারা ইতালি ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ষষ্ঠ প্রজন্মের একটি যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরি করছে। ২০২৩ সালে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচি শুরু করে, যার মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালে টোকিও প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর বহু দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তাইওয়ানকেন্দ্রিক সংঘাত ঠেকাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ইঙ্গিত দিয়েছে জাপান।
গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, চীনের তাইওয়ান অবরোধ জাপানের জন্য একটি ‘অস্তিত্বের সংকটজনক পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে। জাপানের অধিকাংশ নাগরিক তাকাইচির এ বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।
কথার সঙ্গে কাজের মিল রেখে জাপান তাইওয়ানের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জে তাদের সামরিক অবকাঠামো আধুনিকীকরণ করেছে। ২০২৪ সালে জাপানের নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০০টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করে।
নিজস্ব সামরিক শক্তি বাড়িয়ে মার্কিন সক্ষমতার পরিপূরক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে জাপান এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বজায় রাখা ও চীনের আগ্রাসন রোধ করার লক্ষ্য রাখছে।
আমেরিকার উদাসীনতার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য জাপানের এই ঐতিহাসিক নীতিগত পরিবর্তনকে প্রকাশ্যে তেমন একটা উদ্যাপন করেনি; বরং এ অঞ্চলকে আশ্বস্ত করার মতো পদক্ষেপ নিতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। টোকিওতে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত করা এবং রণতরি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দিয়েছে বা বাতিল করেছে।
তারা তাইওয়ানের কাছে একটি বড় অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রেখেছে এবং ইরান যুদ্ধের কারণে তাইওয়ানের কেনা অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাপান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু ওয়াশিংটনের এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সমর্থন না পেলে মার্কিন-জাপান সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়বে, যা বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা মিত্রকে দূরে ঠেলে দেবে।
এক অনিশ্চিত টোকিওকে তখন অনেক সম্পর্ক নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। তারা মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী হলেও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারে।
তাদের উত্তর সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জাপান ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন কমিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আপস করতে পারে। খনিজ সম্পদের জন্য তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে পারে, এমনকি কম দামে ইরানি তেল কেনার পথও খুঁজতে পারে।
জাপান যদি বুঝতে পারে যে তারা আর মার্কিন পারমাণবিক সুরক্ষার ওপর ভরসা করতে পারছে না, তবে তারা নিজেরাও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে হাঁটতে পারে। চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া—সবার হাতেই বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে; ফলে পারমাণবিক চাপ থেকে বাঁচতে জাপান নিজেকেও পারমাণবিক শক্তিতে সমৃদ্ধ করতে বাধ্য মনে করবে।
একই সঙ্গে জাপান ব্যাপক প্রথাগত সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে হাত দেবে। যুক্তরাষ্ট্র পাশে নেই দেখে এবং জাপানের সামরিক শক্তি বাড়ার আগেই সুযোগ নিতে চীন পূর্ব চীন সাগরে তাদের দাবিগুলো জোর খাটিয়ে আদায় করতে চাইতে পারে, যা সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
জাপান যদি মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবস্থান সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ওয়াশিংটন এ অঞ্চলে তার সবচেয়ে সেরা সামরিক অবস্থানটি হারাবে। এতে ইন্দো-প্যাসিফিকে ক্ষমতা প্রদর্শন এবং গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত রাখার মার্কিন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে মার খাবে।
টোকিওর লাভ, ওয়াশিংটনের লাভ
যুক্তরাষ্ট্রের উচিত জাপানের এ আস্থাকে অবহেলা না করে তার যথাযথ মূল্যায়ন করা। ওয়াশিংটন এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে, যা জাপানকে এই কৌশলগত পথে থাকতে উৎসাহিত করবে, মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করবে এবং চীনকে স্পষ্ট বার্তা দেবে যে টোকিওর ওপর তাদের চাপ প্রয়োগ সফল হবে না।
চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী মার্কিন-জাপান জোট অপরিহার্য।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উন্নত প্রযুক্তির মারণাস্ত্র যৌথভাবে তৈরি করতে পারে। এটি যেমন ওয়াশিংটনের অস্ত্রঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে, তেমনি টোকিওর প্রতিরক্ষাশিল্পকেও চাঙা করবে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের সামরিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আরও নিবিড়ভাবে সমন্বিত করতে পারে। তারা জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমের দ্বীপগুলোকে সামরিক পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
কূটনৈতিক গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ও বাড়ানো যেতে পারে। অতীতে টোকিওর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভাব এবং সাইবার নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং সীমিত ছিল।
কিন্তু ২০২৬ সালে জাপান একটি ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল ও ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো গঠন করেছে এবং শীর্ষ গোপনীয় ক্লাউড অবকাঠামো তৈরিতে মার্কিন ফার্মগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সংকটপূর্ণ খনিজ ও ‘রেয়ার আর্থ’ উপাদানে চীনের আধিপত্য ওয়াশিংটন ও টোকিও উভয়ের জন্যই বড় দুর্বলতা।
দুই দেশের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলো যৌথভাবে একটি ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফান্ড’ গঠন করতে পারে, যা চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া শক্তি বা জ্বালানি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো যায়।
ডেভিড স্যাক্স কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের একজন ফেলো। নিক স্নাইডার হাডসন ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র ফেলো।
ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।